ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

টিআইবির পর্যবেক্ষণ

নারী প্রার্থী মনোনয়নে জুলাই সনদে করা অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৬:০১ পিএম, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে অন্তত ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়নের অঙ্গীকার থাকলেও বাস্তবে তা সংসদ নির্বাচনে প্রতিফলিত হয়নি। এমনটাই জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ‘গণভোট ও প্রাক-নির্বাচন পরিস্থিতি: টিআইবির পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়। রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনটি হয়।

টিআইবি জানায়, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ও জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ৩০টি রাজনৈতিক দলে একজনও নারী প্রার্থী নেই, যা নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে গভীর সংকটের চিত্র তুলে ধরে।

টিআইবির তথ্য বিশ্লেষণ তুলে ধরে জানানো হয়, মোট প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থীর হার মাত্র ৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নারীদের মনোনয়নের হার অত্যন্ত কম- বিএনপির ২ দশমিক ৮ শতাংশ, জাতীয় পার্টির ৩ দশমিক ১ শতাংশ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ৩০টি রাজনৈতিক দলে কোনো নারী প্রার্থী নেই।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে নারীদের হার তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও তা মাত্র ৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ, যা যোগ্য নারী প্রার্থী এগিয়ে আসেন না- এই যুক্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলে মন্তব্য করেছে টিআইবি। সংস্থাটির মতে, দলগুলোর অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার রাজনীতি, জোটগত সমীকরণ এবং পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার কারণে যোগ্য নারীদের উপেক্ষা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নারী প্রার্থীদের প্রচারণায় বাধা, অশালীন ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্য, প্রচারণাসামগ্রী ছেঁড়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিছু ক্ষেত্রে ধর্মান্ধ ও কুরুচিপূর্ণ আক্রমণের শিকার হচ্ছেন নারী প্রার্থীরা, যা তাদের নির্বাচনি অংশগ্রহণকে আরও কঠিন করে তুলছে।

এছাড়া নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে নিবন্ধনের সময় প্রায় ১৪ হাজার গণমাধ্যমকর্মীর ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে টিআইবি বলছে, নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় কমিশনের অব্যবস্থাপনা উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনার ফলে শুধু সাংবাদিক নয়, সাধারণ নাগরিকদের তথ্য নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং নাগরিক তথ্য সুরক্ষায় নির্বাচন কমিশনের আরও সক্রিয় ও দৃঢ় ভূমিকা প্রয়োজন। তা না হলে অবাধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে মনে করছে টিআইবি।

কেআর/একিউএফ