ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বাড়ছে ৫ হাজার টাকা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৯:৫৩ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভাতা ও সহায়তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক ভাতার হার পাঁচ হাজার টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ৩২তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে এ বর্ধিত ভাতা কার্যকর হবে। একই সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য মাসিক সম্মানি ভাতা চালুর বিষয়েও সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া সভায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা, প্রতিবন্ধী, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী, গুরুতর রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, মা ও শিশু, জেলে ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির উপকারভোগীদের ভাতা ও সহায়তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বয়স্ক ভাতা কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ বৃদ্ধি করে ৬২ লাখ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার বয়স্ক ব্যক্তি মাসিক ৬৫০ টাকার পরিবর্তে ৭০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন। পাশাপাশি ৯০ বছর ঊর্ধ্ব ২ লাখ ৫ হাজার বয়স্ক ব্যক্তি মাসিক ১ হাজার টাকা হারে ভাতা পাবেন।

একই মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা কার্যক্রমে মোট ২৯ লাখ উপকারভোগীর মধ্যে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার জন মাসিক ৭০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন। এছাড়া ৯০ বছর ঊর্ধ্ব ২৫ হাজার বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মাসিক ১ হাজার টাকা হারে ভাতা পাবেন।

প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রমে ৩৬ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মধ্যে ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ৯০০ জন মাসিক ৯০০ টাকা এবং ১৮ হাজার ১০০ জন মাসিক ১ হাজার টাকা হারে ভাতা পাবেন। চলতি অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ৩৪ লাখ ৫০ হাজার।

পাশাপাশি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বৃত্তির মাসিক হার ৫০ টাকা বৃদ্ধি করে প্রাথমিকে ৯৫০ টাকা, মাধ্যমিকে ১ হাজার টাকা, উচ্চ মাধ্যমিকে ১ হাজার ১০০ টাকা এবং উচ্চতর স্তরে ১ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত আর এক কর্মসূচি অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা ৭ হাজার বৃদ্ধি করে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩৮৯ জনে উন্নীত করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় মাসিক ভাতার হার ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পাশাপাশি অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও মেধাবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ হাজার ১৯৮ জন বাড়িয়ে ৪৫ হাজার ৩৩৮ জনে উন্নীত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বৃত্তির মাসিক হার প্রাথমিকে ৭০০ টাকা, মাধ্যমিকে ৮০০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিকে ১ হাজার টাকা এবং উচ্চতর স্তরে ১ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ৫ হাজার ৪৯০ জন অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সদস্যকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা ৫ হাজার বৃদ্ধি করে ৬৫ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এককালীন চিকিৎসা সহায়তার পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার বৃদ্ধি করে ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ জনে উন্নীত করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় একজন মা মাসিক ৮৫০ টাকা হারে ভাতা পাবেন।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে সুবিধাভোগী পরিবারের সংখ্যা ৫ লাখ বৃদ্ধি করে ৬০ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতি পরিবার মাসে ৩০ কেজি করে চাল ১৫ টাকা কেজি দরে মোট ৬ মাস পাবে।

সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের মাসিক সম্মানি ভাতা এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ভিজিএফ কার্যক্রমকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন করে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ জন জেলেকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ১৫ লাখ জেলেকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

এমএএস/এমকেআর