ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. মতামত

অর্থনৈতিক খাতের স্বাভাবিক গতি ফেরাতে হবে

মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বাদল | প্রকাশিত: ০৯:৩৯ এএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিশাল বিজয় দেশের রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আস্থাহীনতার পর এই জন রায়- দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করবে। এখন দেখার বিষয় সরকার গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় এই বিজয় আগামীর বাংলাদেশকে কীভাবে গড়ে তুলবে? তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা যত বড়ই হোক, কার্যকর শাসনের জন্য দরকার দক্ষ মন্ত্রিসভা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং নীতিগত স্বচ্ছতা। সরকারের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান এটা নিশ্চিত। আমি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে অভিনন্দন আগামীর প্রধানমন্ত্রীকে। আগাম স্বাগত জানাই নতুন সরকারকে। তার নেতৃত্ব, দলীয় কাঠামোর পুনর্বিন্যাস এবং জোট-রাজনীতির ভবিষ্যৎ- সবই এখন আলোচ্য বিষয়।  এসব বিষয় নিয়ে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা নিশ্চয়ই লিখবেন। একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে আমার দৃষ্টি দেশের অর্থনীতির দিকে।

সদ্য নির্বাচিত বিএনপি সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে যে অর্থনীতি পেয়েছে তা আক্ষরিক অর্থেই এক ধরনের ধ্বংসস্তূপ। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, ব্যাংকিং খাতের চরম বিশৃঙ্খলা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের নজিরবিহীন সংকট সব মিলিয়ে দেশের অর্থনীতি এক গভীর খাদে অবস্থান করছে। ভবিষ্যৎ অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে একটি মিশ্র ও অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পূর্বাভাস দিয়েছে- যা নতুন সরকারের জন্য এক ভয়াবহ সতর্কবার্তা। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) মনে করে ২০২৫ সালে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৪.০ শতাংশ এবং ২০২৬ সালে তা ৫.০ শতাংশে দাঁড়াবে; একই সময়ে মূল্যস্ফীতির হার যথাক্রমে ১০.০ শতাংশ এবং ৮.০ শতাংশ হবে বলে তারা পূর্বাভাস দিয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৪.৯ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি থাকবে ৮.৭ শতাংশের ঘরে। এই উপাত্তগুলো স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে, আগামী কয়েক বছর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের আশপাশেই স্থবির হয়ে থাকবে এবং মূল্যস্ফীতির হার উদ্বেগজনকভাবে বেশি থাকবে।

স্বীকার করতে হবে বাংলাদেশের অর্থনীতি নানা চাপে রয়েছে- উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, জ্বালানি ব্যয় এবং রপ্তানি বাণিজ্য। তাই নতুন সরকারের জন্য প্রথম চ্যালেঞ্জ হবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। বাজেট শৃঙ্খলা, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং দুর্নীতি দমন- এই তিনটি বিষয়ে দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রত্যাশিত। পোশাক খাত, প্রবাসী আয় ও কৃষি- এই তিন স্তম্ভকে শক্তিশালী করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। তাই অংশীদারদের সঙ্গে আস্থা পুনর্গঠনও গুরুত্বপূর্ণ। তাই বলা চলে নতুন সরকারের চলার পথটা মোটেই সহজ হবে না।

ভুলে গেলে চলবে না, এই নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার গঠিত হতে চলেছে, তা নিছক এক সরকার থেকে আরেক সরকারে পরিবর্তন নয়। মাঝে দেড় বছরের বেশি সময় ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যারা নির্বাচিত সরকার নয়। ফলে তাদের নিয়মিত দায়িত্ব পালনের বাইরে দেশের বৃহত্তর স্বার্থের বিষয়গুলো সেভাবে দেখার সুযোগ হয়নি। এই ধরনের আপৎকালীন সরকার দীর্ঘদিন রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার ফলে অনেক সমস্যা বরং জটিল হয়েছে। আর এসবের সমাধান করতে হবে নতুন সরকারকে। ইতোমধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে নতুন সরকারের প্রতি জনআস্থা কমবে।

উল্লেখ করা যায়, বিগত দেড় বছরে আমাদের দেশের অর্থনীতির অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে অনেক বেশি ব্যস্ত থাকায় দেশের অর্থনীতি কার্যত অবহেলিতই ছিল। দেশখ্যাত অর্থনীতিবিদের ওপর অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব দেওয়া হলেও, তারা সেরকম কোনো ভূমিকাই রাখতে পারেনি। বিনিয়োগ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। নতুন বিনিয়োগ সেভাবে আসেনি। উল্টো চলমান বিনিয়োগও অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ হয়ে গেছে। অসংখ্য উৎপাদন কেন্দ্র বা ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে গেছে।

আমদানি, রপ্তানি দুটোই হ্রাস পেয়েছে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি, উল্টো অসংখ্য মানুষ চাকরি হারিয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি হ্রাসের নাম করে বাংলাদেশ ব্যাংক সুদের হার বাড়ানো হয়েছে, কিন্তু মুদ্রাস্ফীতি কমেনি, উল্টো বিনিয়োগ ব্যাহত হয়েছে উচ্চ সুদের হারের কারণে। এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সম্প্রদায়। এর সার্বিক প্রভাব পড়েছে দেশের মোট উৎপাদন বা জিডিপির ওপর- যা এক সময়ের ছয় শতাংশের ওপর থেকে তিন শতাংশের কাছে চলে এসেছে। ফলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনীতিতে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। মানুষের হাতে খরচযোগ্য অর্থের প্রবাহ কমে গেছে। দ্রব্যমূল্যের মাত্রাতিরিক্ত ঊর্ধ্বগতি, অনেকের চাকরি হারানো, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না হওয়া এবং এরকম আরও অনেক বিষয় আছে, যা অর্থনীতির মৌলিক উপাদানের সঙ্গে জড়িত।

দেশের অর্থখাতে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রয়োজন সমন্বিত ও বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ। সবচেয়ে বড় কথা, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি. সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে কোনো স্বস্তি আসবে না। আমি মনে করি, কার্যকর সংস্কার ও দায়িত্বশীল নীতির মাধ্যমেই দেশের অর্থখাতে স্থিতিশীলতা ও আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

ব্যবসায়ীদের অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে, ব্যাংকঋণ এবং পরিচালনা মূলধন সংগ্রহ করা। এটা বাস্তবতা যে, আমাদের দেশের ব্যবসা বরাবর ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরশীল। অপ্রিয় হলেও সত্য, অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এবং গভর্নর যথেষ্ট সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করেছে। ফলে বিনিয়োগের জন্য ঋণের প্রবাহ কমে গেছে। একদিকে সরকারের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি, অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতের ওপর কঠোর কড়াকড়ি। ফলে ব্যাংকগুলো নতুন ঋণ মঞ্জুর প্রায় বন্ধই করে রেখেছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে অনুমোদন করা ঋণ বিতরণ করতে ব্যাংক অপারগতা প্রকাশ করেছে। ফলে অধিকাংশ ব্যবসায়ী বিনিয়োগ এবং পরিচালনা মূলধন সংগ্রহ করতে গিয়ে মারাত্মক সমস্যায় পড়েছেন।

যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর।  প্রথমত. ঋণের ওপর সুদের হার অনেক বেশি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঋণের ওপর ১৫% বা তার থেকেও বেশি হারে সুদ প্রদান করতে হয়। এত উচ্চ হারে সুদ দিয়ে কোনো ব্যবসায়ীর পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব নয়। এত উচ্চ হারে সুদ দিলে গৃহীত ঋণ প্রতি পাঁচ বছরে দ্বিগুণ হয়ে যাবে, যা কোনো ব্যবসায়ীর পক্ষে স্বাভাবিক নিয়মে ব্যবসা করে পরিশোধ করা সম্ভব নয়। ঠিক এরকম কঠিন আর্থিক সমস্যার মধ্যে পড়ে আছে আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা। তাই নতুন সরকারের প্রথম কাজ হবে ঋণের ওপর সুদের হার হ্রাস করে সিঙ্গেল ডিজেটে ফিরিয়ে আনা।

অর্থনীতি এক বিশাল খাত। আমি মনে করি, নতুন সরকারকে প্রথম দৃষ্টি দেওয়া উচিত অর্থ খাতে। বিশেষ করে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের দিকে। কারণ দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে। অনেকের ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকে ক্ষতি মেনে ব্যবসা চালু রাখার চেষ্টা করছেন। তাই কোথা থেকে শুরু করে কীভাবে এগিয়ে নিলে এই খাত ঘুরে দাঁড়াবে, গতি আসবে সেটা সরকারকে নির্ধারণ করতে হবে।

আরেকটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া জরুরি- আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে যে, দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় বিগত দেড় বছর ধরে সমস্যার মধ্যে আছে, কিন্তু বাস্তবে বিগত পাঁচ বছর ধরেই এক ধরনের সংকট এবং সমস্যার মধ্য দিয়ে চলছে। ২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে বিশ্ব-অর্থনীতি মন্দার মধ্যে পড়লে, আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরাও মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হন। সেই সমস্যা ভালোভাবে কাটিয়ে ওঠার আগেই শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, যার প্রভাবে দেখা দেয় উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং চরম ডলার সংকট, যার কারণে দেশের ব্যবসায়ীরা মারাত্মক এক সংকটের মধ্যে পড়ে যায়। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই রাজনৈতিক অস্থিরতা, যার প্রভাবে দেশের ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে বিগত দেড় বছরে অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি আমরা ব্যবসায়ীরা মারাত্মক এক আস্থার সংকটে পড়েছি। আমার মনে হয় না, আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা এর আগে কখনও এরকম চরম সংকটে পড়েছেন।

দেশে গণঅভ্যুত্থানও আগে হয়েছে এবং সরকার পরিবর্তনও হয়েছে অনেকবার।কিন্তু ব্যবসায়ীরা এবারের মতো সংকটে পড়েনি। অনেকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আক্রান্ত হয়েছে, অনেকের বিনিয়োগ বিঘ্নিত হয়েছে, অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কারখানা আক্রান্ত হয়েছে এবং এমনকি অনেক ব্যবসায়ী দেশের বাইরে যেতে পারেননি বিদেশি ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার জন্য। এরকম অবস্থায় কোনো ব্যবসায়ীই বিনিয়োগে আগ্রহী হতে পারে না। নতুন সরকারের উচিত প্রথমেই দেশের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে বা আনুষ্ঠানিক বৈঠক ডেকে তাদের আস্থার সংকট কাটানোর উদ্যোগ নেওয়া।

আমি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে মনে করি, বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনীতিকে সঠিকপথে ফেরাতে হলে সাহসী সিদ্ধান্ত, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিকল্প নেই। সে ক্ষেত্রে এখনই যা করা দরকার- বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ জরুরি। ব্যাংকিং খাতেও সংস্কার অপরিহার্য। খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট এবং শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা অর্থনীতির ভিত নড়বড়ে করে তুলেছে। নতুন সরকারকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা বাড়ানো। একই সঙ্গে করব্যবস্থা সহজ ও ন্যায্য করে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো- যাতে উন্নয়ন ব্যয় টেকসইভাবে মেটানো যায়।

মনে রাখা দরকার, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও রপ্তানি আয়ও এখন গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তাই তৈরি পোশাক, প্রবাসী আয় এবং কৃষি- এই তিন খাতকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। রপ্তানি বাজার বৈচিত্র্যকরণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা আসবে না। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিগত ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ব্যয়ও অর্থনীতির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে। বাস্তবসম্মত ভর্তুকি নীতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং অপচয় রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে শিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা বাড়ানো জরুরি- যাতে তরুণ জনগোষ্ঠী উৎপাদনশীল শক্তিতে রূপ নেয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসন নিশ্চিত করা। অর্থনৈতিক সংস্কার কাগজে নয়, বাস্তবে কার্যকর হতে হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে, জনগণও স্বস্তি পাবে।

দেশের অর্থখাতে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রয়োজন সমন্বিত ও বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ। সবচেয়ে বড় কথা, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি. সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে কোনো স্বস্তি আসবে না। আমি মনে করি, কার্যকর সংস্কার ও দায়িত্বশীল নীতির মাধ্যমেই দেশের অর্থখাতে স্থিতিশীলতা ও আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

লেখক : কলাম লেখক ও শিল্পো-উদ্যোক্তা।

এইচআর/জেআইএম