ঐতিহ্য-আধুনিকতার মিশেলে জমজমাট রংপুরের ইফতারি বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর
প্রকাশিত: ০৬:৫৭ পিএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রংপুরে পবিত্র রমজানের প্রথম দিন থেকেই জমে উঠেছে ইফতারির বাজার/ছবি-জাগো নিউজ

রংপুরে পবিত্র রমজানের প্রথম দিন থেকেই জমে উঠেছে ইফতারির বাজার। দুপুরের পর থেকেই নগরীর অলিগলি আর প্রধান সড়কগুলোতে নানা পদের খাবার সাজিয়ে বসছেন বিক্রেতারা। বিক্রিও হচ্ছে বেশ।

ঐতিহ্যের ছোঁয়া ও বৈচিত্র্যময় ইফতারিতে বরাবরের মতো এবারও জায়গা করে নিয়েছে মামা হালিম, বুট বিরিয়ানি, চিকেন হালিম, মাসকাট হালুয়া, দইবড়া, ফালুদা, পাতাবড়া, পাটিসাপটা পিঠা, চিকেন ফ্রাই, শাহি জিলাপি, আলুর চপ, চিকেন রোল, মাঠা, বোরহানি, ভেজিটেবল রোল, নিমকপরা, নিমকি, ডিম চপ, শাক ফ্লোরি, বিফ টোস্ট, চিকেন টোস্ট, জালি কাবাব, মাটন সাসলিক, শামি কাবাব, টিকা কাবাব, চিকেন চপ, চিকেন তন্দুরি, রেশমি জিলাপি, ছানার পোলাও, খাসির রেজালা, খাসির কাবাব, পেঁয়াজু আর বেগুনিসহ অন্তত অর্ধশত খাবার ।

নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড়, পায়রা চত্বর, কাচারী বাজার, মেডিকেল মোড়, সিও বাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। রকমারি খাবাবের সুগন্ধে ভরে উঠেছে চারপাশ।

ঐতিহ্য-আধুনিকতার মিশেলে জমজমাট রংপুরের ইফতারি বাজার

এক লিটার মামা হালিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা, আধাকেজি ৭০ টাকা, শাহি জিলাপি প্রতিপিস ২০ টাকা, বুন্দিয়া কেজি ২৪০ টাকা, পাটিসাপটা পিঠা ৪০ টাকা পিস, বুট ১৬০ টাকা কেজি, চিকেন গ্রিল ১০০ টাকা পিস, চিকেন তন্দুরি ১৩০ টাকা, চিকেন সাসলিং ৭০ টাকা, মাসকাট হালুয়া ৪০০ টাকা, ছানা পোলাও ৩২০ টাকা, নিমকপোড়া ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

গতবছরের তুলনায় এ বছর ইফতারি সামগ্রীর দাম তেমন একটা বাড়েনি বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

ঐতিহ্য-আধুনিকতার মিশেলে জমজমাট রংপুরের ইফতারি বাজার

কাচারি বাজারে ইফতারি কিনতে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা ইমরান মেহেদী জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘সবকিছুর দাম কিছুটা বেশি মনে হলেও ঐতিহ্যের টানেই ইফতারি কিনতে আসা। বিশেষ করে এখানকার জিলাপি আর হালিম ছাড়া আমাদের ইফতার যেন পূর্ণতা পায় না।’

কলেজশিক্ষক হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমার কাছে মহুয়ার নিজস্ব তৈরি হালিম বেশ পছন্দের একটি খাবার। স্বাস্থ্যসম্মত এবং দামও সহনীয়। প্রতিবছর রমজানে এই হালিম কিনি।’

ঐতিহ্য-আধুনিকতার মিশেলে জমজমাট রংপুরের ইফতারি বাজার

বিক্রেতারা জানান, তারা পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে খোলা খাবারের বদলে ঢেকে রাখা বা প্যাকেটজাত খাবারের দিকেই ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে।

মৌবন কনফেকশনারির আব্দুল খালেক জাগো নিউজকে বলেন, ‘মোটামুটি সব ধরনের আইটেমের চাহিদা রয়েছে। দাম গতবছরের মতোই। বিক্রিও ভালো হচ্ছে।’

ঐতিহ্য-আধুনিকতার মিশেলে জমজমাট রংপুরের ইফতারি বাজার

মহুয়া কনফেকশনারির স্বত্বাধিকারী রকি বলেন, ‘বরাবরের মতো এবারও মামা হালিমের কদর রয়েছে। বিশেষ এই হালিম তৈরিতে ২০-২১ ধরনের মসলা ও সাত ধরনের ডাল ব্যবহার করা হয়।’

জিলা স্কুলের সামনে মাঠা বিক্রেতা উমর সিদ্দিক জানান, তিনি মাঠা তৈরি করেন দুধ, চিনি, টক দই, লবণ ও এলাচ দিয়ে। সুস্বাদু হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় তার মাঠা। সাধারণ সময়ের চেয়ে এখন একটু বেশি বিক্রি হচ্ছে। দিনে ২০-২৫ লিটার বিক্রি হচ্ছে। প্রতি গ্লাস ২০ টাকা ও এক লিটার ১২০ টাকা হিসেবে মাঠা বিক্রি করেন।

জিতু কবীর/এসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।