দুদকের মামলা ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক, দাবি সাবেক হুইপ সামশুলের
সামশুল হক চৌধুরী/ফাইল ছবি
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নিজের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলাকে ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন সাবেক হুইপ ও চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী।
সাবেক হুইপ সামশুলের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি গত রোববার গণমাধ্যমকে জানান দুদক প্রধান কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ। পাঁচ কোটি আট লাখ ৫৮ হাজার ৫৯৫ টাকার অসঙ্গতিপূর্ণ আয় পাওয়া গেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, সোমবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে সাবেক হুইপ সামশুল বলেন, ‘দুদক কর্তৃক গতকাল (রোববার) আমার বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে যে অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়েছে, আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, ষড়যন্ত্রমূলক এবং বিগত ইউনুস সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই অংশ।’
‘প্রাথমিক অনুসন্ধানে আমার ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে যে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, আমাকে দুদকে পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার আগেই তারা মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। উল্লেখ যে, ইতিপূর্বেও একটি কুচক্রী মহলের মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক দীর্ঘ চার বছর নিবিড় অনুসন্ধান চালিয়েছিল। সে সময় অভিযোগের কোনো সত্যতা না পাওয়ায় দুদক স্বয়ং বিষয়টি পরিসমাপ্তি করে আমাকে দায়মুক্তি দিয়েছিল। এখন একই বিষয়ের পুনরাবৃত্তি কেবল হয়রানি ছাড়া আর কিছুই নয়,’ যোগ করেন তিনি।
সামশুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, দুদক যদি সঠিক, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠভাবে তদন্ত পরিচালনা করে, তাহলে সহজেই প্রমাণিত হবে যে, আমার আয় ও সম্পদের বিবরণ আমার ট্যাক্স ফাইলে উল্লেখিত তথ্যের বাইরে নয়। আমার ও আমার পরিবারের সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিবরণ এবং আয়ের উৎস নিয়মিতভাবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করা হয়েছে। আমি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে গার্মেন্টস, রিয়েল এস্টেট, বাণিজ্যিক ভবন, প্রকৌশল ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি এবং নিয়মিত প্রথম শ্রেণির আয়কর দাতা। এছাড়াও আমার পিতা মরহুম আলহাজ নুরুল করিম চৌধুরী পাকিস্তান আমল থেকেই চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র রিয়াজউদ্দিন বাজারে মূল্যবান বাণিজ্যিক ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক, যা মূলত আমার দাদা আলহাজ কামদর আলী চৌধুরীর মালিকানাধীন সম্পদের ধারাবাহিক উত্তরাধিকার ও ব্যবসায়িক ভিত্তির অংশ।’
দুদক অভিযোগে যে অর্থ-সম্পদকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, সেসবের উৎস, বিবরণ ও বৈধতা যথাযথ নথিপত্রে বিদ্যমান রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সঠিক তদন্তে এ অভিযোগের অসারতা এবং ভিত্তিহীনতা স্পষ্ট হয়ে উঠবে। আমি দুদকের তদন্ত প্রক্রিয়া এবং দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আদালতের মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং আমি ও আমার পরিবার সন্দেহাতীতভাবে এই অভিযোগ থেকে খালাস পাবো, ইনশাআল্লাহ।’
‘অতীতেও নানা অপপ্রচার, বিভ্রান্তি ও ষড়যন্ত্র হয়েছে, ভবিষ্যতেও হতে পারে। কিন্তু আল্লাহর রহমত, সত্যের শক্তি এবং পটিয়ার মানুষের ভালোবাসা সঙ্গে নিয়ে আমি সব অপচেষ্টার মোকাবিলা আইনগত উপায়ে দৃঢ়তার সঙ্গে করে যাবো, ইনশাআল্লাহ,’ যোগ করেন সাবেক হুইপ সামশুল।
দুদকের প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, সামশুল হক চৌধুরীর নামে প্রাথমিক অনুসন্ধানে মোট ৬ কোটি ৮৮ লাখ ৭ হাজার ৯৫৭ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ৪ কোটি ৯০ লাখ ১৩ হাজার ৯৫৬ টাকা। পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় বাদ দিলে তার সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ৭৯ লাখ ৪৯ হাজার ৩৬২ টাকা। ফলে তার অর্জিত সম্পদের তুলনায় বৈধ আয়ের সঙ্গে ৫ কোটি ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৫৯৫ টাকার অসঙ্গতি পাওয়া গেছে, যা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সামশুল হক চৌধুরীর স্ত্রী কামরুন নাহার চৌধুরীর নামে প্রাথমিক অনুসন্ধানে ৭ কোটি ২১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৬ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। একই সময়ে তার গ্রহণযোগ্য আয় ছিল ৯৪ লাখ ৮ হাজার ১৬৭ টাকা এবং পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ছিল ৪৮ লাখ ২৯ হাজার ৫৮৪ টাকা। এতে তার সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৫ লাখ ৭৮ হাজার ৫৮৩ টাকা। ফলে অর্জিত সম্পদের তুলনায় বৈধ আয়ের সঙ্গে ৬ কোটি ৭৫ লাখ ৭৬ হাজার ২০৩ টাকার অসঙ্গতি পাওয়া গেছে, যা জ্ঞাত আয়বহির্ভূতভাবে অর্জিত বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
এছাড়া, তাদের সন্তান তাকলিমা নাছরিন চৌধুরীর নামেও ৩ কোটি ১ লাখ ৮১ হাজার ৯৬৯ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে তার গ্রহণযোগ্য আয় ছিল ৩১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৯৬ টাকা এবং পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ছিল ২৪ লাখ ৯৩ হাজার ৭৫০ টাকা। এতে তার সঞ্চয় দাঁড়ায় ৬ লাখ ৯৩ হাজার ২৪৬ টাকা। ফলে অর্জিত সম্পদের তুলনায় বৈধ আয়ের সঙ্গে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮৮ হাজার ৭২৩ টাকার অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানকারী দলের সুপারিশের ভিত্তিতে সামশুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে বলে জানান দুদকের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ।
এমডিআইএইচ/একিউএফ
সর্বশেষ - জাতীয়
- ১ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ঐকমত্য গঠনে সরকারি ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের আলোচনা
- ২ লালবাগে নির্মাণাধীন ভবনের পাশে মিললো বৃদ্ধের রক্তাক্ত মরদেহ
- ৩ ঐক্যবদ্ধ বাংলার জনগণ, গণঅসহযোগে তীব্র আন্দোলন
- ৪ দুদকের মামলা ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক, দাবি সাবেক হুইপ সামশুলের
- ৫ পাকিস্তানি ব্র্যান্ডের পোশাককে বাংলাদেশি দাবি, ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা