এখনও সাজেনি বইয়ের তাক, অসম্পূর্ণ বইমেলা
বইমেলায় এখনও স্টল সাজাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা, ছবি: জাগো নিউজ
রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় শুরু হয়েছে অমর একুশে বই মেলা। এবারের মেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’। মাসব্যাপী এ আয়োজনের প্রথম দিনেই দেখা গেছে, অধিকাংশ স্টলের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়নি। মেলা শুরু হলেও অনেক স্টলে এখনও কাঠামো নির্মাণ, রং করা, আলোকসজ্জা স্থাপন এবং বই সাজানোর কাজ চলছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মেলা প্রাঙ্গণে ঘুরে দেখা যায়, বেশ কিছু স্টলের সামনে নির্মাণসামগ্রী পড়ে আছে। কোথাও কাঠের ফ্রেম বসানো হচ্ছে, কোথাও ব্যানার ও নামফলক টানানো হচ্ছে। কয়েকটি স্টলের সামনে ভাঙা ইট ও খোয়া পড়ে থাকতে দেখা গেছে। শ্রমিকরা বিভিন্ন স্টলে শেষ মুহূর্তের কাজ করছেন।

অনেক স্টলে বইও সীমিত। কয়েকটি প্রকাশনা সংস্থা এখনও তাদের বই তাক অনুযায়ী সাজাতে পারেনি। কোথাও কার্টন ও প্যাকেটের ভেতরে বই রাখা, কোথাও স্তূপ করে রাখা-এমন চিত্র দেখা গেছে। কিছু স্টলে এখনও মোড়ক খোলা হয়নি। ফলে দর্শনার্থীরা কাঙ্ক্ষিত বই খুঁজে পেতে সময় দিতে হচ্ছে।

মেলায় ঘুরতে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, মেলা শুরু হলেও সব স্টল প্রস্তুত না থাকায় প্রত্যাশিত পরিবেশ তৈরি হয়নি। প্রথম দিনে আগ্রহ বেশি থাকে, তবে অনেক স্টল পুরোপুরি চালু না থাকায় মেলাটি অসম্পূর্ণ মনে হচ্ছে।

মুক্তধারা প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী কামরুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, স্টল বরাদ্দ ও প্রস্তুতির সময়সূচি নিয়ে জটিলতা থাকায় কাজ শেষ করতে দেরি হয়েছে। তিনি জানান, মেলার শুরুর তারিখ একাধিকবার পরিবর্তন হওয়ায় প্রস্তুতি ব্যাহত হয়েছে। কখনও ২১ ফেব্রুয়ারি, কখনও ২৫ ফেব্রুয়ারি-শেষ পর্যন্ত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরু। এ পরিস্থিতিতে আগে স্থাপিত কিছু প্যাভিলিয়ন ভেঙে পুনর্নির্মাণ করতে হয়েছে। ফলে সময় ও শ্রম দুটোই বেশি লেগেছে।

অন্বেষা প্রকাশনীর একটি স্টলে কাজ করা এক ইলেকট্রনিক মিস্ত্রি জানান, শেষ মুহূর্তে কাজের চাপ বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব কাজ শেষ করা যায়নি। তাই মেলা শুরুর দিনেও বিদ্যুৎ ও আলোকসজ্জার কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুতই কাজ শেষ হবে।

জ্ঞানকোষ প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, তিনি এর আগে আরও দুইবার বইমেলায় কাজ করেছেন। আগের বছরগুলোতে মেলা শুরুর আগেই স্টল প্রস্তুত থাকতো। কিন্তু এবার প্রথম দিনেও অনেক স্টলের কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। তারমতে, দিন-তারিখ নির্ধারণে পরিবর্তনের কারণে প্রস্তুতিতে প্রভাব পড়েছে।
এফএআর/এসএনআর/এএসএম