ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

অগ্নিঝরা মার্চ ১১

ঐক্যবদ্ধ বাংলার জনগণ, গণঅসহযোগে তীব্র আন্দোলন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ১২:০১ এএম, ১১ মার্চ ২০২৬

শেখ মুজিবুর রহমানকে একটি বার্তা পাঠিয়ে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দেশের ধ্বংস এড়াতে সমঝোতার আহ্বান জানান। বার্তায় তিনি বলেন, ‘দেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। ধ্বংস এড়াতে সম্ভাব্য সবকিছু করতে হবে।’

তবে এয়ার মার্শাল আসগর খান মনে করিয়ে দেন, বাংলার অধিকার না দেওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানকে এক রাখা সম্ভব নয়। করাচিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান কার্যত বাংলার সরকার, সরকারি কর্মচারীরা তার নির্দেশ পালন করছেন। যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতার হাতে ক্ষমতা না দেওয়া হয়, দেশের দুই অংশকে এক রাখা সম্ভব নয়।’

শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে সর্বস্তরের মানুষ পাকিস্তানি শাসকদের সব ধরনের অসহযোগিতা অব্যাহত রাখে। হাইকোর্টের বিচারক ও প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ সরকারি ও আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা অফিস বর্জন করেন।

ন্যাপ প্রধান মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী হাইস্কুল মাঠে এক জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান এবং সাত কোটি বাঙালির কাছে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘বাঙালির স্বার্থে আপস করার দিন শেষ, জনগণ এখন নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য ঐক্যবদ্ধ।’

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি কে উলফও শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং পাকিস্তানি সামরিক শক্তির সমরসজ্জা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের তথ্য লাভ করেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ এক বিবৃতিতে গণঅসহযোগ আন্দোলন তীব্র পর্যায়ে পৌঁছেছে উল্লেখ করে বলেন, ‘অর্থনৈতিক কাজে নিয়োজিত সবাইকে কঠোর শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এক সভায় মুক্তি সংগ্রামের প্রতি সমর্থন জানায়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা একদিনের বেতন আওয়ামী লীগের ত্রাণ তহবিলে প্রদান করেন।

চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর পাকিস্তান সরকারের চিত্রপ্রদর্শনিতে অংশ নেননি এবং দেশীয় শিল্পীদেরও বিরত থাকার আহ্বান জানান।

জনতার বাধার মুখে সেনাবাহিনীর রসদ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ ব্যাহত হয়। সিলেট ও যশোরে সেনাবাহিনীর কনভয়কে জনতা বাধা দেয়।

একই দিনে দেশের সব আদালত কার্যত অচল হয়ে যায়। কুমিল্লা কারাগার থেকে পালাতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে পাঁচ কয়েদি নিহত হন। বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার ভেঙে ২৪ কয়েদি পালিয়ে যান, দুইজন নিহত হন।

দৈনিক ইত্তেফাক ‘আঁতে ঘা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়- পূর্ব বাংলার আর্থিক লেনদেন বন্ধ হওয়ায় পশ্চিম পাকিস্তানের ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিক দুর্দশার সম্মুখীন এবং সরকারের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের কাছে করাচি শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি আহমদ আবদুল্লাহর পাঠানো তারবার্তার বরাতে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।

তথ্যসূত্র: রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদীর ‘৭১ এর দশমাস’, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও ১৯৭১ সালে প্রকাশিত সংবাদপত্র

এমএএস/বিএ