ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: দুশ্চিন্তায় প্রবাসীরা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৯:০৩ এএম, ০১ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবনে। কাজ চালু থাকলেও নিরাপত্তা ঝুঁকি, আয় কমে যাওয়া এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে তারা পড়েছেন অনিশ্চয়তার মধ্যে।

বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলভুক্ত দেশগুলোতে লাখো প্রবাসী শ্রমিক নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত। হাসপাতাল, পরিবহন, নিরাপত্তা, খাদ্য সরবরাহ-সবখানেই তাদের উপস্থিতি অপরিহার্য। কিন্তু সংঘাতের কারণে তাদের জীবন এখন হয়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, অনেক শ্রমিক এখন একদিকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, অন্যদিকে কাজ ও আয়ের অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিভাগের উপ-পরিচালক মাইকেল পেজ বলেন, এই সংকট বিদ্যমান শ্রমব্যবস্থার দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করেছে, বিশেষ করে কাফালা পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা।

সংঘাত-সম্পর্কিত ঘটনায় এরই মধ্যে কয়েকজন প্রবাসী শ্রমিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বাংলাদেশিও রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

শ্রমিকদের ভাষ্য, প্রতিদিনই আতঙ্ক নিয়ে কাজে যেতে হয়। একজন কাতার প্রবাসী শ্রমিক বলেন, কখন কোথায় বিস্ফোরণ হবে তা জানা নেই, তবুও পরিবারের কথা ভেবে কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

একই সঙ্গে কমে গেছে আয়। বিশেষ করে যারা কমিশনভিত্তিক কাজে যুক্ত, যেমন ড্রাইভার বা ডেলিভারিকর্মী, তাদের আয় অনেক ক্ষেত্রে অর্ধেকেরও কমে নেমে এসেছে। কুয়েতে কর্মরত এক ট্যাক্সিচালক জানান, এখনকার আয় দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। শ্রমিকরা বলছেন, অনেক খাদ্যপণ্যের দাম আগের তুলনায় দ্বিগুণ বা তিনগুণ পর্যন্ত বেড়েছে। কম আয়ের শ্রমিকদের বেশির ভাগই ছোট দোকান থেকে কেনাকাটা করেন, যেখানে দাম তুলনামূলক বেশি।

পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতেও পড়েছে প্রভাব। অনেক কর্মীকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হচ্ছে, কারও বেতন কমানো হচ্ছে, আবার কেউ চাকরি হারাচ্ছেন। কিছু ক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিজ খরচে দেশে ফেরার কথাও বলা হচ্ছে, যা তাদের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, গালফ দেশগুলোর উচিত শ্রমিকদের সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া। সংস্থাটি ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, সামাজিক নিরাপত্তা বাড়ানো এবং প্রয়োজন হলে শ্রমিকদের দেশে ফেরার সুযোগ সহজ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গালফ অঞ্চলের অর্থনীতি সচল রাখতে প্রবাসী শ্রমিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই সংকটের সময় তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠেছে।

জেপিআই/এমআরএম