বন্দরের জমি একসনা ইজারা নিয়ে ২০ বছরের লিজ দিতে চায় চসিক
দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন খ্যাত কর্ণফুলী নদী পাড়ে বন্দরের ছয় একর জমি একসনা (এক বছরের জন্য) ইজারা নিয়ে ২০ বছরের জন্য লিজ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। ইতোমধ্যে আগ্রহীদের কাছ থেকে প্রস্তাবনা চেয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে নগরের অভিভাবক প্রতিষ্ঠানটি। জমিতে নিজেদের খরচে আধুনিক থিম পার্ক বানাতে হবে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে।
জায়গাটির মালিকানা নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বন্দরের বিরোধ রয়েছে আগে থেকেই। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, জায়গাটি বরাদ্দ দেওয়ার সাত মাস পার হলেও এখনো বন্দরের সঙ্গে চুক্তি করেনি সিটি করপোরেশন। সিটি করপোরেশনের দাবি, নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পরেও জায়গাটি নির্ধারিত সময়ে বুঝিয়ে দিতে পারেনি বন্দর। বিষয়টি নিয়ে আইনিভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। আইনবিদরা বলছেন- পুরো কার্যক্রমটি বেআইনি।
জাগো নিউজের হাতে আসা জায়গাটি বরাদ্দের বিষয়ে সিটি করপোরেশনের আবেদনের চিঠি ও বন্দর পর্ষদের নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জায়গাটি বরাদ্দ নিতে এবং দিতে কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান দুটি। জায়গাটি সুনির্দিষ্ট কোন কাজে ব্যবহার করা হবে, তা আবেদনে উল্লেখ করেনি সিটি করপোরেশন। আবার জায়গাটি কী কাজে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, বন্দরও তেমন কোনো শর্ত দেয়নি। অন্যদিকে, জায়গাটি আরএস (রিভিশনাল সার্ভে) খতিয়ানে বন্দরের মালিকানা থাকলেও বিএস (বাংলাদেশ সার্ভে) খতিয়ানে তা জেলা প্রশাসনের খাস খতিয়ানভুক্ত।
জায়গাটি একসনা লিজ পেয়েছি এটা সত্য। কিন্তু মৌখিকভাবে ২০ বছরের কথা হয়েছে। বিশেষ করে সাবেক জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম ও আমাদের মেয়র মহোদয় জায়গাটি নেওয়ার জন্য আলোচনাও করেছেন।-চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামাল
বন্দর সূত্রে জানা যায়, নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন ফিরিঙ্গি বাজার মৌজার আরএস ৬০১ দাগে বন্দরের ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের দুটি ‘এ’ ও ‘বি’ নামে দুটি ব্লকে ৬ দশমিক ২৪ একর জায়গাটি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হিসেবে ১০ বছর ব্যবহারের জন্য ইজারা বিজ্ঞপ্তি দেয় বন্দর। ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশিত হয়। পরবর্তীসময়ে দরপত্রটি প্রত্যাহারের জন্য মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’র পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের জ্যৈষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ উচ্চ আদালতে কনটেম্প পিটিশন দায়ের করেন। এরপর বন্দর কর্তৃপক্ষের দরপত্র স্থগিত হয়ে যায়।
এরপর ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি আরএস খতিয়ানের ৬০১ দাগের ৬ একর জমি বরাদ্দ পেতে বন্দর চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এতে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম শহরে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ, পার্ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় শিশু-কিশোর ও বয়ঃবৃদ্ধদের সুস্থ বিনোদন এবং জ্ঞান বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন প্রত্যেক ওয়ার্ডে একটি করে খেলার মাঠ তৈরি, শহরে কয়েকটি শিশুপার্ক এবং যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অপ্রতুল সেখানে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বন্দরের মালিকানাধীন ফিরিঙ্গি বাজার মৌজার আরএস ৬০১ দাগের ৬ একর জমি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন অনুকূলে বরাদ্দ দিলে তাতে জনসাধারণের জন্য আধুনিক দৃষ্টিনন্দন পার্ক, খেলার মাঠ, নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করবে।
আরও পড়ুন
রোজার আগেই চিনির বাজারে সক্রিয় সিন্ডিকেট, বাড়ছে দাম
অবলুপ্তির ৪৭ বছর পর মহালক্ষ্মী ব্যাংকের সম্পদ নিলামে
তৈরি হচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নতুন বাস টার্মিনাল
অভিজ্ঞতা নেই, তবুও ১৫ বছর এসপিএম অপারেশনে আগ্রহী শিপিং করপোরেশন
এর পরিপ্রেক্ষিতে বন্দর জায়গাটি সিটি করপোরেশনকে বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২৫ সালের ৪ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দর পর্ষদের নথি নম্বর- ১৮.০৪.০০০০.৫০০.৩৫.০০৩.২৫ এজেন্ডার সারসংক্ষেপে ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’র দায়ের করা কনটেম্প পিটিশন মামলা উচ্চ আদালতে চলমান এবং জায়গাটি নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আদালতে অপর মামলা নম্বর-১৭৮/২০২৩ বিচারাধীন বলে উল্লেখ করা হয়।
কিছু কর্মকর্তা যে যখন যিনি আসেন, কর্ণফুলী নদীকে তারা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়েছেন। নদীকে বিক্রি করে কীভাবে অর্থ আদায় করা যাবে, দীর্ঘদিন থেকে তারা এই কর্মকাণ্ড করে আসছেন। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। কিন্তু আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।- আইনজীবী মনজিল মোরসেদ
জায়গাটি বরাদ্দের ক্ষেত্রে ‘আইন উপদেষ্টা কিংবা আইন কর্মকর্তার মতামত: প্রযোজ্য নয়’ উল্লেখ করে শুধু নির্বাহী বিভাগের প্রস্তাব ও সুপারিশে জায়গাটি সিটি করপোরেশনকে একসনা বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত (নম্বর- ১৯৩৯৯) নেয় বন্দর পর্ষদ। সুপারিশে ‘বন্দর কর্তৃপক্ষের নতুন ভাড়া নির্ধারিত হলে বর্ধিত হারে ভাড়া দিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বাধ্য থাকবে’ এমন একটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। বন্দর সচিব, বোর্ডের সদস্য (হারবার ও মেরিন), সদস্য (প্রকৌশল), সদস্য (অর্থ), সদস্য (অ্যাডমিন অ্যান্ড প্ল্যানিং) এবং চেয়ারম্যান মিলে ওই সিদ্ধান্তে সই করেন।
এরপর ২ লাখ ৬১ হাজার ৩৬০ বর্গফুটের জায়গাটি বরাদ্দে বার্ষিক প্রতি বর্গফুট ৩২ টাকা হারে ২০২৫ সালের ভাড়া বাবদ ৮৩ লাখ ৬৩ হাজার ৫২০ টাকা এবং এক বছরের ভাড়া সমপরিমাণ জামানত হিসেবে ৮৩ লাখ ৬৩ হাজার ৫২০ টাকাসহ বন্দর বরাবর জমা দেওয়া এবং ভাড়ার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট হিসেবে ১২ লাখ ৫৪ হাজার ৫২৮ টাকা টিআর চালানমূলে সরাসরি ব্যাংকে জমা দিতে ১৮ মার্চ চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি দেন বন্দরের সদস্য (প্রকৌশল) কমডোর কাওছার রশিদ। চিঠি প্রাপ্তির ১০ দিনের মধ্যে এ টাকা জমা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। ১৬ মার্চ চিঠিটি রিসিভ করে সিটি করপোরেশন।
বন্দর ও সিটি করপোরেশনের ভাষ্যমতে, এখনো দুই পক্ষের চুক্তি না হলেও এর মধ্যে জায়গাটিতে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক থিম পার্ক নির্মাণের কথা উল্লেখ করে নিজ খরচে তৈরি করে ২০ বছরের জন্য লিজ গ্রহণে আগ্রহী অভিজ্ঞ পার্ক পরিচালনাকারীদের কাছ থেকে দুই খাম বিশিষ্ট আর্থিক ও কারিগরি প্রস্তাব আহ্বান করে সিটি করপোরেশন। প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে কোনো প্রস্তাব না পাওয়ায় ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর পত্রিকায় দ্বিতীয়বার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে সই করেন সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এসএম সরওয়ার কামাল। প্রস্তাবের সঙ্গে দুই কোটি টাকা জামানত হিসেবে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়।
যেহেতু বন্দর এবং সিটি করপোরেশন দুটিই সরকারি প্রতিষ্ঠান, তাই বিষয়টি তদন্ত করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাকলিয়া সার্কেলকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।- চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত
তবে সিটি করপোরেশনের রাজস্ব শাখার তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে চিঠি পেলেও বন্দরকে আগস্ট মাসে তাদের পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে। ডিসেম্বর মাসে জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বন্দরকে চিঠি দিয়েছে সিটি করপোরেশন। এ বিষয়ে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও সরকারের উপসচিব এস এম সরওয়ার কামাল জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা ফিরিঙ্গি বাজার মৌজার কর্ণফুলী পাড়ের ৬ একর জায়গায় একটি আধুনিক থিম পার্ক করার পরিকল্পনা নিয়েছি। বেসরকারি পর্যায়ে অভিজ্ঞ আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে। মূলত শহরে ভালো কোনো পার্ক নেই। সে বিষয়টি থেকেই আমরা কর্ণফুলী নদীর পাড়ে পার্ক করতে পদক্ষেপ নিয়েছি।’
মার্চে বরাদ্দ হলেও এখনো চুক্তি না করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বন্দরের এক বছরের পাওনা আমরা আগস্ট মাসে পরিশোধ করে দিয়েছি। চুক্তির ডকুমেন্ট বন্দর কর্তৃপক্ষ তৈরি করেছে। কয়েকদিনের মধ্যে চুক্তি সই হয়ে যাবে।’
একসনা লিজ বরাদ্দ নিয়ে ২০ বছরের ইজারা দেওয়ার পদক্ষেপের বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন। বলেন, ‘জায়গাটি একসনা লিজ পেয়েছি এটা সত্য। কিন্তু মৌখিকভাবে ২০ বছরের কথা হয়েছে। বিশেষ করে সাবেক জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম ও আমাদের মেয়র মহোদয় জায়গাটি নেওয়ার জন্য আলোচনাও করেছেন।’
উচ্চ আদালতে মামলার বিষয়ে ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’র সভাপতি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘কর্ণফুলী নদীর পাড়ে পার্ক করার বিরুদ্ধে আমরা ইতোমধ্যে একটি রিটও ফাইল করছি। কর্ণফুলী নদী হত্যার অন্যতম মূলহোতা হলো চট্টগ্রাম বন্দর। কর্ণফুলী নদীকে রক্ষা ও চলমান রাখার জন্য বন্দরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কিছু কর্মকর্তা যে যখন যিনি আসেন, কর্ণফুলী নদীকে তারা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়েছেন। নদীকে বিক্রি করে কীভাবে অর্থ আদায় করা যাবে, দীর্ঘদিন থেকে তারা এই কর্মকাণ্ড করে আসছেন। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। কিন্তু আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।’
আমরা সিটি করপোরেশনকে একসনা লিজ দিয়েছি। সিটি করপোরেশনও কারও কাছে একসনা দিতে পারে। কিন্তু ২০ বছর কীভাবে লিজ দিচ্ছে, সেটা তারা বলতে পারবে।- চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন্দরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ফিরিঙ্গি বাজার মৌজার ৬ একরের ওই জমিটি আরএস খতিয়ানে বন্দর মালিক হলেও বিএস জরিপে জায়গাটি খাস খতিয়ানভুক্ত হয়ে যায়। খতিয়ান সংশোধনের জন্য বন্দরের পক্ষ থেকে আদালতে করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত জাগো নিউজকে বলেন, ‘যেহেতু বন্দর এবং সিটি করপোরেশন দুটিই সরকারি প্রতিষ্ঠান, তাই বিষয়টি তদন্ত করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাকলিয়া সার্কেলকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।’
একসনা লিজ নিয়ে ২০ বছরের লিজ দেওয়ার বিষয়টি একেবারে হাস্যকর ও বেআইনি দাবি করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবীর চৌধুরী। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘বন্দর ও সিটি করপোরেশন দুটিই সরকারি প্রতিষ্ঠান। আইন ও বিধি মানার ক্ষেত্রে তাদের দায় সাধারণ নাগরিকের চেয়ে বেশি। প্রতিষ্ঠান যেমন সরকারি, জায়গাও সরকারি। এখানে চর দখলের মতো জায়গা দখলের ব্যাপার থাকতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন বলি আর বন্দর বলি, তারা নৈরাজ্যকর সংস্কৃতির ধারক-বাহক। তারা আইনকে তোয়াক্কা করে না। বন্দরের সম্পত্তি বন্দরের চেয়ারম্যান কিংবা কর্মকর্তারা, সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি তাদের কর্মকর্তারা নিজেদের সম্পত্তি মনে করছে। নাগরিকের প্রতিষ্ঠান হয়েও তারা আইন মানছে না।’
বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানালেন চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা সিটি করপোরেশনকে একসনা লিজ দিয়েছি। সিটি করপোরেশনও কারও কাছে একসনা দিতে পারে। কিন্তু ২০ বছর কীভাবে লিজ দিচ্ছে, সেটা তারা বলতে পারবে।’
এমডিআইএইচ/এএসএ/জেআইএম