ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

দেশের সব ভোট একত্র করে গণভোটের ফলাফল নির্ধারণ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৯:৩১ পিএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট পেপার আলাদা হলেও ভোট দিয়ে জমা দিতে হবে একই বাক্সে। গণভোটের জন্য থাকবে গোলাপি রঙের ব্যালট। আর সংসদ নির্বাচনের জন্য আগের মতোই হবে সাদা রঙের ব্যালট।

দেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দুটি ভোটই দিতে হবে সিল দিয়ে। তবে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে ব্যবহার করতে হবে টিক বা ক্রস চিহ্ন। দেশের ৩০০ আসনের প্রতিটি গণভোটের ফলাফল নির্বাচন কমিশনে (ইসি) পাঠাবেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা। এর পর ইসি সব ফল একত্র করে প্রকাশ করবে। তাতে কত ভোট পড়েছে, এর মধ্যে কত ‘হ্যাঁ’, কত ‘না’- সবকিছু জানা যাবে। জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলের পাশাপাশি এই ফল প্রকাশ করবে ইসি।

কমিশনের এক ঊর্ধতন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আলাদা। গণভোটের রেজাল্ট জাতীয় নির্বাচনে মতো আসনভিত্তিক দেওয়া হবে। তারপর ৩০০ আসন এক করে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’-এর রেজাল্ট দেওয়া হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তারা ইসিতে রেজাল্ট পাঠাবেন। তখন ইসি থেকে আসনভিত্তিক জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের রেজাল্ট প্রকাশ করবে। দেশের সমস্ত গণভোট এক করে রেজাল্ট দেওয়া হবে।’

গণভোট দেবেন যেভাবে
ভোটারদের সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপারের সঙ্গে গণভোটের একটি ব্যালট পেপার সরবরাহ করা হবে। গণভোটের ব্যালট পেপারে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-তে সিল দিয়ে ব্যালট পেপার ভাঁজ করে নির্ধারিত বাক্সে ফেলতে হবে।

পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে পেপারে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর পাশে ফাঁকা ঘরে টিক বা ক্রস চিহ্ন দিয়ে ভোট দিতে হবে।

গণভোটের বিষয়
জনগণের মতামত গ্রহণের জন্য গণভোটের ব্যালট পেপারে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ চারটি প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এসব প্রশ্নের বিপরীতে ভোটারদের কাছে কেবল একটি ঘরে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট চাওয়া হয়েছে।

ব্যালট পেপারটি এমন-
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবসমূহের প্রতি আপনার সম্মতি আছে?: (হ্যাঁ/না)

(ক) নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।

(খ) আগামী জাতীয় সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।

(গ) সংসদে নারী প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল হতে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ তফসিলে বর্ণিত যে ৩০টি বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য হয়েছে- সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য থাকবে।

(ঘ) জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অপরাপর সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।

ভোটগ্রহণের দায়িত্ব
গণভোট অধ্যাদেশ জারি হলেও কোনো বিধিমালা করা হয়নি। এক্ষেত্রে ভোটদান থেকে ফল প্রকাশের সব ধাপ তুলে ধরা হয়েছে গণভোট সংক্রান্ত পরিপত্রে।

সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন যাদের রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ করেছে, তারাই গণভোটেরও দায়িত্ব পালন করবেন।

একইভাবে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার রয়েছেন; তারাই থাকবেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার দায়িত্বে।

এবার ভোটার প্রায় পৌনে ১৩ কোটি। ফলে ব্যালট পেপার লাগবে দ্বিগুণ। ভোটার সংখ্যার সমানসংখ্যক ব্যালট পেপার সংসদ ও গণভোটের জন্য মুদ্রণ করা হবে।

ভোটগ্রহণ একসঙ্গে, আলাদা গণনা
পরিপত্রে বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রিজাইডিং অফিসার ভোটকেন্দ্রে বা পোস্টাল ভোটের গণনা কেন্দ্রে সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের পক্ষে নিয়োজিত এজেন্টদের উপস্থিতিতে (যদি থাকে) প্রতিটি ব্যালট বাক্স খুলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট ও গণভোটের ব্যালট আলাদা করবেন।

এরপর সংসদ নির্বাচনের ব্যালটগুলো প্রার্থীভিত্তিক এবং গণভোটের হ্যাঁ-সূচক ও না-সূচক ব্যালট পেপার আলাদা করে গণনা করা হবে। পরে রিটার্নিং অফিসারের প্রস্তুত করা ফলাফলের বিবরণী কমিশনের কাছে দাখিল করা হবে। কমিশন চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা এবং তা সরকারি গেজেটে প্রকাশ করবে।

এমওএস/একিউএফ