ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

বোয়িং থেকে বিমান কেনার পেছনে যে যুক্তি দেখালেন উপদেষ্টা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৭:০৫ পিএম, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৪টি বিমান কেনার প্রক্রিয়া চলমান আছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে এ বিমান কেনার উদ্যোগের যৌক্তিকতাও তুলে ধরেন।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান উপদেষ্টা।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ২০২৪ সাল থেকে ২৫টি বোয়িং প্লেন ক্রয়ের একটি প্রস্তাবনা চলমান। বাংলাদেশ বিমানবন্দর থেকে গত বছর এক কোটি ৬০ লাখের ওপরে যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে, যার মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স মাত্র ২০ লাখ যাত্রী পরিবহন করে। অর্থাৎ এক থেকে দেড় কোটি প্যাসেঞ্জার বিমান ক্যারি করতে পারেনি, কারণ আমাদের যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা নেই।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বর্তমানে ১৪টি ফ্লাইঅ্যাবল প্লেন আছে এবং ২০৩৫ সাল নাগাদ আমাদের ৪৭টি প্লেনের দরকার। বোয়িংয়ের সঙ্গে আমরা ২০৩৫ সাল নাগাদ মাত্র ১৪টি প্লেন নিয়ে কথা বলছি এবং এই প্রস্তাবনাটি বোয়িং ও এয়ারবাসকে বিশ্লেষণ করে টেকনো ইকোনমিক ফিজিবিলিটি করে পাঠানো হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা দপ্তর থেকে প্রাইস নেগোসিয়েশন করার জন্য ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ স্যারকে প্রধান করে একটি নেগোসিয়েশন টিম করা হয়েছে। সেই টিম বোয়িংয়ের সঙ্গে আলোচনা করছে। সেই আলোচনা এখনো চলমান। এই চলমান প্রক্রিয়া শেষ করতে পারলে আলহামদুলিল্লাহ। শেষ না করতে পারলে দুঃখজনকভাবে আমরা আমাদের ক্রয় প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে পারবো না।'

‘যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের রপ্তানি আয় এক লাখ কোটি টাকার ওপরে। আমরা যে বিমান ক্রয়ের প্রস্তাবনা করছি সেটার মূল্যমান হতে পারে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যা ১০ থেকে ২০ বছরে পরিশোধ করতে হবে। আমাদের রপ্তানির বিপরীতে বছরে হয়তো দেড় হাজার থেকে ২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। আমাদের ওপর যে ৩৭ শতাংশ ট্যারিফ ইম্পোজ হয়েছিল তা নেগোসিয়েট করে ২০ শতাংশে নামিয়েছিলাম’ বলেন বিমান উপদেষ্টা।

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার আগামী সরকারের জন্য এমন কোনো বার্ডেন রেখে যেতে চায় না যেখানে রপ্তানি শুল্ক উচ্চ পর্যায়ে থাকে এবং ৭ লাখ চাকরি বা এক লাখ কোটি টাকার ব্যবসা ঝুঁকির মুখে পড়ে। ভারতের মতো দেশ যেখানে ৬০০ বিলিয়ন ডলারের আমেরিকান প্রকিউরমেন্টের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেখানে আমরা মাত্র ৩ বিলিয়ন ডলারের কথা বলছি।’

এর আগে সরকারের বোয়িং কেনা নিয়ে সমালোচনার জবাবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব নাসরীন জাহান বলেন, বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে আছে মাত্র ১৯টি উড়োজাহাজ। ২০৩০ সালের মধ্যে আরও চারটি উড়োজাহাজ (দুটি ড্যাশ-৮ ও দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০) অবসরে যাবে। নতুন উড়োজাহাজ না এলে বিদ্যমান রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা ব্যাহত হবে এবং নতুন রুট চালুও সম্ভব হবে না।

এ বাস্তবতায় সরকার ও বিমান কর্তৃপক্ষ বহর ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়। এর অংশ হিসেবে বোয়িং ও এয়ারবাসের কাছ থেকে প্রস্তাব নেওয়া হয় এবং প্রাপ্ত প্রস্তাবের ভিত্তিতে কারিগরি ও আর্থিক বিশ্লেষণ সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে বোয়িংয়ের সঙ্গে নেগোসিয়েশন চলছে বলেও জানান তিনি।

সচিব আরও বলেন, এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৭ শতাংশ রিসিপ্রোক্যাল ট্যারিফের প্রেক্ষাপটে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যেও ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার একটি প্রস্তাব সামনে আসে। কিছু গণমাধ্যমে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তের অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উড়োজাহাজ কেনার এ প্রক্রিয়া ২০২৪ সাল থেকেই চলমান এবং এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এগোচ্ছে।

আরএমএম/এমএএইচ/