ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

প্রথমে দড়ি পেঁচিয়ে, পরে গলা কেটে নিলিকে হত্যা করেন মিলন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৫:৪২ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০২৬

রাজধানীর বনশ্রীতে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার নিলিকে (১৮) হত্যা করেন তার বাবার হোটেলের কর্মচারী মো. মিলন মল্লিক। অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওই তরুণীকে প্রথমে দড়ি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ ও পরে গলা কেটে খুন করেন।

মিলনকে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন। তিনি সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন ও জড়িতকে গ্রেফতারে র‍্যাব তাৎক্ষণিকভাবে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঘটনার দিন (গত শনিবার) দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটে হোটেল কর্মচারী মিলন ওই বাসায় প্রবেশ করেন এবং ১টা ৪১ মিনিটে নিলির বড় বোন শোভা আক্তারের সঙ্গে বের হয়ে যান। পরে নিলির বোন জিমে চলে গেলে দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে মিলন পুনরায় একা ওই বাসায় প্রবেশ করেন এবং প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান শেষে ২টা ৪৫ মিনিটে বের হয়ে যান।

প্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব জানতে পারে, ঘটনার পর মিলন বাগেরহাটে পালিয়ে গেছেন। এরপর র‍্যাব-৩ ও র‍্যাব-৬ এর যৌথ দল বাগেরহাট সদর উপজেলার সিংগা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিলিকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার আগের রাতেও খাবার দিতে গিয়ে একই প্রস্তাব দিলে নিলি তাকে বকাঝকা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

আরও পড়ুন
অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্কুলছাত্রীকে খুন করেন হোটেলকর্মী
বনশ্রীতে কিশোরীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল বলেন, ঘটনার দিন মিলন পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী নাইলনের দড়ি নিয়ে নিলিদের বাসায় যান। একপর্যায়ে অনৈতিক প্রস্তাবে আবারও রাজি না হলে দড়ি দিয়ে ওই তরুণীর গলা চেপে ধরেন। এতে তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন জড়ো হওয়ার আশঙ্কায় রান্নাঘরে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করেন। হত্যার পর বাসার আসবাব তল্লাশি করে কিছু নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যান মিলন।

গ্রেফতার অভিযানে মিলনের কাছ থেকে ঘটনার সময় পরিহিত কালো প্যান্ট ও নীল গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত অস্ত্র ও নাইলনের দড়ি উদ্ধার করে পুলিশ।

র‍্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা সহযোগী রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেফতার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

টিটি/একিউএফ/এএসএম