ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. রাজনীতি

বাবাকে ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন এখনো অধরা হৃদি-সাফাদের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৫:৩৫ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

‘বছর যায়, বছর আসে, কিন্তু আমাদের বাবা আর আসে না। ৫ আগস্টের পর এক বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেলো, কিন্তু আমরা কাউকে ফিরে পেলাম না।’

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ‘মায়ের ডাক’ ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ে কিশোরী হৃদি। তার বাবা পারভেজ হোসেনকে ২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর শাহবাগ থেকে গুম করা হয়।

রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুম ও খুনের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের কান্না ও আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। তাদের হৃদয়বিদারক বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

অনুষ্ঠানে হৃদি প্রশ্ন করে- বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার যে স্বপ্ন সে লালন করে আসছে, সেই স্বপ্ন কি কোনোদিন পূরণ হবে? সে বলে, ‘আমার বয়স যখন আড়াই বছর, তখন থেকেই আম্মুর কোলে চড়ে এখানে (এমন অনুষ্ঠানে) আসি। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল, বাবার সঙ্গে স্কুলে যাব। কিন্তু আজও সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি।’

মাত্র দুই মাস বয়সে বাবাকে হারায় শিশু সাফা। সে বাবা ডাক বলার সুযোগই কখনো পায়নি। নেই বাবার সঙ্গে কোনো স্মৃতিও। কাঁদতে কাঁদতে সাফা বলে, ‘এক যুগ ধরে বাবার জন্য অপেক্ষা করছি। অনেক জায়গায় গিয়েছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো খোঁজ পাইনি।’

তিন বছর বয়সে বাবাকে হারানো মিমের গল্পও একই রকম বেদনাদায়ক। সে জানায়, তার সমবয়সীদের যখন বাবারা হাঁটা শেখান, তখন সে নিজের বাবাকে খুঁজে বেড়িয়েছে।

মিম, সাফা ও হৃদির মতো অনেকের প্রিয়জন গত সরকারের আমলে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের শিকার হয়েছেন। কেউ হারিয়েছেন বাবা, কেউ সন্তান, কেউ ভাই, আবার কেউ স্বামীকে। আজ তাদের একমাত্র দাবি- সুষ্ঠু বিচার।

অনুষ্ঠানে তারেক রহমান এসব পরিবারের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জানান। গুম ও খুনের সেই বিভীষিকাময় দিন ও রাতের অবসান ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। আমরা একটি ভয়াবহ দুঃসময় অতিক্রম করেছি। অনেক সন্তান এখনো অপেক্ষায় আছে- তাদের বাবা হয়তো হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়বে। অনেক মা এখনো আশা করে বসে আছেন- তার সন্তান একদিন ফিরে আসবেন।’

এসময় ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য দাবি করেন, গুম প্রতিরোধে এমন আইন প্রণয়ন করতে হবে, যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ করার সাহস আর কেউ না পায়।

গুম হওয়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, গুম ও খুনের শিকার পরিবারগুলো অভিভাবকহীন পরিবারে পরিণত হয়েছে। এসব পরিবার সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় হয়রানির শিকার হচ্ছে। তিনি পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নিতে তারেক রহমানের প্রতি অনুরোধ জানান।

গুমের শিকার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারি হিসাব অনুযায়ী এক হাজার ৪৮ জন কারাগারে মারা গেছেন। মানবাধিকার কমিশনের তালিকায় ৯০৭ জন গুমের শিকার হলেও গুম কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সাল পর্যন্ত এক হাজার ৮৫০ জন গুম হয়েছেন।

আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মায়ের ডাকের সভানেত্রী সানজিদা ইসলাম তুলি, আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনি ও মোকসেদুল মোমিন মিথুন। বক্তব্য দেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, রুহুল কবির রিজভী, রশিদুজ্জামান মিল্লাত প্রমুখ।

কেএইচ/একিউএফ/জেআইএম