ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. রাজনীতি

বাংলাদেশে দীর্ঘ নারী নেতৃত্বের যুগের কি অবসান হচ্ছে?

জেসমিন পাপড়ি | প্রকাশিত: ০৮:৩০ এএম, ০৬ জানুয়ারি ২০২৬

নব্বইয়ের দশক থেকে টানা তিন দশকের বেশি সময় ধরে সরকারপ্রধান ও বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে পর্যায়ক্রমে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। একজন যখন প্রধানমন্ত্রী, আরেকজন তখন বিরোধীদলীয় নেতা— ঘুরেফিরে এই দুই নারীর হাতেই ছিল রাষ্ট্রক্ষমতা। যদিও রাজনীতিতে নারীর আগ্রহ বা অংশগ্রহণ এই দীর্ঘ সময়ে বাড়েনি।

রাজনীতির নেতৃত্বে তারা থাকার মধ্যেই আরেক নারী জাতীয় পার্টির রওশন এরশাদ জাতীয় সংসদে বিরোধীদলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ২০১৪ থেকে দুই মেয়াদে। তিনি এখন অসুস্থতা ও বয়সের ভারে রাজনীতি থেকে দূরে।

একজনের মৃত্যু, আরেকজনের ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভিনদেশে পলায়ন এবং তৃতীয়জনের রাজনীতিতে আসার ন্যূনতম সম্ভাবনা না থাকার প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে- তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ কী?

২০২৪ সালে গণআন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছরের নেতৃত্বের অবসান ঘটে। নব্বইয়ের পর তিনি ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্তও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

১৯৯১ থেকে ১৯৯৬, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ ও ২০০১-২০০৬ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া। গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার প্রয়াণের মাধ্যমে দেশের রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে নারী নেতৃত্ব কার্যত শূন্য। এক-এগারো সরকার এই দুই নারীকে বাদ দিয়ে মাইনাস ‘টু’ ফর্মুলা কার্যকর করতে চেয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সেসময় এই দুই নারীকে জেলেও নিয়েছিল সেনা সমর্থিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

‘খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে শীর্ষ পর্যায়ের নারী নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা তৈরি করেছিলেন, যা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে এই নেতৃত্ব মূলত পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকার থেকে উঠে আসায় তা অনেকটাই প্রতীকী ছিল।- রাজনৈতিক বিশ্লেষক দিলারা চৌধুরী

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, যদিও খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকার সূত্রে নেতৃত্বে উঠে এসেছিলেন, তবু দীর্ঘ সময় ধরে রাজনীতি করে তারা বাংলাদেশে নারী নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। বর্তমান বাস্তবতায় বড় দুই দলের নেতৃত্ব কাঠামোতে নারীদের দৃশ্যমান অনুপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে—দেশের রাজনীতি হয়তো আবার দীর্ঘ মেয়াদে পুরুষ নেতৃত্বকেন্দ্রিক ধারায় ফিরে যাচ্ছে।

কারণ, শেখ হাসিনা এখনো দলের সভানেত্রীর পদ না ছাড়লেও তার দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না দলটি। দেশে বিদ্যমান দলগুলোর মধ্যে বিএনপিতে খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর তারেক রহমানই দলের হাল ধরছেন-এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই।

দেশের আরেকটি দল জামায়াতে ইসলামী মূলত পুরুষ নেতৃত্বে পরিচালিত। দলটির একটি নারী শাখা থাকলেও নেতৃত্বে বরাবরই পুরুষ। শুধু তাই নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রীদের মধ্যে ক্যাম্পেইন করতে শিবির মনোনীত সহ-সভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী সাদিক কায়েম এবং এস এম ফরহাদদের জামায়াতের আমিরের অনুমতি নিতে হয়। এদিকে আসন্ন নির্বাচনে দেশের ৩০০ আসনের একটিতেও এখন পর্যন্ত কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি দলটি।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর জন্ম নেওয়া নতুন দল এনসিপিতে অনেক নারী মুখ দেখা গেলেও সম্প্রতি জামায়াত জোটে যুক্ত হওয়ার প্রতিবাদে তাদের অনেকেই পদত্যাগ করেছেন।

এমন প্রেক্ষাপটে আসন্ন নির্বাচনে যে দলই জয়ী হোক না কেন, দেশের নেতৃত্বে শিগগির কোনো নারী আসছেন না বলে ধারণা করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকেরা।

প্রাকৃতিকভাবেই পুরুষের কর্মক্ষেত্র বাইরে ও নারীর ঘরে হলেও যোগ্যতা ও বুদ্ধিমত্তায় নারী–পুরুষ সমান। তাই পারিবারিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নারীরা যোগ্যতা অনুযায়ী সমাজ ও জাতির কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারেন—এই নীতিতেই জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে।- জামায়াতে ইসলামীর নারী বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নূরুন্নিসা সিদ্দিকা

এ বিষয়ে নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান কমিশনার শিরীন পারভিন হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের আলোচিত দুই নেত্রীর দুজনই অনুপস্থিত—এই বাস্তবতায় সঙ্গে সঙ্গে আরেকজন নারী নেতৃত্বের শূন্যস্থান পূরণ করবে, এমনটা এখনই আশা করা কঠিন।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক দিলারা চৌধুরীর মতে, ‘খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে শীর্ষ পর্যায়ের নারী নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা তৈরি করেছিলেন, যা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে এই নেতৃত্ব মূলত পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকার থেকে উঠে আসায় তা অনেকটাই প্রতীকী ছিল।’

তিনি বলেন, ‘দুই নেত্রীর অনুপস্থিতিতে নিজ যোগ্যতায় নতুন কোনো নারী শীর্ষ নেতৃত্ব উঠে আসার মতো দলীয় কাঠামো বা পরিবেশ নেই। ফলে আগামী দিনে বিএনপি ও অন্যান্য দলে শীর্ষ পর্যায়ে নারী নেতৃত্বের সম্ভাবনা ক্ষীণ এবং রাজনীতিতে প্রধানত পুরুষ নেতৃত্বই প্রাধান্য পাবে।’

বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা এক নেত্রী জাগো নিউজকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দীর্ঘদিন নারী নেতৃত্ব থাকায় দলে নারীদের আসার রাস্তাটা যতখানি মসৃণ হতে পারতো, সেটা আসলে হয়নি। দেশে দুই নারী প্রধানমন্ত্রী থাকলেও সমাজ ও রাষ্ট্রের গভীর স্তরে মানসিক পরিবর্তন ঘটেনি।’

তবে জামায়াতে ইসলামীর নারী বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নূরুন্নিসা সিদ্দিকা জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রাকৃতিকভাবেই পুরুষের কর্মক্ষেত্র বাইরে ও নারীর ঘরে হলেও যোগ্যতা ও বুদ্ধিমত্তায় নারী–পুরুষ সমান। তাই পারিবারিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নারীরা যোগ্যতা অনুযায়ী সমাজ ও জাতির কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারেন—এই নীতিতেই জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বশূন্য হলে ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দলের সভাপতি হন এবং ১৯৯৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন। পরে ২০০৮ থেকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত টানা কয়েক মেয়াদে তিনি ক্ষমতায় ছিলেন।

আরও পড়ুন
নারী নেতৃত্ব ও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা: একটি প্রেক্ষাপট
নারী ও তরুণ নেতৃত্ব ছাড়া অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি সম্ভব নয়
মার্কিন রাষ্ট্রপতি পদে নারী নেতৃত্ব কি অধরাই থেকে যাবে?

অন্যদিকে, জিয়াউর রহমান হত্যার পর বিএনপিতে নেতৃত্ব সংকট তৈরি হলে খালেদা জিয়া ১৯৮৪ সালে দলের চেয়ারপারসন হন। চার দশক দলটির নেতৃত্ব দিয়ে তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়ে বাংলাদেশের প্রথম নারী সরকারপ্রধান হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেন।

তৃণমূল পর্যায়ে নারী কর্মীর অভাব নেই, কিন্তু তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে গণতান্ত্রিক চর্চা ও সদিচ্ছার ঘাটতির কারণেই নারী নেতৃত্ব বিকশিত হয়নি।- নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান কমিশনার শিরীন পারভিন হক

নেতৃত্বে থাকলেও তারা দুজনই নারীদের রাজনীতিতে আনতে পারেননি। রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা দলের মধ্যে টেকসই নারী নেতৃত্ব গড়ে তুলতে পারেননি। কখনো কখনো নারীদের নেতৃত্বে আনা হলেও পরিবারকে প্রাধান্য দেওয়ায় মাঠের যোগ্যতা কাজে আসেনি। ফলে বর্তমানে যে নারী নেতৃত্বের শূন্যতা দেখা যাচ্ছে, তার দায় এড়ানো কঠিন।

এমনকি ২০২০ সালের মধ্যে সব কমিটিতে নারীর অংশগ্রহণ ৩৩ শতাংশ করার লক্ষ্য পূরণ হয়নি। ২০৩০ সালের লক্ষ্যেও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বড় দুই দল ছাড়াও বাম দলগুলোও এই লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি।

নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান কমিশনার শিরীন পারভিন হক বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে নারী কর্মীর অভাব নেই, কিন্তু তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে গণতান্ত্রিক চর্চা ও সদিচ্ছার ঘাটতির কারণেই নারী নেতৃত্ব বিকশিত হয়নি।’

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘প্রকৃত নেতৃত্ব রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠে। কিন্তু আওয়ামী লীগ বা বিএনপি—কোনো দলেই নারীদের জন্য সেই প্রক্রিয়াগত জায়গা তৈরি হয়নি। কেন্দ্রীয় কমিটি কিংবা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের উপস্থিতি এখনো খুবই সীমিত।’

১৯৭৯ সালের তৃতীয় সংসদে প্রথমবার একজন নারী সরাসরি নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে যথাক্রমে পাঁচ ও চারজন নারী সংসদে পৌঁছান, যদিও ওই নির্বাচনের মোট নারী প্রার্থীর সংখ্যা জানা নেই। ১৯৯১ সালে ৩৯ জনের মধ্যে পাঁচজন, ১৯৯৬ সালে ৩৬ জনের মধ্যে আটজন, ২০০১ সালে ৩৮ জনের মধ্যে ছয়জন এবং ২০০৮ সালে ৫৯ জনের মধ্যে ১৯ জন নারী সংসদে নির্বাচিত হন।

২০১৪ সালের নির্বাচনে ২৯ জনের মধ্যে ১৮ জন নির্বাচিত হন। পরে উপ-নির্বাচন ও শূন্য আসনে আরও পাঁচজন যোগ হন। ২০১৮ সালে ৬৯ জনের মধ্যে ২২ জন নির্বাচিত হন, যা সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালে ৯৬ জনের মধ্যে ১৯ জন নারী সংসদে নির্বাচিত হন। এ নির্বাচনে দুজন তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে নারী নেতৃত্ব নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছে ‘নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম’। আগামী সংসদ নির্বাচনে ৩৩ শতাংশ নারী প্রার্থীর মনোনয়ন বাধ্যতামূলক করাসহ ছয় দফা দাবি এবং নির্বাচনি আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে ফোরামটি।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সূত্রে পাওয়া তথ্য নিয়ে তৈরি ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের (ডিআই) প্রতিবেদন বলছে, ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিএনপির ৫০২ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে নারী সদস্য ছিলেন ৬৯ জন, যা ১৩ দশমিক ৭০ শতাংশ।

তবে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য মাহমুদা হাবিবা জাগো নিউজকে বলেন, ‘দীর্ঘ চেষ্টার পর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত প্রায় ১৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা গেছে।’

আর আওয়ামী লীগের ৮১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১৯ জন নারী সদস্য ছিলেন, যা মোট সদস্যের ২৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ। মাতিয়া চৌধুরীর মৃত্যুর আগে এ সংখ্যা ছিল ২০ জন।

জাতীয় পার্টির ৩৬৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে ৪৫ জন নারী রয়েছেন, অর্থাৎ ১২ দশমিক ৩২ শতাংশ।

এদিকে দলে নারীদের অংশগ্রহণ ৩০–৪০ শতাংশ উল্লেখ করে জামায়াতের নারী নেত্রী নূরুন্নিসা সিদ্দিকা জাগো নিউজকে বলেন, ‘নীতিনির্ধারণী ফোরাম, শূরা ও অন্যান্য পরিষদে নারী–পুরুষ উভয়ের অংশগ্রহণ রয়েছে। তবে দীর্ঘ ও অনিয়মিত বৈঠকের কারণে নির্বাহী পরিষদে এখনো নারী নেই- ভবিষ্যতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।’

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নারী প্রার্থী না দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বড় এলাকা সফর, রাজনৈতিক–সামাজিক চাপ, লাঞ্ছনা ও পারিবারিক মর্যাদার বিবেচনায় পরিবেশ অনুকূল মনে করা হয়নি।’

এছাড়া অন্য দলের মধ্যে সিপিবিতে ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং জাসদে ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ নারী নেতৃত্ব রয়েছে বলে জানা যায়।

নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা শিরীন হক বলেন, ‘বাস্তবে রাজনৈতিক দলগুলো এখনো প্রস্তুত নয়। সাম্প্রতিক মনোনয়ন চিত্রে প্রত্যাশিত সংখ্যক নারী প্রার্থী দেখা যায়নি। ফলে আপাতত খুব আশাব্যঞ্জক কিছু নেই, যদিও ভবিষ্যতে পরিবর্তনের আশা রয়ে গেছে।’

জেন্ডার বিশ্লেষক লিপিকা বিশ্বাস জাগো নিউজকে বলেন, ‘রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের প্রাধান্য, নারীবান্ধব নীতি ও সহায়ক পরিবেশের অভাবে অনেক যোগ্য নারী মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’

তার মতে, ‘ভোটারদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোটাররা যদি সচেতনভাবে নারীবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাসী দলগুলোকে সমর্থন দেন, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোও বাধ্য হবে তাদের সিদ্ধান্ত বদলাতে। কারণ ভোটই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি।’

পরবর্তী প্রজন্মেই ভরসা

এমন পরিস্থিতিতে খুব শিগগির না হলেও অদূর ভবিষ্যতে নতুন পরবর্তী প্রজন্মের হাত ধরে আবারও দেশের বড় দলগুলোর নেতৃত্বে নারীকে দেখার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অনেকে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জায়মা জারনাজ রহমানের রাজনীতিতে আসার খবর এখন বেশ তীব্র হচ্ছে। বাবার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আগে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি সেই ইংগিতই দিয়েছিলেন। খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসা বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে তারেক রহমানের সাক্ষাতে জায়মার উপস্থিতি যেন তার রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার খবরকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। তিনি রাজনীতিতে এলে ধীরে ধীরে বিএনপির নেতৃত্বেও আসবেন—এমন ধারণাও করা হচ্ছে। তবে সেটা সময়সাপেক্ষ।

বিএনপির এক নেত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তারেক রহমানের পরিবারের তরুণ নারীরাও ধীরে ধীরে রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন। তার কন্যা প্রকাশ্যে না এলেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যে সক্রিয়তা রয়েছে, তা স্পষ্ট।

তবে তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীদের বড় সমস্যা হলো—এই পর্যায়ে আসা অধিকাংশ নারীই প্রিভিলেজড পরিবার থেকে আসেন। তাদের রাজনৈতিক গ্রুমিং সাধারণ নারীদের তুলনায় আলাদা।

অন্যদিকে শেখ হাসিনার পর দলের নেতৃত্বে কে আসবেন—সে আলোচনায় শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নাম বেশ উচ্চারিত হচ্ছে। তবে তার আগে আওয়ামী লীগের দেশের রাজনীতিতে ফেরার ওপর নির্ভর করছে এসব বিষয়।

আওয়ামী লীগের একজন নারী নেতা জাগো নিউজকে বলেন, ‘শেখ হাসিনা এখনো আমাদের দলের সভানেত্রী। নেতৃত্ব পরিবর্তনের ব্যাপার যদি আসে, তাহলে দলের একতা রক্ষা করতে পারবেন এমন ব্যক্তিই দায়িত্ব পাবেন বলে আশা করি।’

অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘শেখ হাসিনা এখনো আওয়ামী লীগের প্রধান হলেও তার রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়ভাবে ফিরে আসা অনিশ্চিত। ভবিষ্যতে কন্যার মাধ্যমে নারী নেতৃত্ব এলেও তা হবে প্রতীকী প্রক্রিয়া ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নয়।’

জেপিআই/এএসএ/এমএফএ/এএসএম