ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

বিমানের বড় আয়ের খাত হাতছাড়া হচ্ছে

প্রকাশিত: ০২:৩৯ পিএম, ২৮ মার্চ ২০১৬

বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং থেকে সবচেয়ে বেশি আয় হলেও এই খাতটি হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে বিমানের। অংশীদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করার মধ্যদিয়ে হাতছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে এ খাত থেকে বিমানের গড় বার্ষিক আয় প্রায় ২৮০ কোটি টাকা। এ আয় থেকেই বিমানের প্রায় পাঁচ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাসিক বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়। সর্বোচ্চ আয়ের এ খাতটি হাতছাড়াকে বিমানের এক হাত ভাঙ্গার শামিল বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

বিমান সূত্রে জানা যায়, ১৮ মার্চ ওই দরপত্র আহ্বান করা হয়। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে বিমানের সঙ্গে ১০ বছর কাজের জন্য চুক্তি করতে হবে। দুই পক্ষ সম্মত হলে পরবর্তীতে এ মেয়াদ বাড়ানো যাবে। বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কাজের মধ্যে রয়েছে বোর্ডিং পাস ইস্যু, ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং, কার্গো লোড-আনলোড ও এয়ারক্রাফট সার্ভিসসহ বিভিন্ন কার্যক্রম। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশাপাশি চট্টগ্রামের শাহ আমানত ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্বেও রয়েছে বিমান।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন দেশীয় চারটি বিমান সংস্থার প্রায় ৫০টি ছাড়াও ১৮টি দেশের ২৫টি বিমান সংস্থার প্রায় ১০০ উড়োজাহাজ ওঠানামা করে। তবে বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং নিম্নমানের বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। ফ্লাইট ল্যান্ড করার পর বেল্টের মাধ্যমে যাত্রীর কাছে লাগেজ আসতে অনেক সময়ই ৩-৪ ঘণ্টা লেগে যায়। অনেক যাত্রীর লাগেজ পাওয়াও যায় না। বেশির ভাগ সময় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে বিমানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকেন না। ফলে যাত্রী হয়রানির পাশাপাশি বিমানবন্দরের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হয়। এ কারণে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ লোকবল এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতায় বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো দীর্ঘদিন একাধিক প্রতিষ্ঠানকে হ্যান্ডলিং এজেন্ট হিসেবে নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছে।

এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ শাখার মহা-ব্যবস্থাপক খান মোশারফ হোসেন বলেন, দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং বা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট সেবা খাতে কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এছাড়া এ খাতে বড় কোনো এয়ারলাইনস বা গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এজেন্টের সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্ব, কারিগরি সহযোগিতা, ব্যবস্থাপনা চুক্তি-বিষয়ক কাজ করার অভিজ্ঞতাও থাকতে হবে। পাশাপাশি থাকতে হবে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কর্মী প্রশিক্ষণসহ গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম আধুনিকায়নের পূর্ণ আর্থিক সক্ষমতা। আগ্রহী প্রতিষ্ঠান যৌথ চুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা পাওয়া নতুন প্রতিষ্ঠানের মালিকানা না পেলেও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং থেকে আয়ের লভ্যাংশ পাবে। দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহীদের আগামী ১৮ এপ্রিলের মধ্যে আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে বিমান কর্মচারীদের ধর্মঘটের কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রায় ৫ ঘণ্টা অচল থাকে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সে সময় বেবিচক বিকল্প গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এজেন্ট নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে না রেখে তার সঙ্গে অন্য কাউকে যুক্ত করা দরকার। এ বিষয়ে বিভিন্ন যুক্তিও দেখানো হয়। এছাড়া বিমানের মতো শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে পুরো দায়িত্ব থাকলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে, চিঠিতে তাও উল্লেখ করা হয়। তবে বিমানকর্মীদের অব্যাহত আন্দোলনের মুখে সে পরিকল্পনা থেকে সরে আসে মন্ত্রণালয়। এছাড়া ২০০৬ সালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের জন্য একটি স্বতন্ত্র কোম্পানি গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যার ওপর বিমানের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিরও অনুমোদন মেলেনি।

আরএম/এআরএস/এবিএস