EN
  1. Home/
  2. সাহিত্য

ফরিদা ইয়াসমিন সুমির কবিতা

সাহিত্য ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০:০৮ এএম, ২১ জানুয়ারি ২০২১

এক.
‘ভালোবাসি‘ শব্দটি যথেষ্ট নয়

‘ভালোবাসি’ শব্দটি একদম যথেষ্ট নয়,
চলো, নূতন কোনো শব্দ আবিষ্কার করি
তাছাড়া কী করে বোঝাবো
বুকের ভেতরটা কেমন করে!
একটুখানি দূরে গেলেই দূরত্বটুকু বড্ড ভারী বোধ হয়,
প্রকৃতির রঙে, পাখির পালকে, ঘুমভাঙানি মিঠে রোদে এমনকি বাতাসের অক্সিজেনেও মিশে থাকো,
পাশে বসে থেকেও ভীষণরকম মিস করি তোমায়
ছুঁয়ে ছুঁয়ে থেকেও তোমাকে পাবার স্বপ্ন দেখে চলি!
নাহ,
এত ভালোবাসা বোঝাতে ‘ভালোবাসি’ শব্দটি মোটেও যথেষ্ট নয়,
চলো, নূতন একটি শব্দ আবিষ্কার করি!

দুই.
সে
সৌন্দর্যের ভেতরে হেঁটে যায়
প্রেমময় রাতের মতো।
শীতল অনুভব বুলিয়ে
পাহাড়ের ধারায়।
পতঙ্গে লেগে থাকা রেণুর মতো
পরাগায়ন ফুলে ফুলে!

সৌন্দর্যের গভীরে ঘুমিয়ে থাকে
প্রথম চুম্বনের স্মৃতির মতো।
ফুলের সৌরভ ছড়িয়ে
অরণ্যের বাঁকে।
নদীবুকে পড়ে থাকা চাঁদের মতো
প্রেমে ডুবে ডুবে!

সৌন্দর্যের মননে ভেসে থাকে
পানকৌড়ির সাঁতারের মতো।
দিগন্তের সীমা ছাড়িয়ে
অসীমের টানে।
আকাশের মেঘে থাকা জলের মতো
রংধনুর রঙে রঙে!

তিন.
দায়সারা
সাড়াগুলো সব দায়সারা হলে
হাজারো রং ফিকে হয়ে আসে
চেনা মেঘগুলো বর্ষা ঝরালে
প্রেমের বাঁধন ভাঙ্গনে ভাসে!
তুমি কি জানো,
কতটা গেলে রাস্তা ফুরোবে
কতটা মেঘের সমাবেশ হলে
চাঁদ লুকোবে!
আমি তো জানি
এক শ্রাবণে যায় না বর্ষা
কালির পোঁচে যায় না ঢাকা
চাঁদের ফর্সা!
প্রেমের বাসনা ছিঁটেফোঁটা হলে
লক্ষ আঁধার ঝাঁক বেঁধে আসে
চেনা পথগুলো বাঁক হারালে
নিয়তি নিয়ত মুচকি হাসে!

চার.
চলে যাচ্ছি...

পাবার ছিলো না কিছু
দেবারও কিছু নেই
শূন্যতাটুকু রেখে
চলে যাচ্ছি...
ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটস্অ্যাপ, ম্যাসেঞ্জার
কোথাও পাবে না
শুধু শূন্যতাটুকু রবে!
কৈশোরে বুকের কাছটায় কুঁচি দেয়া ধবধবে সাদা ফ্রকে
সবুজঘাসের দিগন্তে দাঁড়ানো একটি মেয়ের ছবিতে
‘অনলি দ্য লোনলি’ লেখা ভিউকার্ড সংগ্রহে ছিলো-
শূন্যতা -আলিঙ্গনে কী ভীষণ অহংকারী সে মুখখানি,
সমস্তদিন কতোশতবার যে ছবিটি দেখতাম ইয়ত্তা নেই!
লাবণ্য আর বিষণ্ণতা মিলেমিশে একাকার মুখটির
বিষণ্ণতাটুকুই কেন যেনো টেনেছিল বেশি!
সেই থেকে বিষণ্ণতার প্রেমে পড়া, শূন্যতা ধারণ করা...
প্রিয়তমের মতো, যখের ধনের মতো ভীষণ মায়ায়
আগলে রাখা, লালন করা,
আজ সে শূন্যতা অনেক অনেক অনেক বড়
কখনও কখনও নিজের চেয়েও আপন!
ভালোবাসার বিনিময়ে তোমাকে দেবার মতো আর
কোনো প্রিয় উপহার আমার জানা নেই,
চলে যাচ্ছি,
শূন্যতাটুকু রেখে
শূন্যতা-আলিঙ্গনে অহংকারী হবার সুযোগ দিয়ে...

পাঁচ.
রাত আসে কই

রাত কোথায়
এ-তো শুধু ঘুটঘুটে আঁধার,
দিন কোথায়
এ-তো মিথ্যে আলোর বেসাতি!
রাত মানে কামুক-প্রেমিক
আঁধারের অন্য মানে
দিন মানে সাহসী-পুরুষ
আলোর অন্য মানে!
প্রেমিক -পুরুষের পথ চেয়ে
কতো আলো, আঁধার হয়ে যায়
তবু রাত আসে কই?
মিথ্যে আলোর দোকান বসে
তবু দিন জাগে কই?
সব আঁধার রাত্রি আনে না
সব আলোয় দিবস জাগে না,
রাত্রিদিনের প্রতীক্ষায় কাটে অস্থির-প্রহর!

এইচআর/এমকেএইচ