ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

৫ টাকার পেঁয়াজুতে জহিরুলের টিকে থাকার গল্প

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল | প্রকাশিত: ০৮:৩৫ পিএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রাস্তার পাশে ছোট্ট একটি ফুড কার্ট। আনুমানিক দুই ফুট আয়তনের কাচঘেরা সেই কার্টটির সামনে লেখা—‘ফুচকা মেলা অ্যান্ড ফাস্ট ফুড কর্নার’। নামের সঙ্গে মিল না থাকলেও জ্বলন্ত উনুনে ভাজা গরম আলুর চপ ও বেগুনির ঘ্রাণ পথচারীদের টেনে নিচ্ছিল কাছে। ঠিক তখনই এক তরুণীকে দেখা যায় ১০ টাকার রান্না করা ছোলা-বুট এবং ২০ টাকায় চারটি পেঁয়াজু কিনতে।

দোকানের নাম ‘ফুচকা মেলা’ অথচ ক্রেতা কিনছেন অপেক্ষাকৃত সস্তা ইফতারি—কৌতূহলবশত এগিয়ে যাই সামনে। ছোট্ট কার্টটি ছিমছাম, পরিপাটি। হাতেগোনা কয়েকটি ট্রেতে সাজানো পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, ঘুগনি, ফুলকপি চপ, পাস্তা ও রান্না করা ছোলা-বুট। পাশে চুলায় তখনো টগবগ করে ফুটতে থাকা তেলে ভাজা হচ্ছিল নতুন আইটেম।

আজিমপুর কবরস্থান রোড থেকে সোজা বিজিবি ২ নম্বর গেটে যাওয়ার আগে সিটি করপোরেশন অফিসের ঠিক বিপরীতে কার্টটির অবস্থান। মালিক জহিরুল ইসলাম। আলাপকালে জানালেন তার শুরু করার গল্প। মাত্র ২০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে নেমেছেন এই ব্যবসায়।

jagonews24.comছবি: জাগো নিউজ

জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘অন্য সময় চটপটি, ফুচকা, নুডলস আর পাস্তা বিক্রি করি। রমজান শুরু হতেই আইটেম বদলে ইফতার সামগ্রী এনেছি। রাস্তার ধারে হলেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে মানসম্মত খাবার কম দামে দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

দামের তালিকাও চমকে দেওয়ার মতো—পেঁয়াজু ৫ টাকা, আলুর চপ ৫ টাকা, বেগুনি ৫ টাকা, ডিম চপ ১০ টাকা এবং ছোলা-বুট সর্বনিম্ন ১০ টাকা। যেখানে কয়েক বছর আগেও ৫ টাকায় এসব আইটেম পাওয়া যেত, এখন তা প্রায় কল্পনাই মনে হয়। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে এমন দামে বিক্রি কীভাবে সম্ভব?

হেসে জহিরুলের জবাব, দাম কম হলেও বেশি পরিমাণে বিক্রি হলে লাভ করা যায়। ক্রেতা খুশি থাকলে বিক্রি বাড়ে।

কথায় কথায় জানা গেলো, বিকেলে ফুড কার্ট চালালেও সকালে তিনি করেন অন্য একটি কাজ। জীবনযুদ্ধে টিকে থাকতে সময় ও পরিশ্রম—দুটোকেই কাজে লাগিয়েছেন তিনি। ‘বুদ্ধি খাটিয়ে চলতে পারলে অল্প পুঁজিতেও ভালো আয় করা যায়,’ আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বললেন জহিরুল ইসলাম।

ব্যস্ত নগরীর ফুটপাতে দাঁড়িয়ে তাই এই ছোট্ট ফুড কার্ট শুধু ইফতারের স্বাদই দেয় না, শোনায় সংগ্রাম আর টিকে থাকার এক নীরব অনুপ্রেরণার গল্প।

এমইউ/এমএমকে