ডিএমপি কমিশনার
ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ১৬ পুলিশ সদস্য আহত
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী
হাদি হত্যার তদন্ত ও বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত নেতাকর্মী ও নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনরতদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৬ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) আন্দোলনকারীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী আহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডিএমপি কমিশনার জানান, সংঘর্ষে ডিএমপির বিভিন্ন ইউনিটের অন্তত ১৬ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন একজন অতিরিক্ত ডিআইজি, একজন পরিদর্শক, একজন সার্জেন্ট ও একাধিক কনস্টেবল। তাদের বেশির ভাগেরই হাত, পা ও মাথায় আঘাত লেগেছে। কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, একজনের মাথায় সেলাই দিতে হয়েছে।
এদিকে এই সংঘর্ষের ঘটনার পর গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, ইনকিলাব মঞ্চের জাবেরসহ বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
পরে অবশ্য ডিএমপির বিবৃতিতে বলা হয়, বেআইনি ওই সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে গুলি বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় যেকোন প্রকার সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও শুক্রবার বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে একাধিক গোষ্ঠী পুলিশের বাধা অতিক্রম করে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এই ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য কতিপয় ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন মর্মে আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে এবং এতে কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র (Lethal Weapon) বা গুলি ব্যবহার করা হয়নি। ওই ঘটনায় পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন বিক্ষোভকারীও সামান্য আহত হন। এ নিয়ে কোনো প্রকার অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বসাধারণকে বিনীত অনুরোধ করা হলো।
কেআর/এএমএ