ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

ঢাকা-৫

‘মানুষ প্রশংসা করে, কিন্তু ভোট দেওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না’

মাসুদ রানা | প্রকাশিত: ০৯:৪৮ পিএম, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার সময়। সে হিসেবে সোমবারই (৯ ফেব্রুয়ারি) ছিল প্রচারণার শেষ দিন। শেষ দিনটিতে নানামুখী প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন ঢাকা-৫ আসনের বড় দলগুলোর প্রার্থীরা। সে বিবেচনায় তুলনামূলক খর্ব শক্তির দলগুলোর প্রার্থীদের প্রচারণা সেভাবে চোখে পড়েনি। শেষ দিনেও কোনো কোনো প্রার্থী ছিলেন অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে ও নির্বাচনি আসনটি বিভিন্ন স্থান ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

ঢাকা-৫ আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি’র প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেন মোস্তফা। তার প্রতীক কাস্তে। শেষ দিনের প্রচারণার বিষয়ে সোমবার বিকেলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘গতকালকে (রোববার) আমরা মিছিল করেছি। মিছিল ডেমরার বাঁশের পুল থেকে ডগাইর ফার্মের মোড় হয়ে কোনাপাড়া এসে শেষ হয়েছিল। আমরা আজকে কোনো প্রচারণা কর্মসূচি রাখিনি। আজকে মূলত পরিচিত যারা আছেন তাদের সঙ্গে কথা বলছি, তাদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি যতটুক সম্ভব।’

ডেমরার কোনাপাড়া এলাকা ছাড়া এ প্রার্থীর ব্যানার-পোস্টার সেভাবে চোখে পড়েনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সীমিত ব্যানার করেছি, এর মধ্যে আবার অনেকগুলো খুলে ফেলেছে। খরচ তো একটা বিষয়, আমাদের তো কালো টাকা বা পেশিশক্তি নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী। এ অঞ্চলের মানুষ কমিউনিস্ট পার্টি সম্পর্কে বেশ ভালোভাবেই জানেন। এর আগে এই আসন থেকে আমাদের সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিক ভাই, শহীদুল্লাহ চৌধুরী ভাই নির্বাচন করেছেন।’

‘মানুষ বলে—আপনাদের পার্টি ভালো, আপনারা মানুষ ভালো, আপনাদের চিনি। তারা আমাদের সাদরে গ্রহণ করে, প্রশংসা করে, কিন্তু ভোট দেওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না। সেই জায়গায় হয়তো আমরা যেতে পারছি না’—বলেন তোফাজ্জল হোসেন।

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) সংসদ সদস্য প্রার্থী শাহিনুর আক্তার সুমি। তার প্রতীক কাঁচি। এ প্রার্থীর ব্যানার-ফেস্টুনও সেভাবে চোখে পড়ে না। তবে কাজলায় তার বাসা হওয়ায়, সেখানে কিছু ব্যানার দেখা যায়।

সুমি বলেন, ‘প্রতিটি ওয়ার্ডে আমরা নিজেরা গিয়ে লিফলেট বিলি করছি। আমরা শুধু একদিন গত শুক্রবার মিছিল করেছি। আমাদের লোকবল এবং কর্মী সংখ্যা কম। আমরা কিছু পথসভাও করেছি। দুটি ব্যানার করেছি, একজন-দুজন দাঁড়িয়ে ছিল, একজন লাইভ করেছে। একজন হয়তো লিফলেট বিতরণ করেছে। এভাবে করে আমরা পথসভা করেছি।’

তিনি বলেন, ‘মানুষ কাকে ভোট দেবে এটি তার নিজস্ব ব্যাপার। কিন্তু মানুষ আমাদের সঙ্গে তাদের সংকটগুলো নিয়ে কথা বলছে। তাদের বাড়িতে আমাদের নিয়ে যাচ্ছে। আমরা ভালো সাড়া পাচ্ছি।’

সমাজতান্ত্রিক দলের এ প্রার্থী আরও বলেন, ‘আজকে আমরা যাত্রাবাড়ী এবং কাজলা এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছি। আমাদের কোনো নির্বাচনি বুথ নেই। গণটাকার ওপর ভিত্তি করে আমাদের দল পরিচালিত হয়। আমরা ব্যানারাও খুব কম করতে পেরেছি।’

আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির মো. গোলাম আজম। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রায়েরবাগে টার্নি পয়েন্টে কিছু ব্যানার দেখা গেছে তার। ডেমরার কোনাপাড়ার দিকেও তার কিছু ব্যানার চোখে পড়ে।

গোলাম আজম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি আজকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছি। আমি বের হতে পারিনি। আমার কর্মীরা কোনাপাড়া ও ডেমরার দিকে লিফলেট দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছি কাভার করতে, কিন্তু সবার কাছে যেতে পারিনি। যতটুকু যেতে পেরেছি মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের গ্রহণ করেছে। আমি আশাবাদী, বিপুল ভোটে জয়ী হবো, ইনশাআল্লাহ্।’

‘আমাদের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা ব্যানার-ফেস্টুন দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তবে বড় দলের কারণে আমাদের অনেক ব্যানার ফেস্টুন ঢেকে গেছে। আমার কিছু বিলবোর্ড এবং ফেস্টুন ছেঁড়া হয়েছে। এ নিয়ে আমি নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। দেখি, তারা কী পদক্ষেপ নেয়’—বলেন গোলাম আজম।

বাংলাদেশ সংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (মুক্তিজোট) প্রার্থী মো. তাইফুর রহমান রাহীর প্রতীক ছড়ি। সোমবার বিকেলে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমি মগবাজারে আছি। রাতে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারে যাব। সেখানে আমার একটি পথসভা আছে।’

এ কয়দিন কীভাবে প্রচারণা চালালেন জানতে চাইলে এ প্রার্থী বলেন, ‘আপনাকে কেন বলতে হবে।’ একটু থেমে এরপর বলেন, ‘আমরা মাঠে ছিলাম, আমাদের প্রচার-প্রচারণা হয়েছে। আপনি একটু খোঁজখবর নেন। ছড়ি মার্কার প্রচারণার কথা যারা জানার তারা জেনে গেছে।’

আপনাদের তো ব্যানার ফেস্টুন দেখা যাচ্ছে না—এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘ব্যানার ফেস্টুন যারা দিয়েছে তারা ভোট পাবে বলে মনে করবেন না। ১২ তারিখে দেইখেন যারা ব্যানার দিয়েছে মনে করেছে অনেক ভোট পাবে, কিন্তু তারা জানে না মানুষ তাদের পেছনে কী বলছে। যারা আমাদের ভোট দেবে তারা অনেক আগেই দাওয়াত পেয়ে গেছে। আমি ব্যানার লাগিয়ে পরিবেশ দূষণ করতে চাই না।’

বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মো. সাইফুল আলম। তার প্রতীক ডাব। শেষ দিনের প্রচারণার বিষয়ে সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি তো ধুমসে প্রচারণা করছি। আমার প্রচারণা ব্যতিক্রমী। সবাই দলবল নিয়ে প্রচারণা চালাতে যায়, আমি যাই একা একা। আমি একা একা হেঁটে হেঁটে প্রচারণা চালাই। মানুষের কাছে গিয়ে বলি—আমি আপনাদের একজন প্রার্থী, আমাকে আপনারা ভোট দেবেন।’

তিনি বলেন, ‘মানুষ জানতে চায়- আমি কি করি। আমি যখন বলি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, তখন তারা আমার প্রতি আরও আগ্রহ দেখায়। তারা বলেন, প্রার্থীরা লোক পাঠায় আর আপনি নিজে প্রার্থী হয়ে আমাদের কাছে এসেছেন। আপনার অনেক সাহস, আপনাকে পেয়ে আমরা ধন্য। এইরকম এমপিই আমরা চাই। আমার সঙ্গে তারা সেলফি তোলেন, চা আপ্যায়ন করেন।’

বাংলাদেশ কংগ্রেসের এ প্রার্থী আরও বলেন, ‘আমি কোনো ব্যানার-ফেস্টুন করিনি, শুধু লিফলেট বিতরণ করি। আমি মনে করি ব্যানার-ফেস্টুন ভোট আনতে পারে না। লিফলেটের মাধ্যমে আমি একজন ভোটারের কাছাকাছি যেতে পারি। মানুষ অন্যদের লিফলেট ফেলে দেয়, কিন্তু আমারটা যত্ন করে পুরুষরা মানিব্যাগে এবং নারীরা ভ্যানিটি ব্যাগে রেখে দেয়।’

মো. হুমায়ুন কবির লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রার্থী, তিনি ছাতা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। কথা হলে জাগো নিউজকে বলেন, ‘উইন করার চেষ্টায় আছি, তবে আল্লাহ ভাগ্যে কী রেখেছে জানি না। দোয়া করবেন।’

তিনি বলেন, ‘অনেক জায়গায় আমরা ব্যানার-ফেস্টুন দিয়েছি, কিন্তু অন্য দলের লোকজন সেগুলো খুলে ফেলে। এটি একটি বড় সমস্যা। বড় দলগুলো চায় তাদের ব্যানার-ফেস্টুনই শুধু থাকবে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে যে হলফনামা তালিকা সেখানে আমার হলফনামা বা অন্যান্য তথ্য নেই। আমার জায়গায় অন্য একজনের তথ্য। একজনের তথ্য দুইবার দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় আসনের প্রার্থীদের নিয়ে নিউজ হয়, সেখানে আমার ছবি থাকে না। কারণ, সবাই নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে তথ্য নেয়। কিন্তু সেখানে তো ভুল তথ্য দেওয়া।’

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি। এটি তারা ঠিক করবে করবে করেও অনেকদিন ঝুলিয়ে রাখে। নিশ্চয়ই কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এই বিভ্রান্তিটা সৃষ্টি করেছে। এর পেছনে কেউ আছে। আমি এ বিষয়ে তদন্ত করার জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছি।’

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা, কদমতলী (আংশিক) থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৫ সংসদীয় আসন। এ আসনে মোট ১২টি ওয়ার্ড রয়েছে, যা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৮, ৪৯, ৫০, ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৬৮, ৬৯ ও ৭০ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৯৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৪ হাজার ৫৯৪ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৩৯৭ জন।

ঢাকা-৫ আসনে মোট প্রার্থী ১১ জন। এরমধ্যে বিএনপির প্রার্থী মো. নবী উল্লাহ নবী (ধানের শীষ প্রতীক), জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাজী মো. ইবরাহীম (হাতপাখা প্রতীক)। মূলত এ তিন প্রার্থীর মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করছেন এ আসনের ভোটাররা।

এছাড়া এ আসনটিতে গণঅধিকার পরিষদের সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম (ট্রাক প্রতীক) ও জাতীয় পার্টির মীর আব্দুস সবুর (লাঙ্গল প্রতীক) নিয়ে নির্বাচন করছেন।

jagonews24

তিন প্রার্থীর শেষ দিনের প্রচারণা
শেষ দিনে বিকেলে ঢাকা-৫ আসনের যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক সড়কে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নবী উল্লাহ নবীর সমর্থনে নির্বাচনি জনসভা হয়েছে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

জামায়াতের প্রার্থী কামাল হোসেন শেষ দিনে আসনটির ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডে (ডেমরার ডগাইর, বামৈল এলাকা) প্রচারণা চালিয়েছেন। রাত ১০টায় তার সমর্থনে গণমিছিল হবে। যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক সড়ক থেকে এ মিছিল শুরু হবে। এতে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে।

ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হাজী মো. ইবরাহীম সোমবার বিকেলে দনিয়া কলেজ মাঠে উঠান বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে গণমিছিল বের করা হয়।

আরএমএম/এমকেআর