ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

এক বছরে ধর্ষণ বেড়েছে ৫২ শতাংশ, জানুয়ারিতেই সহিংসতার শিকার ২৭২ নারী

কূটনৈতিক প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৮:৪৭ পিএম, ০৫ মার্চ ২০২৬

দেশে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে ৫২ দশমিক ৩ শতাংশ। এছাড়া ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেই অন্তত ২৭২ জন নারী ও কন্যাশিশু সহিংসতার শিকার হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৭০ জন ধর্ষণের শিকার।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাজধানীর এক হোটেলে আয়োজিত বিশেষ সংলাপ ও সম্মাননা অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের উইমেন রাইটস অ্যান্ড জেন্ডার ইক্যুইটি টিম লিড মরিয়ম নেসা এসব তথ্য তুলে ধরেন।

বিভিন্ন গবেষণা ও জরিপের তথ্য উপস্থাপন করে তিনি জানান, দেশের ৩৯ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠিত হয়নি, যা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার উদাহরণ।

আরও পড়ুন
মাতৃত্ব-পরিবারের দায়িত্ব পালনে চাকরি ছাড়ছেন নারীরা, কাজে ফেরাতে উদ্যোগ 
নারী-শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে, কী ভাবছে এই প্রজন্ম? 

সংলাপে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থীর হার নেমে এসেছে মাত্র ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশে, যা গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এবারের নির্বাচনে ৭ জন নারী নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই সংখ্যক নারী নির্বাচিত হয়েছিলেন।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ ও দৈনিক প্রথম আলোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া নারী প্রার্থীদের সম্মাননা দেওয়া হয়। এবারের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য ছিল ‘গিভ টু গেইন’ (পারস্পরিক সংহতি ও নেতৃত্বে বিনিয়োগ) এবং জাতীয় প্রতিপাদ্য ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার- সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’।

সংলাপে উপস্থিত নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রয়োগ, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সব পর্যায়ে নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার সুপারিশ করেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল নাট্য সংগঠন ‘পালাকার’-এর পরিবেশনায় ইন্টারেক্টিভ ফোরাম থিয়েটার ‘চেনা পরবাস’। অভিনয়ের মাধ্যমে বাল্যবিয়ে, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি এবং নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের প্রতিকূলতার চিত্র তুলে ধরা হয়। নাটকটির প্রতিটি দৃশ্য শেষে উপস্থিত নারী অধিকারকর্মী, বিশেষজ্ঞ, নারী প্রার্থী ও নীতিনির্ধারকরা সরাসরি সংলাপে অংশ নেন। এতে সমস্যার চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি সমাধানের পথ নিয়েও আলোচনা হয়।

jagonews24.com

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির এবং সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনের সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাডভাইজার তাহেরা জাবীন, ইউএনডিপি বাংলাদেশের সিনিয়র জেন্ডার অ্যানালিস্ট শারমিন ইসলাম, জাগো ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা করভি রাখসান্দ এবং জাতীয় রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের সাদাফ।

নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- গণঅধিকার পরিষদের মেঘনা আলম, গণসংহতি আন্দোলনের তাসলিমা আক্তার, স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানী, বাসদের (মার্কসবাদী) সীমা দত্ত, এবি পার্টির ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের আরিফা আক্তার বেবি প্রমুখ।

জেপিআই/কেএসআর