জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশ
সেই খাসজমি ইজারা না দিতে বন্দর ও চসিককে জেলা প্রশাসনের চিঠি
কর্ণফুলী নদীর তীরে এমন নকশায় পার্ক ও খেলার মাঠ করার জন্য খাস জমি লিজ দিতে বিজ্ঞপ্তি দেয় সিটি করপোরেশন/প্রতীকী ছবি
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী তীরবর্তী সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত ৬ একরের একটি জমি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকায় সেই জমি লিজ বা ইজারা না দিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে (চসিক) চিঠি দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জাগো নিউজে এ সংক্রান্ত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত ৬ জানুয়ারি জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) শিফাত বিনতে আরার সই করা চিঠিতে এ অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চিঠিতে দেওয়ানি আদালতে মামলার চূড়ান্ত আদেশ না হওয়া পর্যন্ত নগরীর ফিরিঙ্গিবাজার মৌজার আরএস (রিভিশনাল সার্ভে) ৬০১, ২৪৬, ২৮০ দাগের অনুরূপ বিএস- ৭০১ দাগের ওই ৬ একর জমির বিষয়ে ইজারা বা লিজ দেওয়া সংক্রান্ত কোনো প্রকার কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে অনুরোধ করা হয়।
এর আগে ওই জমিটি আরএস অনুযায়ী নিজেদের দাবি করে সিটি করপোরেশনকে একসনা লিজ দিয়েছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ। পরে ওই জমির লিজ বিষয়ে চুক্তির আগেই আন্তর্জাতিকমানের আধুনিক থিম পার্ক ও খেলার মাঠ করার জন্য ২০ বছরের জন্য লিজ দিতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয় সিটি করপোরেশন।
এ নিয়ে গত ৪ জানুয়ারি ‘বন্দরের জমি একসনা ইজারা নিয়ে ২০ বছরের লিজ দিতে চায় চসিক’ শিরোনামে জাগো নিউজে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ওই সংবাদ প্রকাশের পর জায়গাটি নিয়ে নড়েচড়ে বসে জেলা প্রশাসন। একদিন পরই ৫ জানুয়ারি ওই জায়গাটির বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন দেয় নগরীর বাকলিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোনিয়া হক। এরই ধারাবাহিকতায় ৬ জানুয়ারি বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সিটি করপোরেশনকে চিঠি দেয় জেলা প্রশাসন।
আরও পড়ুন
বন্দরের জমি একসনা ইজারা নিয়ে ২০ বছরের লিজ দিতে চায় চসিক
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘বন্দর থানাধীন ফিরিঙ্গিবাজার মৌজার আরএস ৬০১, ২৪৬, ২৮০ দাগের রূপান্তরিত বিএস ৭০১ দাগের জমি বিএস ১নং খাস খতিয়ানে বাংলাদেশ সরকার পক্ষে ডেপুটি কমিশনার চট্টগ্রামের নামে বিএস রেকর্ড চূড়ান্ত প্রচারিত হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ আরএস খতিয়ান মূলে মালিকানা দাবি করে, সরকারের পক্ষে চট্টগ্রামের ডেপুটি কমিশনারকে বিবাদী করে প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে স্বত্ব ঘোষণার জন্য মামলা করে। মামলাটি স্থানান্তরিত হয়ে এল.এস.টি মামলা নং ৩৩৭১৪/২৪ হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং সরকারের পক্ষে পুনরায় লিখিত জবাব দিতে ২৩ এপ্রিল দিন ধার্য আছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ এর ১৪৪ (ক) অনুযায়ী সর্বশেষ প্রচারিত/মুদ্রিত রেকর্ড চূড়ান্ত সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে। যেহেতু চূড়ান্ত বিএস জরিপ অর্থাৎ বর্তমানে ওই জমির মালিক জেলা প্রশাসক এবং জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে, ফলে জমিটি ইজারা বা লিজ দেওয়ার মতো কোনো প্রকার কার্যক্রম নেওয়া আদালত অবমাননার শামিল।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত জাগো নিউজকে বলেন, বন্দর, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসন প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই সরকারি। জায়গাটির স্বত্ব নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। এরমধ্যে জায়গাটির হস্তান্তর, অপদখল আদালত অবমাননার শামিল। তাই আদালতের চূড়ান্ত আদেশ না হওয়া পর্যন্ত জায়গাটি নিয়ে লিজসহ অন্য কোনো কার্যক্রম না করার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্দর ও সিটি করপোরেশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এই জমি লিজ দেওয়ার বিষয়টিকে একেবারে ‘হাস্যকর ও বেআইনি’ দাবি করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবীর চৌধুরী।
তিনি জাগো নিউজকে বলেন, বন্দর ও সিটি করপোরেশন দুটিই সরকারি প্রতিষ্ঠান। আইন ও বিধি মানার ক্ষেত্রে তাদের দায় সাধারণ নাগরিকের চেয়ে বেশি। প্রতিষ্ঠান যেমন সরকারি, জায়গাও সরকারি। এখানে চরদখলের মতো জায়গা দখলের ব্যাপার থাকতে পারে না।
আখতার কবীর চৌধুরী বলেন, সিটি করপোরেশন বলি আর বন্দর বলি, তারা নৈরাজ্যকর সংস্কৃতির ধারক বাহক। তারা আইনকে তোয়াক্কা করে না। বন্দরের সম্পত্তি বন্দর চেয়ারম্যান কিংবা কর্মকর্তারা, সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি তাদের কর্মকর্তারা নিজেদের সম্পত্তি মনে করছেন। তারা আইন মানছেন না।
এমডিআইএইচ/এমকেআর/এএসএম