জসীমউদ্দীন সরকার
কোনো ভোটারের এনআইডি সংগ্রহ বা কাউকে টাকা দেয়নি জামায়াত
প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ঢাকা-১০ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট জসীমউদ্দীন সরকার
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা-১০ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট জসীমউদ্দীন সরকার। পাশাপাশি ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়ে জামায়াত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
অ্যাডভোকেট জসীমউদ্দীন সরকার বলেন, আজ জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ঢাকা-১০ আসন একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে আজ আমাদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ১০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে আমি দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচন কমিশন তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে এবং নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সরকারি সব অর্গান ও প্রশাসনিক মেশিনারিজ আপনাদের অধীনে রয়েছে। তাই আমরা চাই, কোনো প্রার্থী বা সমর্থক যেন সীমালঙ্ঘন করতে না পারে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় থাকুক।
আরও পড়ুন
ভাগ্য নির্ধারণে তরুণ ভোটার, ইশতেহারে তাদের জন্য কী দিচ্ছে দলগুলো
তারা আমাদের মা-বোনের গায়েও হামলা করেছে, তাদের কি মা-বোন নেই
নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত প্রার্থী বলেন, এরই মধ্যে কয়েকটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে আমাদের নারী কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মিরপুরে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনের এখনো ২০ দিন বাকি। প্রচারণা শুরুর আগেই যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে, তাহলে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন কঠোর হলে এসব বন্ধ হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার পরও এখন পর্যন্ত অবৈধ অস্ত্র পুরোপুরি উদ্ধার হয়নি। জনগণের পক্ষ থেকে আমরা দাবি জানাচ্ছি- সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে, যাতে মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে।
এ সময় জামায়াতের বিরুদ্ধে ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে জসীমউদ্দীন সরকার তা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। ভোটার কন্টাক্ট কার্যক্রমে ব্যক্তিগতভাবে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে টাকা দেওয়া বা এনআইডি সংগ্রহ আচরণবিধি লঙ্ঘন- এ ধরনের কাজ আমরা করিনি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, এসব সীমালঙ্ঘনের ঘটনা শুধু একটি দলের নয়, বিভিন্ন পক্ষের মধ্যেই দেখা যায়। তবে নির্বাচন কমিশন কঠোর নজরদারি করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ইএআর/কেএসআর