ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

ভাসমান জীবনে আশ্রয়

সালাহ উদ্দিন জসিম | সিরাজগঞ্জ থেকে | প্রকাশিত: ০৫:০৫ পিএম, ২৫ এপ্রিল ২০২২

নদীভাঙনে নিয়ে গেছে সব। ভাসমান জীবন। নেই ভিটেমাটি, মাথাগোঁজার ঠাঁই। অন্যের বাড়ি বা ভাড়াবাড়িতে নিম্ন আয়ের মানুষদের সংগ্রামী জীবনযাপন চরম কষ্টের। এ কষ্টের অবসান হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প তাদের সুখের হাতছানি দিয়েছে। স্বস্তি এসেছে জীবনে, হাসি ফুটেছে মুখে।

সোমবার (২৫ এপ্রিল) সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলে এমন স্বস্তি ও সুখের গল্প উঠে এসেছে। এখানে তৃতীয় ধাপে ৪৪টি পরিবারকে দুই শতক জমিসহ সেমিপাকা ঘর দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী এগুলো আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর করবেন।

এখানে ঘর পাওয়াদের একজন সামিয়া বেগম। ষাটোর্ধ্ব এ নারীর বাড়ি খলিশাকুড়া। ভাড়া থাকেন। স্বামীর বাড়ি ছিল, নদীভাঙনে চলে গেছে। স্বামীও মারা গেছেন অনেক আগেই। এক ছেলে নিয়ে সংগ্রাম করে চলেছেন। ছেলের রিকশা চালানোর আয় দিয়ে চলেছে সংসার। কিন্তু ঘরবাড়ি করার টাকা পাবে কই?

jagonews24

তিনি বলেন, ‘ঘরবাড়ি করা তো আমাদের জন্য দুঃস্বপ্নের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জমি ও ঘর দেওয়ায় খুশি হইছি। তার জন্য দোয়া করমু। সে যেন দুনিয়ায় শান্তি পায়, পরকালেও শান্তি পায়। আমরা অসহায়, আমাদের স্থান দিছে। পরকালে আল্লাহও তাকে স্থান দিবো।’

ঘর পাওয়া আরেকজন স্বামী পরিত্যক্তা মাজেদা। ভাড়া থাকেন। স্বামী ছেড়ে চলে গেছে। বাপের বাড়ি খোকশাবাড়ি। স্বামীর বাড়ি শালুয়াভিটা। তারও কিছু ছিল না। এক ছেলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। এক মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আগে তো সবার লাত্থি খাইছি, থাকার জায়গা পাই নাই। এখন একটু থাকার জায়গা পাইছি। এটাই ভালো লাগছে। আমি খুশি আছি।’

তাদেরই একজন শরিফা। থাকতেন খোকশাবাড়ি বাপের বাড়ি। এক ছেলে দুই মেয়ে। বড় মেয়ে মাদরাসায় পড়ে তৃতীয় শ্রেণিতে, আরেকজন প্রথম শ্রেণিতে। ছেলের বয়স চার। স্বামী নাজমুল রিকশাচালক, শিমলা আফানিয়া নদীভাঙনের মানুষ, বাড়ি নেই।

তিনি বলেন, ‘আমরা ঘর পেয়ে খুশি। আল্লাহর কাছে দোয়া করি, মানসম্মানসহ যাতে থাকতে পারি। এখানেই যেন মরণ হয়।’

শরিফার স্বামী নাজমুল বলেন, ‘আমরা নদীভাঙা মানুষ। ভাঙতে ভাঙতে এখানে আইছি। বাপমা তো নাই, থাকি শ্বশুরবাড়ি। এখন একটা বাড়ি পাইছি, এটাই আনন্দের। আমাদের ভাসমান জীবনের আশ্রয় হয়েছে।’

jagonews24

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাশুকাতে রাব্বী জাগো নিউজকে বলেন, তৃতীয় ধাপে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় ৯৩টি ঘর আমরা করছি, ৮২টি প্রস্তুত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ এপ্রিল এগুলো আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর করবেন। এরমধ্যে খোকশাবাড়িতে ৪৪টি ঘর। এখানে মোট ২৬৬ পরিবারকে ঘর দিচ্ছি। এর আগে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে ১০০ ও ১২২টি ঘর দেওয়া হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মেদ বলেন, সিরাজগঞ্জ জেলায় আমরা তৃতীয় ধাপে ৫৩৩টি ঘর নির্মাণ করছি। ইতোমধ্যে ৪০৯টি প্রস্তুত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করবেন। তিনধাপ মিলে সিরাজগঞ্জে আমরা এক হাজার ৮১০টি ঘর করেছি। এখানে (খোকশাবাড়ি) ২৬৬ পরিবারকে এখানে আমরা আশ্রয় দিয়েছি।

তিনি বলেন, শুধু জমি আর সেমিপাকা ঘরই দেইনি, আমরা এখানে সব নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করেছি। সুপেয় পানি ও বিদ্যুতের পাশাপাশি মসজিদ, খেলার মাঠ, বিশ্রামগার, পুকুর ও ঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ সব সুবিধা আছে। তাতে সুবিধাভোগীদের জীবনমান পাল্টে গেছে।

এসইউজে/বিএ/এএসএম