পাকিস্তানে পাচার সেই ৫ নারী দেশে ফিরলেন
পাকিস্তানে পাচার ও হারিয়ে যাওয়া পাঁচ নারী দেশে ফিরেছেন, ছবি: সংগৃহীত
মুক্তিযুদ্ধের আগে ও পরে পাকিস্তানে পাচার ও হারিয়ে যাওয়া পাঁচজন নারী দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভোরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ‘কৈশোরে পাকিস্তানে পাচার, বৃদ্ধ হয়ে দেশে ফিরছেন পাঁচ নারী’ শিরোনামে জাগো নিউজে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
ওই নারীদের বাংলাদেশে ফেরাতে সহযোগিতা করছে মানবাধিকার সংগঠন ‘খোঁজ’। সংগঠনটির সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৭১ সালের আগে ও পরে ওই নারীরা পাকিস্তানে পাচার এবং হারিয়ে গিয়েছিলেন। পাকিস্তানের এক মানবাধিকার কর্মীর সহযোগিতায় তাদের খুঁজে বের করা হয়েছে। পাঁচ নারী হলেন, মনোয়ারা খাতুন, রাবেয়া বিবি, জায়েদা, হাজেরা ও আমেনা।
তাদের গ্রামের বাড়ি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায়। বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে পাচার ও হারিয়ে যাওয়ার সময় তাদের বয়স ছিল ১২ থেকে ১৬ বছর। এখন তাদের প্রায় সবাই বয়োজ্যেষ্ঠ বা বৃদ্ধ। এ দীর্ঘ সময় তারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। যোগাযোগের কোনো মাধ্যম ছিল না। পাসপোর্ট না থাকাসহ নানা জটিলতায় দেশে ফিরতে পারেননি তারা। অবশেষে আজ ভোরে বিমানবন্দরে ওই নারীদের স্বাগত জানিয়েছেন তাদের স্বজনেরা।
খোঁজ’র সদস্যরা জানান, পাকিস্তানের মানবাধিকার কর্মী ওলিউল্লাহ মারুফের মাধ্যমে ওই পাঁচ নারীকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়েছে। ওলিউল্লাহ মারুফ এমন পাচার ও হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের খুঁজে বের করেন। তারপর তাদের ভিডিও করেন। ওই ভিডিওতে ভুক্তভোগীদের নাম-ঠিকানা থাকে। তখন জেলা, উপজেলা, স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে তাদের পরিবারদের খুঁজে বের করা হয়।
ভোলার লালমোহন উপজেলার মনোয়ারা খাতুন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে হারিয়ে যান তিনি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি স্বজনেরা। অবশেষে সেই মনোয়ারার খোঁজ মিলেছে। তবে তার বর্তমান অবস্থান দেশের কোনো অঞ্চলে নয়, তিনি থাকেন সুদূর পাকিস্তানে। বর্তমানে তিনি ৬৫ বছরের বৃদ্ধা। পাকিস্তানেই বিয়ে করে থিতু হয়েছিলেন তিনি। সেখানে তার পরিবারে আছে দুই ছেলে। আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সেই মনোয়ারা দেশে ফিরছেন। দীর্ঘদিন পর মনোয়ারার ফেরার খবরে আনন্দের বন্যা বইছে বাংলাদেশে থাকা তার স্বজনদের মধ্যে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ‘কৈশোরে পাকিস্তানে পাচার, বৃদ্ধ হয়ে দেশে ফিরছেন পাঁচ নারী’ শিরোনামে জাগো নিউজে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
ওই নারীদের বাংলাদেশে ফেরাতে সহযোগিতা করছে মানবাধিকার সংগঠন ‘খোঁজ’। সংগঠনটির সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৭১ সালের আগে ও পরে ওই নারীরা পাকিস্তানে পাচার এবং হারিয়ে গিয়েছিলেন। পাকিস্তানের এক মানবাধিকার কর্মীর সহযোগিতায় তাদের খুঁজে বের করা হয়েছে। পাঁচ নারী হলেন, মনোয়ারা খাতুন, রাবেয়া বিবি, জায়েদা, হাজেরা ও আমেনা।
তাদের গ্রামের বাড়ি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায়। বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে পাচার ও হারিয়ে যাওয়ার সময় তাদের বয়স ছিল ১২ থেকে ১৬ বছর। এখন তাদের প্রায় সবাই বয়োজ্যেষ্ঠ বা বৃদ্ধ। এ দীর্ঘ সময় তারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। যোগাযোগের কোনো মাধ্যম ছিল না। পাসপোর্ট না থাকাসহ নানা জটিলতায় দেশে ফিরতে পারেননি তারা। অবশেষে আজ ভোরে বিমানবন্দরে ওই নারীদের স্বাগত জানিয়েছেন তাদের স্বজনেরা।
খোঁজ’র সদস্যরা জানান, পাকিস্তানের মানবাধিকার কর্মী ওলিউল্লাহ মারুফের মাধ্যমে ওই পাঁচ নারীকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়েছে। ওলিউল্লাহ মারুফ এমন পাচার ও হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের খুঁজে বের করেন। তারপর তাদের ভিডিও করেন। ওই ভিডিওতে ভুক্তভোগীদের নাম-ঠিকানা থাকে। তখন জেলা, উপজেলা, স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে তাদের পরিবারদের খুঁজে বের করা হয়।
ভোলার লালমোহন উপজেলার মনোয়ারা খাতুন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে হারিয়ে যান তিনি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি স্বজনেরা। অবশেষে সেই মনোয়ারার খোঁজ মিলেছে। তবে তার বর্তমান অবস্থান দেশের কোনো অঞ্চলে নয়, তিনি থাকেন সুদূর পাকিস্তানে। বর্তমানে তিনি ৬৫ বছরের বৃদ্ধা। পাকিস্তানেই বিয়ে করে থিতু হয়েছিলেন তিনি। সেখানে তার পরিবারে আছে দুই ছেলে। আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সেই মনোয়ারা দেশে ফিরছেন। দীর্ঘদিন পর মনোয়ারার ফেরার খবরে আনন্দের বন্যা বইছে বাংলাদেশে থাকা তার স্বজনদের মধ্যে।
আরও পড়ুন:
কৈশোরে পাকিস্তানে পাচার, বৃদ্ধা হয়ে দেশে ফিরছেন পাঁচ নারী
মনোয়ারা খাতুনের ভাই মো. জামাল জাগো নিউজকে বলেন, যুদ্ধের আগে মনোয়ারা খাতুন হারিয়ে যান। কিন্তু কীভাবে হারিয়ে যান তা জানা নেই। তিনি বলেন, মনোয়ারা পাকিস্তানে বিয়ে করেছে। তার দুই ছেলে আছে। এর মধ্যে এক ছেলে মো. হাবিব বাংলাদেশে বেড়াতে আসছেন।
রাবেয়া বিবির গ্রামের বাড়ি রংপুরের কোতোয়ালিতে। এখন তার বয়স প্রায় ৭০ বছর। তিনিও স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানে হারিয়ে যান। রাবেয়া বিবির নাতি আলমিন ইসলাম গগন বলেন, পরিবারের জ্যেষ্ঠদের থেকে শুনেছি, নানিকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে যুদ্ধের আগে পাকিস্তান নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এখন তাঁর দেশে ফেরায় পরিবারের সবাই আনন্দিত।
২০১৯ সালে বিদেশে পাচার ও হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে মানবাধিকার সংগঠন ‘দেশে ফেরা’। সম্প্রতি এ সংগঠনের নাম পরিবর্তন করে নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘খোঁজ’।
খোঁজের সংগঠক তানভীর হাসান শুক্রবার ভোরে জাগো নিউজকে বলেন, তারা বেশ কয়েক বছর বিদেশে পাচার ও হারিয়ে যাওয়া নাগরিকদের ফেরাতে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ২৭০ জনকে বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশ আসতে সহযোগিতা করেছেন। তাদের অধিকাংশই বিভিন্ন সয়ম একেক করে আসছেন। কিন্তু এবারই প্রথম একসঙ্গে পাকিস্তান থেকে পাঁচজন নারী দেশে ফিরেছেন।
এমএমএ/এসএনআর