ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

তেলের অপেক্ষায় কাটছে সময়: কোথাও পাম্প বন্ধ, কোথাও লম্বা লাইন

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০২:২১ পিএম, ২৫ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে তেল সংকটে পড়েছে দেশ। দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের সরবরাহ ঠিক না থাকায় বিভিন্ন পাম্পে বন্ধ রয়েছে যানবাহনে তেল দেওয়ার কার্যক্রম। তবে সীমিত পরিসরে খোলা পাম্পগুলোতে বিভিন্ন সময় তেল দেওয়া কার্যক্রম চললেও সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ লাইন। খোলা পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তেল মিলবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত না কোনো গ্রাহকই।

রাজধানীর অধিকাংশ পাম্প বন্ধ থাকায় খোলা পাম্পগুলোর সামনেই দীর্ঘ লাইনে তেলের অপেক্ষায় কাটছে যানবাহন চালকদের সময়।

বুধবার (২৫ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন তেল পাম্প ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

পরীবাগের পূর্বাচল ট্রেডার্স পাম্পটি তেল না থাকায় কার্যক্রম বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। তবে গ্যাস দেওয়ায় কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে।

jagonews24

পূর্বাচল ট্রেডার্স পাম্পের কর্মী সুজন বলেন, মালিক ভোর ৬টায় ডিপোতে গিয়ে সিরিয়াল দিয়েছেন। এখনও তেল পাননি। যদি তেল পেয়ে যান, তাহলে ৩টার দিকে আবার তেল দেওয়া শুরু করবো।

তিনি বলেন, আমাদের প্রতিদিন ৩০-৩৫ হাজার লিটার তেলের চাহিদা থাকে। কিন্তু ডিপো থেকে মাত্র ৯ হাজার লিটার তেল দেওয়া হয়। তাও আবার একদিন পর একদিন। মানে ৯ হাজার লিটার তেল দিয়ে আমাকে দুদিন চালাতে হয়, যেখানে দুদিনে আমার প্রয়োজন ৬০-৭০ হাজার লিটার।

একই স্থানে অবস্থিত মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার নামের তেল পাম্পে যানবাহনে তেল দেওয়ার কার্যক্রম চালাতে দেখা গেছে। তবে এই পাম্পটির সামনে শাহবাগমুখী তেল নিতে আসা যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

jagonews24

মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার নামের তেল পাম্পের কর্মী মো. শাহ আলম বলেন, আমাদের পাম্পে তেল আছে। আমরা সব মোটরসাইকেলে ৫ লিটার করে সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তেল দিচ্ছি। আর প্রাইভেট বা মাইক্রোবাসের ক্ষেত্রে গাড়ি বুঝে তেল দিচ্ছি।

অপেক্ষারত মোটরসাইকেলচালক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, দুই ঘণ্টার ওপর লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখনও তেল নিতে পারিনি। তেল না নিয়ে ফেরার উপায় নেই। বাইকে তেল নেই। আজও যদি ভিড়ের কারণে তেল না নেই, তাহলে বাইক ঠেলে বাসায় নিয়ে যেতে হবে।

বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, পাম্পে তেল না থাকায় তেল দেওয়া কার্যক্রম বন্ধ। তবে ডিপো থেকে তেল নিয়ে আসা গাড়ি থেকে তেল নামানো হচ্ছে। পাম্পের সামনেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি ও সাধারণ মানুষকে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। একইসঙ্গে তেল আনলোড হলেই তেল দেওয়া শুরু হবে বলে জানা গেছে।

jagonews24

পাম্পে কর্মরত এক কর্মী বলেন, তেল ছিল না, তাই বন্ধ রাখা হয়েছিল। ডিপো থেকে তেলের গাড়ি এসেছে। আনলোড হলেই তেল দেওয়া শুরু হবে।

অপেক্ষারত মোটরসাইকেলচালক আমজেদ হোসেন বলেন, গাড়িতে তেল নেওয়া এখন মানুষের জীবনযুদ্ধের একটা অংশ হয়ে গেছে। মানুষের এখন গাড়িতে তেল নেওয়ার জন্যও হাতে তিন-চার ঘণ্টার একটা সময় নির্ধারণ করে রাখতে হয়। এখন আমরা সবাই তো বুঝি যুদ্ধের কারণে তেল সংকট হচ্ছে, এখানে সরকারেরও কিছু করার নেই। সাধারণ মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস দেওয়ার দরকার কী? সরকার বলছে পর্যাপ্ত তেল আছে, কিন্তু আমরা তেল পাচ্ছি না। সরকারের যদি সত্যি তেলের সংকট থাকে, জনগণকে বলুক। জনগণ তাহলে সেভাবেই গাড়ি চালাবে।

jagonews24

আসাদগেটে অবস্থিত তালুকদার ফিলিং স্টেশন ও সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, তালুকদার পাম্পটিতে তেল না থাকায় বন্ধ রাখা হয়েছে। এর বিপরীত পাশে অবস্থিত সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে তেল দেওয়া হলেও আসাদগেট থেকে মোহাম্মদপুরমুখী তেল নিতে আসা যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

অপেক্ষারত মোটরসাইকেলচালক সাজ্জাদ বলেন, দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। শেষ পর্যন্ত তেল নিতে পারবো কি না সন্দেহ। পাঁচ-ছয়দিন আগেও সারাদিন তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে পাম্পের কাছাকাছি গিয়েছি, আর পাম্পে তেল না থাকায় বন্ধ করে দিয়েছে। তাহলে আমরা যে এত ভোগান্তি নিয়ে তেলের জন্য অপেক্ষা করছি, আমাদের তেল পাওয়ার নিশ্চয়তা কি?

কেআর/এসএইচএস