ড. মুহাম্মদ ইউনূস
দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশকে সচল করা ছিল সবচাইতে কঠিন কাজ
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশকে সচল করার প্রথম কাজটি ছিল সবচাইতে কঠিন।’
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া বিদায় ভাষণে তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিস্থিতি তুলে ধরে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘যারা দেশকে লুটেপুটে খেত, তারাই দেশের এ যন্ত্র চালাতো। অভ্যুত্থানের সঙ্গে সঙ্গে তাদের একান্ত অনুগত লোক নিয়ে সবাই পালিয়েছেন। বড় কর্তা পালিয়েছেন। মাঝারি কর্তা পালিয়েছেন। অন্যরা ভোল পাল্টিয়েছেন। অথবা আত্মগোপনে চলে গেছেন।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ওই সময় কেউ নিজেকে অভ্যুত্থানের গোপন সৈনিক উল্লেখ করে নানাজন সুপারিশ নিয়ে এসেছেন। এ অবস্থায় সরকারের ভেতরে যারা পালিয়ে যায়নি তাদের মধ্যে কাকে বিশ্বাস করবেন, কাকে করবেন না—এটি মহাসংকট হয়ে দাঁড়াল। যতই মৃতদেহের, অঙ্গপ্রত্যঙ্গহীন দেহের সন্ধান আসছিল, ততই তারা চিহ্নিত হচ্ছিল।’
বিদায়ী ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘সেই থেকে ১৮ মাস চলে গেছে। অবশেষে ১২ ফেব্রুয়ারি আসলো। দেড় যুগ পর দেশে একটি জাতীয় নির্বাচন এবং ব্যাপক সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য সর্বসম্মত জুলাই সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠান হলো। এ নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশ, দেশের সর্বত্র একটা ঈদের পরিবেশ ছিল, যা আমাদের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘হার-জিতই হলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। যারা জয়ী হয়েছেন তারা মোট ভোটের প্রায় অর্ধেক পেয়েছেন। যারা জয়ী হতে পারেননি তারাও মোট ভোটের অর্ধেক পেয়েছেন। যারা জয়ী হতে পারেননি, তারা এ জেনে আশ্বস্ত হবেন যে প্রায় অর্ধেক ভোটার আপনাদের ওপর আস্থা রেখেছে। আগামী দিন নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে—এর মাধ্যমে আমাদের ১৮ মাসের দায়িত্বের সমাপ্তি হবে।’
কেএসআর/আরএইচ