১৪১ কোটি টাকা আত্মসাৎ: সাইফুজ্জামানের নামে আরও ৩ মামলার সুপারিশ
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। ফাইল ছবি
ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ১৪১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে আরও তিনটি মামলা করার সুপারিশ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদক জানায়, ব্যাংক থেকে সাইফুজ্জামানের প্রতিষ্ঠান আরামিট সিমেন্ট লিমিটেডের নামে নেওয়া ঋণের অর্থ ভুয়া লেনদেনের মাধ্যমে আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এর আগে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার ও অর্থ আত্মসাতসহ বিভিন্ন অভিযোগে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছে দুদক। সাবেক এ সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে আরও অনুসন্ধান চলছে।
জাগো নিউজের হাতে আসা দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ইম্পেরিয়াল ট্রেডিং নামে কাগুজে বা নামসর্বস্ব একটি প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহকারী দেখিয়ে ইসলামী ব্যাংক পিএলসির জুবলী রোড শাখা থেকে দেওয়া ঋণের অর্থের অন্তত ১৪১ কোটি ৩০ লাখ টাকা তিন ধাপে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক মামলা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সাবেক এই মন্ত্রী প্রায় ১৮টি ব্যাংক ও চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়েছেন।
দুদকের প্রতিবেদনে ইসলামী ব্যাংক পিএলসির জুবলী রোড শাখার গ্রাহক আরামিট গ্রুপের পাঁচটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ঋণের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—আরামিট সিমেন্ট লিমিটেড, আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেড, আরামিট স্টিল পাইপ লিমিটেড, আরামিট পাওয়ার লিমিটেড এবং আরামিট অ্যালুমিনিয়াম কম্পোজিট প্যানেলস লিমিটেড।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব প্রতিষ্ঠানের নামে মোট ৪৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকার অনুমোদিত ঋণের বিপরীতে বর্তমান স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৫৮৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে আরামিট সিমেন্ট লিমিটেডের একক ঋণ স্থিতি ৫০৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা শ্রেণীকৃত ঋণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ২৪ জানুয়ারি ইসলামী ব্যাংকের বহদ্দারহাট শাখায় আরামিট সিমেন্টের নামে একটি আল ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব খোলা হয়। পরে ২০১৭ সালের ১৫ মে সেটি জুবলী রোড শাখায় স্থানান্তর করা হয়। ওই বছরের ১৫ অক্টোবর আরামিট সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুকমীলা জামান ৫০০ কোটি টাকার ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণের জন্য আবেদন করেন। সেই আবেদনের ভিত্তিতে জুবলী রোড শাখা ৪৫০ কোটি টাকার ঋণ প্রস্তাব আঞ্চলিক কার্যালয়ে পাঠায়। আঞ্চলিক কার্যালয় একই সুপারিশসহ তা প্রধান কার্যালয়ে পাঠায়।
আর ৮ নভেম্বর ব্যাংকের ক্রেডিট কমিটির সভায় ৩৫০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। পরে ৪ ডিসেম্বর নির্বাহী কমিটির সভায় সেই প্রস্তাব অনুমোদন পায়। ১৩ ডিসেম্বর প্রধান কার্যালয় থেকে অনুমোদনপত্র জারি করা হয় এবং ১৪ ডিসেম্বর আরামিট সিমেন্টকে তা জানানো হয়। এরপর গ্রাহকের আবেদনের ভিত্তিতে ৫৪টি বাই মুরাবাহা ডিলের মাধ্যমে ঋণের অর্থ বিতরণ করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।
জানা যায়, আরামিট গ্রুপের কর্মচারী ও এজিএম মো. আব্দুল আজিজকে ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী দেখিয়ে “ইম্পেরিয়াল ট্রেডিং” নামে একটি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানো হয়। ভুয়া ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে বিভিন্ন ব্যাংকে ওই প্রতিষ্ঠানের হিসাব খোলা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের একটি ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে ২০১৮ সালের ২১ জানুয়ারি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের হিসাব খোলা হয়। কাগজে প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা দেওয়া হলেও যাচাই করে সেখানে প্রতিষ্ঠানটির কোনো অফিস, গুদাম বা ব্যবসার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। আমদানি বা রপ্তানির কোনো প্রমাণও মেলেনি। এই ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংকেই আরামিট সিমেন্টের কাঁচামাল সরবরাহকারী দেখিয়ে একের পর এক ভুয়া ডিল অনুমোদন করা হয়।
এভাবে প্রথম ধাপে ৫৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে যথাক্রমে ৪১ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ৪২ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মোট তিনটি পৃথক মামলা রুজুর সুপারিশ করে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, এসব ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে।
এসএম/এমএএইচ/
সর্বশেষ - জাতীয়
- ১ কাতারে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের দেশে ফেরাতে বিশেষ ফ্লাইট চায় সরকার
- ২ মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশকে আইন হিসেবে পাস করার দাবি
- ৩ বিরোধীদলীয় নেতার সম্মতি পেলে চিঠি প্রকাশ করতে চায় মন্ত্রণালয়
- ৪ দলের মন্ত্রী-এমপিদের চলনে–বলনে মার্জিত থাকতে বললেন তারেক রহমান
- ৫ উত্তরায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ আরও একজন মারা গেছেন