ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

দুর্নীতি ও অবহেলায় স্বাস্থ্য খাত স্থবির, সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৭:৫৭ পিএম, ৩১ মার্চ ২০২৬

স্বাস্থ্য খাতে বিগত সরকারের সীমাহীন দুর্নীতির কারণে চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং অনেক জায়গায় ভেঙে পড়েছে। ফলে স্বাস্থ্য খাত স্থবির হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসানের ৭১ বিধিতে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের ওপর আলোচনার সময় তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সবার জন্য স্বাস্থ্যনীতির আলোকে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো সর্বজনীন স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রত্যেক নাগরিককে মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া। দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।

আরও পড়ুন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ দিন অনলাইন ৩ দিন অফলাইনে ক্লাস 
সিগারেটের দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত এনবিআর চেয়ারম্যানের 

সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিগত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতে কোনো উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম নেওয়া হয়নি। বিগত সরকারের সীমাহীন দুর্নীতির কারণে স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন অবকাঠামো সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় চিকিৎসাসেবা মারাত্মক ব্যাহত হয়েছে। অনেক জায়গায় অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে।

তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ফুলবাড়িয়া স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ১৯৬৫ সালে নির্মিত একটি জীর্ণ স্থাপনা, বিগত দেড় দশকে কোনো সংস্কার কার্যক্রম নেওয়া হয়নি। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতকে যুগোপযোগী করতে বদ্ধপরিকর। আগামী অর্থবছরে ফুলবাড়িয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে নির্মাণকাজ শুরু করার বিষয় বিবেচনাধীন রয়েছে।

সংসদ সদস্য কামরুল হাসানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সমস্যার মধ্যে রয়েছে অ্যাম্বুলেন্সের অভাব, সন্ধ্যার পরে ডাক্তারদের নিরাপত্তার অভাব, ডাক্তারদের বসার জায়গার অভাব, রোগীর সংকুলান না হওয়া এবং শয্যার সংখ্যা ১০০ থেকে ২০০ বৃদ্ধি প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এসব সমস্যা শুধু ওইখানে নয়, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনার পরিসর বৃদ্ধি হওয়া দরকার। কিন্তু বিগত ১৭ বছরে এ দিকে কোনো মনোযোগ দেওয়া হয়নি। জনগণের চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে হাসপাতালের সম্প্রসারণ বা লজিস্টিকস বাড়ানো হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আগামী বাজেটের পর লজিস্টিকস বৃদ্ধি, ডাক্তার ও নার্সের সংখ্যা বৃদ্ধি, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পরিসর বৃদ্ধি করার কাজ শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ নতুন নিয়োগের জন্য কর্মপরিকল্পনা নিয়েছেন। সরকার পর্যায়ক্রমে এসব সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করবে।

কেএইচ/কেএসআর