ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. মতামত

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের আশু করণীয়

ড. এম এম আকাশ | প্রকাশিত: ০২:৫৮ পিএম, ৩১ মার্চ ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করে তার নেতৃত্বে বিএনপির দলীয় সরকার গঠিত হয়েছে। নতুন সরকার পূর্ববর্তী ইউনূস সরকারের অর্থনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। কাজেই উত্তরাধিকার সূত্রে এ সরকার কী কী সমস্যা পেয়েছে তা আগে চিহ্নিত করা প্রয়োজন।

বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে অনুকূল/প্রতিকূল উভয় প্রকার অর্থনৈতিক অবস্থা পেয়েছে।  বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে অর্থনীতির যেসব ভালো জিনিস পেয়েছে তার মধ্যে সবার আগে উল্লেখ করতে হয় বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের স্থিতি। আওয়ামী লীগ সরকার চলে যাওয়ার পরপরই এক পর্যায়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস পেয়েছিল। আগে যে উচ্চ পরিমাণটা দেখানো হতো তা কিছুটা পরিমাপ এর কারসাজি আর কিছুটা অস্থীতিশীলও ছিল। নানাভাবে চেষ্টার ফলে বিশেষত আইএমএফের মুদ্রামানের অবমূল্যায়নের Mixed Blessing প্রেসক্রিপশন অনুসরণ করার পর, রেমিট্যান্সপ্রবাহ ও রপ্তানি বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয় এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের স্থিতি ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়। বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে স্বস্তিদায়ক বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের স্থিতি পেয়েছে। কিন্তু পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের চাপও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এর পাশাপাশি বর্তমান নতুন সরকার খারাপ জিনিস যেটা পেয়েছে তা হলো আইএমএফ প্রদত্ত বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ অত্যন্ত বেড়ে গেছে। বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ যখন পড়বে তখন রিজার্ভের অর্জিত স্ফীতি ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। নতুন শর্তারোপের ফলে মুদ্রামানের অবমূল্যায়নের জন্য অতিরিক্ত চাপ আরও বাড়তেও পারে। ফলে সব আমদানি দ্রব্যের দাম অনেক বেশি বেড়ে যাবে ফলে ‘কষ্ট পুশ’ ইনফ্লেশনের চাপও বাড়বে। বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ভালো অবস্থায় থাকার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে আমদানি ব্যয় মেটাতে হয়তো আশু অসুবিধা হবে না। কিন্তু তেল সংকটের চাপ খুবই অনিশ্চিত আশঙ্কায় আছে। দাম বাড়ার চেয়ে দুষ্প্রাপ্যতাই প্রধান ইস্যু হয়ে যেতে পারে। তখন নানা খাতের মজুতদার ও ব্যবসায়ীরা Scarcity Premium উপভোগের সুযোগ পাবেন।

সুতরাং বর্তমান নতুন সরকার অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কিছু সুবিধা এবং কিছু আশঙ্কা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন যে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ফলে তেলের দাম যদি অসম্ভব বেড়ে যায় তখন চাপ ঠেকানোর জন্য সরকারকে আরও সচেতন প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ ও রেশনিংয়ের দিকে যেতে হতে পারে।

সামগ্রিকভাবে নতুন সরকারের মধ্যে একধরনের অর্থনৈতিক আশঙ্কা ও অস্বস্তি আছে! কি হয় কি হয়— এরকম একটি ভাব! আওয়ামী লীগ সরকার যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় দীর্ঘকাল ধরে অগণতান্ত্রিক ভাবে আসীন ছিল তখন তারা ক্রোনি ক্যাপিটালিজমের আওতায় নানা রকম দুর্নীতি ও লুটপাটের একটি ফ্রী স্টাইল আবহাওয়া সৃষ্টি করেছিল যার মাত্রা পরে কিছুটা প্রত্যক্ষ-অপ্রত্যক্ষ পরিমাপের চেষ্টা ‘শ্বেতপত্রে’ অর্থনীতিবিদরা করেছিলেন।

সেটা ছিল একটি অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক মৌলিক কাঠামোগত পুঞ্জীভূত সমস্যা। তা দু-চার বছরে সহজে যাওয়ার নয়। কারণ এ সমস্যার সৃষ্টিকর্তারা সমাজে বিদ্যমান কায়েমি স্বার্থের ত্রিভূজ ক্ষমতা কাঠামো গড়ে তুলেছেন। সেটা ভাঙা সম্ভব হয়নি। তথাকথিত তরুণদের ‘আগস্ট বিপ্লব’ তো তা পারেইনি, যে কয়েকটা কসমেটিক সুশাসন শুরু হযেছিল তাও থেমে গেছে। তারা আসলে অর্থনৈতিক সংস্কারের চেয়ে উপরি কাঠামোর নানা এলোমেলো সংস্কার নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন বেশি।  

অবশ্য দেশের অর্থনীতিতে লুটপাট ও অল্প কিছু লোকের মাত্রাতিরিক্ত সম্পদ বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈষম্য সৃষ্টির প্রক্রিয়া স্বাধীনতার পর থেকেই কম-বেশি চালানো হয়েছিল। সব সময় রাষ্ট্রীয় অর্থ-সম্পদ লুটপাট ও অপচয় করার বিষয়টি নানা কায়দায় অব্যাহত ছিল। সরকার সমর্থিত কতিপয় (সকলে নয়!) ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, সামরিক-বেসামরিক উচ্চপদস্থ আমলা ও উচ্চ রাজনৈতিক আসনে আসীন রাজনীতিবিদরা তাদের ত্রিভুজ ক্ষমতা কাঠামোর মাধ্যমে- রাষ্ট্রীয় খাতে, বাজারে, মেগা প্রকল্পে ও ব্যাংকখাতে ব্যাপক লুটপাট সবসময়ই কম-বেশি চালিয়ে আসছিলেন।

বর্তমানে কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আবার বিতর্কও রয়েছে। যেমন জ্বালানি খাত এবং বন্দর এই দুই স্ট্রাটেজিক সেক্টরে বিদেশি বিনিয়োগ আহরণের ক্ষেত্রে আমাদের বিশেষ ভাবে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এগুলো কৌশলগতভাবে একটি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি এবং বন্দর ব্যবস্থাপনা যাদের হাতে থাকবে তারা সব অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। ব্যাংকিং সেক্টরের জন্যও কথাটি প্রযোজ্য। এগুলো যদি মুক্ত বিনিয়োগ ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে যাওয়া হয় তাহলে নিয়ন্ত্রণ ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। প্রথমেই দেখতে হবে এসব খাতে বিনিয়োগের জন্য কারা আসছে? তাদের অন্য কোনো গোপন ভূরাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে কি না?

কিন্তু শ্রেণি হিসেবে তারা সুসংগঠিত বিশাল দৈত্যাকার হাউজে বা ক্রোনি গোষ্ঠীর কতিপয় তান্ত্রিক কাঠামোতে পরিণত হওয়ার অবারিত সুযোগ পান ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর। যখন থেকে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন সম্পদের ও আয়ের সব ধরনেরর সিলিং পুঁজিবাদী বিকাশের আওতায় সম্পূর্ণ উঠিয়ে দেওয়া শুরু হয়। বেতন ও সম্পদ এখন যে কেউ ব্যক্তিগত ভাবে যত খুশি ও যেভাবে খুশি অর্জন করতে পারবে। দ্রুততম সময়ে ধনী হওয়ার তালিকায় বাংলাদেশ এখন প্রথম। আমাদের দেশে মানি লন্ডারিং ও পুঁজি পাচার অব্যাহত থাকায় তাদের করের আওতায় কোনো কর প্রশাসনই আনতে পারছে না। অতীতেও পারেনি এখনো পারবে কি না সন্দেহ।

এর জ্বলন্ত উদাহরণ হচ্ছে ব্যাংকখাত। সেখানে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ব্যাংকে সাধারণ মানুষের টাকা জমা রাখা হয়, সরকার ও দেশি বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এসব ব্যাংকের মালিক। তারা এদের টাকা জমা নেন ও ধার দেন এবং তা দিয়ে তাদের আয় হয়, কিন্তু যারা টাকা ধার নেন তারা শোধ করেন না। এটা বিশেষত রাঘববোয়ালরাই করেন এবং ত্রিভুজ ক্ষমতা কাঠামোকে ব্যবহার করে শাস্তি এড়িয়ে যান। অতীতে ব্যাংকিং সেক্টরে লুটপাট চালানোর জন্য তারা দুটি কাজ করেছিল। প্রথমত, বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালনার ক্ষেত্রে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। যেহেতু বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের ব্যাংকিং খাত নিয়ন্ত্রণ করে তাই তারা চেষ্টা করেছিল কীভাবে বাংলাদেশ ব্যাংককে তাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা যায়।

তাছাড়া সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের বোর্ডকেও তারা নিয়ন্ত্রণ করতে চেষ্টা করেন। তারা ঠিকই বুঝতে পেরেছিলেন যে বাংলাদেশ ব্যাংক যদি তাদের বোর্ডকে স্বাধীনভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারে তাহলে বিভিন্ন ব্যাংকের মালিক রাজনৈতিক রাঘববোয়ালরা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অত সহজে বিনা শাস্তিতে খেলাপি হতে পারবে না। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ব্যাংকিং সেক্টরের নিয়ন্ত্রণ অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলে গিয়েছিল। আর অর্থমন্ত্রীকে থাকতে হতো প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের প্রভাবাধীন। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক গঠনের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তাদের সেই সংস্কার প্রচেষ্টা সফল হয়নি বা আংশিক সফল হয়েছিল মাত্র।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যাংকিং সেক্টরকে স্বাভাবিক ধারায় নিয়ে আসার জন্য খেলাপি ঋণ কমানোর চেষ্টা করে। কিস্তু আমরা দেখেছি তারা খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমাতে পারেনি। হাসিনার আমলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২০ শতাংশের কাছাকাছি ছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমলে খেলাপি ঋণের হার ৩৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলে কেউ কেউ দাবি করেন। তবে এটা যে বেড়ে গেছে এবং সংস্কার যে এ খাতে ব্যর্থ হয়েছে- তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কেন এরকম হলো তার পুরো রহস্যটা হয়তো একদিন আমরা ‘প্রাক্তন গভর্নর’ কাছ থেকে শুনতে পারবো। এটা কতটুকু সদিচ্ছার অভাব, কতটুকু ভুল নীতির প্রভাব, কতটুকু নীতি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারের অভাব- সবটাই বোঝা ও বিশ্লেষণ জরুরি।

আওয়ামী লীগ সরকার আমলে নানা ধরনের আইনি পরিবর্তনের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ আড়াল করে রাখার চেষ্টা করা হতো। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমলে সেই লুকানো খেলাপি ঋণ মাপার ক্ষেত্রে আইএমএফের পদ্ধতি ব্যবহার করা শুরু হয়। ফলে প্রকৃত পরিমাপ প্রকাশ্যে চলে আসে। ফলে খেলাপি ঋণের হার অনেক বেশি বলে প্রতিভাত হয়। অবশ্য একটি ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমলে বাংলাদেশ ব্যাংক অত্যন্ত আপত্তিকর কাজ করেছে।

জাতীয় নির্বাচনের তিন মাস আগে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে দুই বছরে গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরের জন্য খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলীকরণের সুযোগ দেওয়া হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঋণ খেলাপিদের এমন সুযোগদানের বিষয়টি পুরোনো ত্রিভুজ কাঠামোকেই বহাল রাখতে সহায়ক হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নানা মহলে তা আশাভঙ্গ ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ আমলে আ হ ম মুস্তফা কামাল অর্থমন্ত্রী থাকাকালে ২ শতাংশ নগদ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরের জন্য খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলীকরণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

গত সেপ্টেম্বর মাসে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা। ডিসেম্বরে তা কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৪৬ হাজার ১০৭ কোটি টাকায়। একই সময়ে ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪ লাখ ৬৩ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা থেকে হ্রাস পেয়ে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকায় নেমে আসে। বিদেশি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ একই সময়ে ৩ হাজার ২৩৯ কোটি থেকে ২ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকায় হ্রাসপ্রাপ্ত হয়। কিন্তু এহ বাহ্য। ব্যাপকভাবে পুনঃতফসিলীকরণের সুযোগ দেওয়ার কারণেই ব্যাংকিং সেক্টরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আপাত দৃষ্টিতে কিছুটা কমে গেলেও আসলে কার্পেটের তলে তা থেকেই গেছে। এটাকে আপাত ভালো বা সুশাসনের ইতিবাচক অর্জন না বলে শেষ পর্যন্ত দুঃশাসনের কাছে পরাজয় বলাই ভালো। গত নির্বাচনেও ৮০ জন খেলাপির মধ্যে ৩০ জন স্টে-অর্ডার ব্যবহার করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ লাভ করেন। কেউবা নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রীও হয়ে গেছেন।

বর্তমান নতুন সরকারকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত এই আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক ‘ত্রিভুজ-ক্ষমতা কাঠামো কর্তৃক সৃষ্ট খেলাপি ঋণের’ সমস্যা নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ যৌক্তিকভাবে কমিয়ে আনা না গেলে ব্যাংকিং সেক্টরের সমস্যা সমাধান করা যাবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যাংকখাতের সমস্যা যেভাবে সমাধান করতে চেয়েছিল নতুন সরকার সেভাবে সমাধান করতে চাইছে না। আগের সরকার চেয়েছিল রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বাংলাদেশ ব্যাংক গড়ে তোলা। এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পদকে সাংবিধানিক পদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। কিন্তু নতুন সরকার সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। তারা ‘শুদ্ধ রাজনীতির’ কথা বলছেন এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্তৃত্বের দ্বারাই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে দাবি করেন।

তবে ইতোমধ্যে তারা একটি বাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে অপসারণের প্রশ্নে। তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরে কর্মচারীদের বিক্ষোভকে (হয়তো তা ন্যায়সংগতও হতে পারে!?) ব্যবহার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে তার দায়িত্ব থেকে সরে যেতে বাধ্য করলো। এটা এভাবে কখনোই কাম্য ছিল না। যেহেতু বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত একটি সরকার তাই তারা জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ এবং অপসারণ সংক্রান্ত একটি আইন প্রণয়ন নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করতে পারতেন। সেই আইনের বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অপসারণ করতে পারতেন। কর্মচারীদের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে অপসারণ করা কোনোভাবেই যৌক্তিক হয়নি।

সরকারের এই পদক্ষেপ পুরো ব্যাংকিং সেক্টরকে স্তম্ভিত করেছে। আগামীতে খেলাপি ঋণ আদায় কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। ড. আহসান এইচ মনসুরকে অপসারণ করে যাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তার যোগ্যতা এবং দক্ষতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে স্বাভাবিক প্রশ্ন রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো স্পর্শকাতর একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে একজন যোগ্য ব্যক্তিকে, যিনি ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্পর্কে ভালো জানেন এবং বৈদেশিক স্বার্থমুক্ত তাকে নিয়োগ দেওয়াটাই ছিল কাঙ্ক্ষিত। কিন্তু এমন একজনকে নিয়েগ দেওয়া হলো যিনি নিজেও একজন খেলাপি। আমি বলবো, খেলাপি ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে এই সরকার শুরুতেই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। অবশ্য চূড়ান্ত বিচারে বৃক্ষের পরিচয় পাওয়া যাবে তার ফলে। আমি ভুল প্রমাণিত হলে খুশিই হবো।

আমার দৃষ্টিতে নতুন সরকারের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, অর্থনীতিতে সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো। বেশকিছু দিন ধরেই দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি মোটেও ভালো যাচ্ছে না। গত অর্থবছর (২০২৪-২৫) আমাদের জিডিপি’র আকার ছিল ৫৫ লাখ ১৫ হাজার ২৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৭৪ হাজার ৪৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১২ লাখ ১৪ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ২২ দশমিক শুন্য ৩ শতাংশ।

২০১৩-১৪ অর্থবছরের পর ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ আর কখনোই এতটা কম হয়নি। সেই বছর ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ হয়েছিল জিডিপি’র ২২ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব মতে, বিগত চার বছর ধরেই জিডিপি’র অনুপাতে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ হ্রাস পাচ্ছে। ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ হ্রাসকে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধির দ্বারা কমপেনসেট করা না গেলে প্রবৃদ্ধির হার বাড়বে না। প্রবৃদ্ধির হার না বাড়লে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে না। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না হলে দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রম শুধু ট্র্যান্সফার পেমেন্টের মাধ্যমে সফল করা যাবে না। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হচ্ছে শ্রমঘন ক্ষুদ্র-মাঝারি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করা। সরকারি রাজস্ব উদ্বৃত্ত সৃষ্টি ও তার যথাযথ বিনিয়োগসাধন।

বিনিয়োগ একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। কেউই অনিশ্চিত পরিবেশে বিনিয়োগ করতে চাইবে না। স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা যদি প্রত্যাশিত মাত্রায় বিনিয়োগ না করে তাহলে বিদেশি বিনিয়োগ আশা করা যায় না। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা হচ্ছেন, ‘শীতের অতিথি পাখির মতো।’ শীতের অতিথি পাখি যেমন কোন জলাশয়ে পর্যাপ্ত খাবার এবং নিরাপত্তা না পেলে আশ্রয় গ্রহণ করে না তেমনি বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও কোন দেশে পর্যাপ্ত মুনাফা এবং পুঁজির নিরাপত্তা ও স্বচ্ছন্দ জীবনের সুযোগ না পেলে বিনিয়োগ করতে সম্মত হয় না। কিন্তু আমরা তাদের শুধু সুবিধাই দিলাম, নিজের জন্য কোনো সুবিধা নিলাম না, তাহলে চলবে না। দক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক বহুপাক্ষিক দরকষাকষি না করে খাল কেটে কুমির ডেকে আনা ঠিক হবে না।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যেহেতু অনির্বাচিত সরকার ছিল তাই দেশীয় বিনিয়োগকারীরা সেই সময় নতুন বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ছিলেন দ্বিধান্বিত। তবে সুযোগসন্ধানী বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ছিলেন স্ট্র্যাটেজিক বিনিয়োগে (বন্দর খাতে) অতি তৎপর। এখন নির্বাচিত নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। বিনিয়োগকারীরা নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। প্রতিটি বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা ও জাতীয় দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যাপ্ত দরকষাকষির মাধ্যমে আমাদের অগ্রসর হতে হবে।

তবে একটি শুভ লক্ষণ এই যে, দেশে একটি নির্বাচন হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিতর্ক থাকলেও অনুষ্ঠিত নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়েছে এটা বলা যেতে পারে। নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক না হলেও ভোটাররা বহু বছর পর তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছে। আন্তর্জাতিকভাবেও নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়েছে। যে ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে তার কাছেও নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের নিকটও নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়েছে। ফলে সরকার ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ভালো অবস্থানে রয়েছে।  কিন্তু আবার বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত চলছে। এতে বিদেশি বিনিয়োগ আহরণের ক্ষেত্রে কিছুটা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হতে পারে। তারপরও বলা যেতে পারে, নির্বাচিত সরকার স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ আহরণের ক্ষেত্রে সাফল্য প্রদর্শন করতে পারবে- যদি উল্লিখিত স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে সজাগ ও সচেতন থাকে। প্রয়োজনে পুরোনো ভুল চুক্তিগুলো সংসদে পুনরুত্থাপনের ও পুনর্যাচাইয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

তবে সঞ্চয় (বেসরকারি ও সরকারি) আহরণের জন্যও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা যদি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় তাদের উদ্বৃত্ত বিনিয়োগ না করেন তাহলে বিদেশি বিনিয়োগও আসবে না। সরকার যদি উদ্বৃত্ত রাজস্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় সামাজিক ও ভৌত অবকাঠামো তৈরি না করতে পারেন তাহলেও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে না।

বর্তমানে কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আবার বিতর্কও রয়েছে। যেমন জ্বালানি খাত এবং বন্দর এই দুই স্ট্র্যাটেজিক সেক্টরে বিদেশি বিনিয়োগ আহরণের ক্ষেত্রে আমাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এগুলো কৌশলগতভাবে একটি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি এবং বন্দর ব্যবস্থাপনা যাদের হাতে থাকবে তারা সব অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। ব্যাংকিং সেক্টরের জন্যও কথাটি প্রযোজ্য। এগুলো যদি মুক্ত বিনিয়োগ ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে যাওয়া হয় তাহলে নিয়ন্ত্রণ ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। প্রথমেই দেখতে হবে এসব খাতে বিনিয়োগের জন্য কারা আসছে? তাদের অন্য কোনো গোপন ভূরাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে কি না?

দ্বিতীয় সমস্যা হচ্ছে এসব খাতে যারা বিনিয়োগের জন্য আসছেন তারা কি শর্তে বিনিয়োগের জন্য আসছে সেটা বিবেচনা করা। শর্তগুলো আমাদের জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে কি না। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম বন্দর লাভজনকভাবে চলছিল। লাভজনক একটি প্রতিষ্ঠান বিদেশিদের হাতে দিলে লাভটা তো আর আমরা পাচ্ছি না। তাহলে লাভজনক প্রতিষ্ঠান বিদেশিদের হাতে দেওয়া হবে কেন?

আমরা যদি একটি প্রতিষ্ঠান লাভজনকভাবে চালাতে না পারি তাহলে লাভজনকতা অর্জনের জন্য দক্ষ বিদেশি কোনো কোম্পানির হাতে পরিচালনার ভার দেওয়া যেতে পারে। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন ক্ষমতায় ছিলেন বিশ্বব্যাংক তখন আমদজী জুট মিল বিরাষ্ট্রীয়করণের জন্য চাপ দিয়েছিল। কিন্তু জিয়াউর রহমান তাতে তখন সম্মতি দেননি। তিনি বলেছিলেন, আদমজী যেহেতু লাভজনকভাবে চলছে তাই আমরা একে বিরাষ্ট্রীয়করণ করবো না। পরে এরশাদ ক্ষমতায় এসে আদমজী জুট মিলকে নানাভাবে অবদমিত করার পর তা বিরাষ্ট্রীয়করণ করেন।

চট্টগ্রাম বন্দর নিয়েও এ ধরনের খেলা আমরা লক্ষ্য করছি। চট্টগ্রাম বন্দর লাভজনকভাবে চলছে। তারপরও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশি কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করেছি। বামপন্থি রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি উত্থাপিত হলে শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে পারেনি। বিদেশি বিনিয়োগ আমাদের প্রয়োজন। তবে সবার আগে দেখতে হবে যে বিনিয়োগ আসছে তা জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে কি না।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ যেসব খাত আছে সেখানে বিদেশি বিনিয়োগ আহরণের ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। জাতীয় সংসদে আলোচনা হলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। বিদেশি বিনিয়োগ আহরণের ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদে আলোচনার বিষয়টি শেখ হাসিনার আমলে ছিল না। এরশাদের আমলেও ছিল না। এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে তা নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা হয়নি। Non Disclosure শর্তের অজুহাতে তা এড়িয়ে যাওয়া হযেছে।

স্থানীয় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। আগে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কম ছিল। বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক কম সুদে ঋণ নিতে পারতো। কিন্তু এখন ব্যাংক ঋণের সুদের হার অনেক বেশি। তাই চাইলেই উদ্যোক্তারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারছেন না। বিশেষ করে যারা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প তারা কি বেশি সুদে ব্যাংক ঋণ নিয়ে টিকে থাকতে পারবে?

বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যদি আস্থা ফেরাতে হয় তাহলে দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়ার দৃষ্টান্ত থেকে শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে। এসব দেশ ব্যাংক ঋণের সুদের হারকে পরিপূর্ণভাবে বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়নি। যেসব শিল্পে উৎপাদিত পণ্য বিদেশি আমদানিকে প্রতিস্থাপিত করে অথবা রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বিস্তৃত লিংকেজ অ্যাফেক্ট সহায়ক অথবা যেসব শিল্প অধিক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে সেই সব শিল্পের ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণের সুদের হার তুলনামূলকভাবে কম হওয়াটাই কাম্য। আমাদের দেশেও এমন একটি কালো-সাদা বিড়ালের মিশ্র ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে, যাতে তা প্রকৃতই ইঁদুর মারতে পারে। গভর্ন্যান্স ঠিক রেখে কনসেশন দিতে হবে, যাতে সঠিক জায়গায় কনসেশনটা পৌঁছে এবং তার উৎপাদনশীল ব্যবহার নিশ্চিত হয়। নেতৃত্বের স্বাধীন ও সুবিবেচক ভূমিকা এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান সরকার নির্বাচনের আগে বেশকিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তারা ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের কথা বলেছেন। শিক্ষা খাতে কিছু কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অন্যান্য ক্ষেত্রেও যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ন শুরু হবে খুব শিগগির। এসব কাজ করা এবং প্রশাসন চালানোর জন্য সরকারের প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হবে। এজন্য রাজস্ব নীতিতে প্রগ্রেসিভ ট্যাক্সেশন পদ্ধতি চালু করতে হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে অধিক পরিমাণে ট্যাক্স আদায়যোগ্য করে তুলতে হবে। সম্পদ করের কথা সরকার ভাবতে পারেন। বাংলাদেশের ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে কম। এটা কোনোভাবেই চলতে দেওয়া যায় না। আমাদের রাজস্ব আদায় বাড়াতেই হবে। এটা করতে না পারলে আমাদের ভবিষ্যতেও বিদেশি ঋণের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হবে।

সার্বিক বিবেচনায় বলা যেতে পারে, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের চ্যালেঞ্জ বহুমুখী। এর মধ্যে সবচেয়ে জটিল সমস্যা হচ্ছে অভ্যন্তরীণ সূত্র ও ধনীদের কাছ থেকে বিনিয়োগযোগ্য সম্পদ সংগ্রহ করা এবং তা সঠিকভাবে বিকেন্দ্রীভূত, দুর্নীতিহীন, স্বচ্ছ ও জননিয়ন্ত্রিত প্রশাসনের মাধ্যমে উন্নয়নের কাজে তা ব্যবহার করা।

লেখক: অর্থনীতিবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক,  অর্থনীতি বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

এইচআর/জেআইএম