ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. রাজনীতি

ঈদের পর এনসিপিতে যোগ হচ্ছে আরও দুই সহযোগী সংগঠন

মো. নাহিদ হাসান | প্রকাশিত: ০৮:৪৬ পিএম, ১৯ মার্চ ২০২৬

রাজনৈতিক পরিসরে নিজেদের সাংগঠনিক বিস্তার আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ঈদের পরপরই গঠিত হবে নতুন দুটি সহযোগী সংগঠন। ‘জাতীয় কৃষক শক্তি’ ও ‘জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক শক্তি’ নামে সংগঠন দুটি আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ করতে পারে বলে খবর দলীয় সূত্রের।

দলের একাধিক শীর্ষ নেতা জাগো নিউজকে জানান, ইতোমধ্যে দলীয় ফোরামে এ দুই সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কৃষিখাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষ এবং সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে যুক্ত স্বেচ্ছাসেবীদের সংগঠিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দলটি বিভিন্ন পেশাভিত্তিক মানুষের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে চায়।

নেতারা বলছেন, দেশের বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠী কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম। কৃষক শক্তি গঠনের মাধ্যমে এই খাতের মানুষের দাবি-দাওয়া তুলে ধরে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে স্বেচ্ছাসেবক শক্তি সামাজিক কার্যক্রম, দুর্যোগ মোকাবিলা ও জনসেবামূলক উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

এর আগে এনসিপি ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি, শ্রমশক্তি ও নারীশক্তি নামে চারটি সহযোগী সংগঠন গঠন করে। নতুন দুটি সংগঠন যুক্ত হলে দলটির সাংগঠনিক কাঠামো আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন দলের নেতাকর্মীরা।

জাতীয় কৃষক শক্তি ও জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক শক্তি নামে দুটি সংগঠন করার পরিকল্পনা আছে। ঈদের পরে কার্যক্রম শুরুর প্রত্যাশা আমাদের।-এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন

দলীয় সূত্র জানায়, নতুন সংগঠন দুটির বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতারা সাংগঠনিক বিস্তার নিয়ে কাজ শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। ঈদের পরই কেন্দ্রীয়ভাবে উদ্বোধনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে যেসব সংগঠন রয়েছে এনসিপির

সহযোগী সংগঠন হিসেবে জাতীয় ছাত্রশক্তি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি এবং অঙ্গসংগঠন হিসেবে জাতীয় যুবশক্তি ও জাতীয় নারীশক্তির কার্যক্রম শুরু করেছে দলটি।

জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মুখসারির সমন্বয়কদের মধ্যে নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়াসহ আরও অনেকেই গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি নামের একটি ছাত্রসংগঠনে যুক্ত ছিলেন। অভ্যুত্থানের পর তারাই এ সংগঠনের কার্যক্রম স্থগিত করে দেন। এরপর গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সমন্বয়কদের (ছাত্রশক্তির সাবেক) একটি অংশের উদ্যোগে ছাত্র সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের যাত্রা শুরু হয়।

২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে তাদের ভরাডুবির পর সংগঠনটিকে পুনর্গঠন করে ঢেলে সাজানোর আলোচনা শুরু হয়। একই বছরের ২৩ অক্টোবর সংগঠনটির নাম পাল্টে এনসিপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে জাতীয় ছাত্রশক্তির নামে সামনে আসে। সংগঠনটির সভাপতি করা হয় জাহিদ আহসানকে, সাধারণ সম্পাদক করা হয় আবু বাকের মজুমদারকে। বর্তমানে এ সংগঠনের ১২২ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি রয়েছে। কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শাখা কমিটিও গঠন করেছে সংগঠনটি।

আরও পড়ুন

নির্বাচনি সমঝোতায় এনসিপিতে ‘আদর্শ বনাম কৌশলের দ্বন্দ্ব’
গণপরিষদ নির্বাচন নিয়ে যত মাথাব্যথা এনসিপির, প্রয়োজনে আন্দোলন
৫১ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করছে এনসিপি, নাম প্রকাশ শিগগির

যুবকদের মধ্যে কাজ করতে গত বছরের ১৬ মে গড়ে তোলা হয় জাতীয় যুবশক্তি। এই সংগঠনের আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, সদস্য সচিব জাহেদুল ইসলাম। যুবশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটি ১৩৪ সদস্যের।

গত বছরের ১৭ অক্টোবর শ্রমিক শক্তির আত্মপ্রকাশ হয়। বর্তমানে এ সংগঠনের ১০১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি আছে। সংগঠনটির আহ্বায়কের দায়িত্বে মাজহারুল ইসলাম ফকির ও সদস্য সচিব ঋআজ মোর্শেদ।

এরপর সবশেষ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে নারীশক্তির। প্রাথমিকভাবে সংগঠনটির তিন সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এতে মনিরা শারমিনকে আহ্বায়ক, মাহমুদা আলম মিতুকে সদস্য সচিব ও নুসরাত তাবাসসুমকে মুখ্য সংগঠকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও পেশাজীবীদের নিয়ে এনসিপির আরও কিছু সংগঠন রয়েছে। যেমন, ন্যাশনাল প্রফেশনাল অ্যালায়েন্স। এনসিপি-সমর্থিত চিকিৎসকদের জন্য আছে ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্স, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফোরাম, আইনজীবীদের জন্য ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স কাউন্সিল, ট্যাক্স ল’ইয়ার্স অ্যালায়েন্স, ওলামাদের জন্য ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স, প্রকৌশলীদের জন্য প্রকৌশল উইং ও ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য আছে ডিপ্লোমা প্রকৌশল উইং, বিদেশে বসবাসরত প্রবাসীদের জন্য আছে ডায়াস্পারো অ্যালায়েন্স।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘জাতীয় কৃষক শক্তি ও জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক শক্তি নামে দুটি সংগঠন করার পরিকল্পনা আছে। ঈদের পরে কার্যক্রম শুরুর প্রত্যাশা আমাদের।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দলীয় ফোরামে আলোচনা হয়েছে কী কী সহযোগী সংগঠন থাকা দরকার। সেই জায়গা থেকে এই দুই সংগঠনের নাম উঠে এসেছে। আমাদের একটি আন অফিসিয়ালি কৃষক উইং আছে। এটার কাজটা একটু এগোনো। আর স্বেচ্ছাসেবক শক্তির কাজ সেভাবে শুরু হয়নি এখনো।’

মনিরা শারমিন বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য কৃষকদের অধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা।’

এনএস/এএসএ