ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

রোজায় জিলাপির ‘রাজত্ব’, বাজার প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার

এমদাদুল হক তুহিন | প্রকাশিত: ১১:৩৪ এএম, ১৮ মার্চ ২০২৬

রোজায় ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ জিলাপি। মিষ্টিজাতীয় এ খাবার ছাড়া অনেকের ইফতারই সম্পূর্ণ হয় না। ফলে রমজান মাসে ফুটপাতের অস্থায়ী দোকান থেকে পাঁচ তারকা হোটেল- সব জায়গাতেই ইফতারির অন্যান্য সামগ্রীর মধ্যে রাজত্ব চলে এর। কোনো কোনো বিখ্যাত রেস্তোরাঁ থেকে জিলাপি কিনতে বিকেলে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষাও করতে হয়।

দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশের বেশির ভাগ হোটেল-রেস্তোরাঁ কেবল রমজানেই জিলাপি বিক্রি করে। প্রকারভেদে এবার দাম ২০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি। আর পাঁচ তারকা হোটেলে বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৪ হাজার টাকা কেজিতে।

রাজধানীর ব্যবসায়ীরা জানান, অস্থায়ী ও ছোট দোকানগুলোর প্রতিটিতে পুরো রোজায় প্রায় ৬০ হাজার টাকার জিলাপি বিক্রি হয়। মাঝারি মানের রেস্তোরাঁগুলোতে সেটি দুই থেকে তিন লাখ টাকায় দাঁড়ায়। কারওয়ান বাজারের স্টার হোটেলের মতো অভিজাত রেস্তারাঁয় যার পরিমাণ অন্তত ১৫ লাখ টাকা। সেই হিসাবে দেশের প্রায় সাড়ে চার লাখ হোটেল-রেস্তোরাঁয় মাসজুড়ে বিক্রি হয় প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার। 

ফুটপাত থেকে পাঁচ তারকা হোটেল, রোজায় বিক্রি হাজার কোটি টাকার জিলাপি

রেস্তারাঁগুলোর অবস্থা

স্টার হোটেলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখানে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ কেজি জিলাপি বিক্রি হচ্ছে। দাম ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি। সে হিসেবে প্রতিদিন অন্তত ৫০ হাজার টাকার জিলাপি কেনাবেচা হয়।

হোটেলের ম্যানেজার সাব্বির বলেন, ‘আমরা শুধু রোজাতেই জিলাপি বিক্রি করি। মালাই জিলাপি ৫০০ টাকা কেজি ও ছোট জিলাপি ৪৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন অন্তত ৫০ কেজি বিক্রি হয়। কখনো তা আরও বাড়ে।’

আরও পড়ুন
লোভে পড়ে বেশি জিলাপি খেয়ে ফেললে হতে পারে বিপদ
ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইফতারির রাজকীয় আয়োজন, জিলাপির কেজি আড়াই হাজার
রমজানে মুড়ি মাখায় জিলাপি খাবেন, না এড়াবেন?

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্টারের এক কর্মী জানান, কেবল ১০০ কেজি নয়, ১৫০ কেজি পর্যন্ত জিলাপি এই হোটেল থেকে বিক্রি হয়ে থাকে।

রাজধানীর ফার্মগেটের আনন্দ রেস্টুরেন্টে প্রতিদিন বিক্রি হয় অন্তত ৫০ কেজি। এখানে প্রতি কেজির দাম মোটা জিলাপি ২৫০ টাকা ও চিকন জিলাপি ৩০০ টাকা।

ফুটপাত থেকে পাঁচ তারকা হোটেল, রোজায় বিক্রি হাজার কোটি টাকার জিলাপি

নাম প্রকাশ না করে আনন্দ রেস্টুরেন্টের এক কর্মচারী বলেন, ‘রোজাতেই আমরা জিলাপি বিক্রি করে থাকি। এসময় জিলাপির আলাদা কদর রয়েছে। আমাদের হোটেলে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কেজি বিক্রি হয়।’

অস্থায়ী দোকান

রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় মুদি দোকান চালান বাদশা মিয়া। রোজার মাসে তিনি দোকানের সামনে অস্থায়ীভাবে ইফতারি বিক্রি করেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন অন্তত ১০ কেজি জিলাপি বিক্রি হয়। মানুষকে দিয়ে শেষ করতে পারি না। চাহিদা খুব বেশি থাকে। আমরা প্রতি কেজি জিলাপি ২০০ টাকায় বিক্রি করি।’

বাদশা মিয়ার তথ্য অনুযায়ী, তার অস্থায়ী এ দোকানে প্রতিদিন দুই হাজার টাকার জিলাপি বিক্রি হয়। পুরো রোজায় যার পরিমাণ অন্তত ৬০ হাজার টাকা।

ফুটপাত থেকে পাঁচ তারকা হোটেল, রোজায় বিক্রি হাজার কোটি টাকার জিলাপি

পাঁচ তারকা হোটেল

এবার রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেল দ্য ওয়েস্টিনে এক কেজি জিলাপি বিক্রি হচ্ছে চার হাজার টাকায়। এই রোজায় এটিই খাবারটির সর্বোচ্চ দাম। প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তা বিক্রি হয়েছে তিন হাজার ২০০ টাকা কেজিতে ও আধা কেজি এক হাজার ৭০০ টাকায়।

আরও পড়ুন
ঈদ প্রস্তুতিতে ভুলবেন না এই ৫ স্বাস্থ্যবার্তা
ইফতারের পর ঘুম ও অলসতা কাটানোর ৫ উপায়
ঐতিহ্য-আধুনিকতার মিশেলে জমজমাট রংপুরের ইফতারি বাজার

আরেক পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে ঘিয়ে ভাজা জিলাপির দাম কেজিতে দুই হাজার ৯০০ টাকা। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল থেকে তা কিনতে খরচ করতে হচ্ছে দুই হাজার ৫০০ টাকা। আর আমারি হোটেলে এই দাম দুই হাজার ৮৯৯ টাকা। তবে আধা কেজির দাম এক হাজার ৪৯৯ টাকা।

এর আগে, দেশে এক কেজি জিলাপির সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ২০ হাজার টাকা। ২০২৩ সালে রোজায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এ জিলাপি পাওয়া গিয়েছিল। দামের পেছনে ছিল সোনা। খাবার উপযোগী ২৪ ক্যারেটের সোনার লিফ বা পাতলা পাত দিয়ে মোড়ানো ছিল এ জিলাপি। তখন তা নিয়ে বেশ আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম হয়। তবে এবার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল এমন জিলাপি বাজারে আনেনি। 

রোজায় জিলাপির ‘রাজত্ব’, বাজার প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার

বিক্রি কয়েক হাজার কোটি টাকা

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২১ সালের জরিপ মতে, দেশে হোটেল ও রেস্তোরাঁ ছিল চার লাখ ৩৬ হাজার ২৭৪টি। বর্তমানে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। রমজান মাসে প্রায় সবগুলোই কমবেশি জিলাপি বিক্রি করে থাকে।

এসময়ে রাজধানীর অভিজাত কোনো হোটেলে ১৫ লাখ টাকার ও মাঝারি মানের প্রতিষ্ঠানে দুই-তিন লাখ টাকার জিলাপি বিক্রি হলেও গ্রামের কোনো দোকানে তা ১০ হাজার টাকার নাও হতে পারে। তবে ঢাকার ছোট দোকানের ৬০ হাজার টাকার বিক্রিকে গড় হিসেবে ধরলে সাড়ে চার লাখ দোকানে রোজায় বেচাকেনা দাঁড়ায় দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

ফুটপাত থেকে পাঁচ তারকা হোটেল, রোজায় বিক্রি হাজার কোটি টাকার জিলাপি

এ নিয়ে কথা হলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ২০২১ সালে চার লাখের মতো হোটেল-রেস্তোরাঁ থাকলে, বর্তমানে এটি আরও অনেক বেড়েছে। তবে সবখানে জিলাপি বিক্রি নাও হতে পারে। যেহেতু এটি ফরমাল ইকোনমি বা আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে আসেনি, তাই এর বাজার সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য নেই।

‘রোজার মাসে আমাদের দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অনেক বাড়ে। যদি জিলাপি ধরি, তাহলে এর পেছনে তো আবার চিনি আছে, অন্যান্য কর্মকাণ্ড আছে একে কেন্দ্র করে। সেখানে কিন্তু একটা বাড়তি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সৃষ্টি হয়। চিনির সরবরাহ থেকে শুরু করে তারপর যারা এটি বানায়, এই সময়ে তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় একে ঘিরে,’ যোগ করেন তিনি।

ইএইচটি/একিউএফ