ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

মার্চ-২৮

গণহত্যা ও প্রতিরোধ, রণপরিস্থিতি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৩:২৬ পিএম, ২৮ মার্চ ২০২৬

১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক কর্তৃপক্ষ সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে কারফিউ শিথিলের ঘোষণা দেয়। পরে তা বিকেল ৪টা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। এর আগে ২৫ মার্চ রাতে ঢাকা শহরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিল পাকিস্তানি সেনারা। ২৮ মার্চ দুপুরের দিকে শহরের কিছু অংশে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হলেও আতঙ্কের ছায়া থেকে যায়।

কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার সংবাদে বলা হয়, দুই দিনে প্রায় এক লাখ বাঙালি নাগরিক নিহত হয়েছে। অপরদিকে ‘দ্য পাকিস্তান অবজারভার’ চার পৃষ্ঠার কাগজে পাকিস্তানি সরকারের প্রেস নোট ও খবরগুলো ছাপা হয়। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের ২৬ মার্চের বেতার ভাষণও পুরোটা ছাপা হয়। এছাড়া ছোট করে শেখ মুজিবুর রহমানের গ্রেফতারের খবরও উল্লেখ করা হয়।

আন্তর্জাতিক জনমতের মধ্য দিয়ে গণহত্যার প্রতিবাদ ও স্বাধীনতার দাবিতে প্রবাসী বাঙালিরা লন্ডনে বিশাল সমাবেশ ও বিক্ষোভে অংশ নেন। বিদেশিরাও এতে সমর্থন জানায়।

চট্টগ্রামে দক্ষিণ থেকে বালুচ রেজিমেন্ট, উত্তর থেকে চট্টগ্রাম সেনানিবাস এবং কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থেকে আগ্রাসী পাকিস্তানি সেনাদের হামলার ফলে বাঙালি সেনা, ইপিআর, পুলিশ ও সাধারণ জনগণ প্রতিরোধে টিকে থাকতে পারেনি। নৌবাহিনী চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে গোলা নিক্ষেপ করে, নৌবন্দর এলাকায় বাঙালি নৌসেনাদের হত্যা করে।

পুরান ঢাকায় জগন্নাথ কলেজ সংলগ্ন পরিত্যক্ত ভবনে ৮৮ জন বাঙালি শিক্ষক, শিল্পী ও সাধারণ নাগরিককে হত্যা করা হয়। বিউটি বোর্ডিং, প্যারিদাস রোড, ফরাশগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বাঙালিদের ধরে আনা হয়। ইংলিশ রোড ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আগুনে পোড়া মরদেহ ও ধোঁয়া দেখা যায়।

সিলেটে এমসি কলেজের কাছে চা শ্রমিকদের হত্যা করা হয়, খাদিমনগরে চা বাগানে শ্রমিকদের গুলি করে ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। রংপুর শহর ও সেনানিবাসের আশেপাশের এলাকার বাঙালি জনগণ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিরোধে অংশ নেয়। শতাধিক বাঙালি শহীদ হয়। সাঁওতালদের ছোঁড়া তীরে কয়েকজন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়।

পাবনা শহরেও যুদ্ধ শুরু হয়। সান্ধ্য আইন ভঙ্গের অভিযোগে ১০ জনকে হত্যা করা হয়। পরে পাকিস্তানি সেনারা টেলিফোন এক্সচেঞ্জে আশ্রয় নেয়, যা ঘিরে ফেলে সংগ্রামী জনতা। গোলাগুলিতে সব পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়।

নোয়াখালীতে আবদুল মালেক উকিলের নেতৃত্বে ইপিআর ও আনসার সদস্যদের সংগঠিত করে সমগ্র অঞ্চলে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর, পাবনা, নোয়াখালী, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন শহর ২৮ মার্চও গণহত্যার ভয়াবহ পরিস্থিতি ছিল। শহরগুলোতে শান্তি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা চলছিল, তবে নিরাপত্তাহীনতার পরিস্থিতি ছিল প্রবল।

তথ্যসূত্র: রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদীর ‘৭১ এর দশমাস’, জাহানারা ইমামের ‘একাত্তরের দিনগুলি’।

এমএএস/​এমএমকে