আবদুল জলিলের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
ছবি-ফাইল
আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল জলিলের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৩ সালের এই দিনে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
এ উপলক্ষে তার পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।
আব্দুল জলিলের সংক্ষিপ্ত জীবনীঃ
১৯৩৯ সালের ২১ জানুয়ারি তৎকালিন নওগাঁ মহকুমার চকপ্রাণ মহল্লায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মাতা জরিনা ফয়েজ। তার দুই স্ত্রী ফাতেমা জলিল ও রেহানা জলিল। দুই মেয়ে ডা. শারমীন জলিল জেসি ও ডা. মৌমিতা জলিল জুলি এবং দুই ছেলে নিজাম উদ্দিন জলিল জন ও জুমায়েত জলিল জুম্মা।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের পথে আমৃত্যু পথচলা এক রাজনিতীবিদের নাম জননেতা আব্দুল জলিল। দীর্ঘ ৭৪ বছর জীবনে ছাত্রলীগ থেকে আওয়ামী লীগ- ৫৭ বছর একই আদর্শ পথ হেঁটেছেন। ১৯৫৭ সালে নওগাঁ কেডি হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পাসের পর রাজশাহী কলেজে অধ্যায়ন কালেই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৫৭-৫৮ সালে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সাহিত্য সম্পাদক হন।
১৯৬০ সালে বগুড়া আজিজুল হক কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েটের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়ন কালে ডাকসুর অতিরিক্ত সেক্রেটারি পদে নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে পর পর দুবার (১৯৬০-৬১ এবং ১৯৬১-৬২) সমিতির সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর তিনি অর্নাসসহ মার্স্টাস কোর্স সমাপ্তির পর ব্যারিস্টার অ্যাট ল পড়তে লন্ডন যান। বঙ্গবন্ধুর কথায় সাড়া দিয়ে ১৯৬৯ সালে দেশে ফিরে নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধে ৭ নম্বর সেক্টরে ভারতের বালুরঘাঁট ক্যাম্পে কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৭২ সালে নওগাঁ পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান, ৭৩ এর নির্বাচনে প্রথম বারের মত সংসদ সদস্য, ৭৫ সালে দেশের এক বিশেষ পরিস্থিতিতে কিছু সময়ের জন্য সব দল মিলে জাতীয়দল বাকশাল গঠনের পর নওগাঁর গভর্নর পদে তিনি নিয়োগ পান। একই সঙ্গে বাকশালের যুক্তফ্রন্ট জাতীয় যুব লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য হন তিনি।
৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর দীর্ঘ প্রায় চার বছর বিনা বিচারে কারা নির্যাতন ভোগ করে ১৯৭৯ সালে তিনি মুক্তি লাভ করেন। ১৯৮৪ সালে কারা নির্যাতিত এই নেতা নওগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ৮৬ এর সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয় বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ৮৮ সালে আবারও নওগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
বঙ্গবন্ধু হত্যার ২১ বছর পর ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে টেকনোক্যাট কোটায় ৯৯ সালে মাত্র ১৪ মাস বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০০১ সালে নওগাঁ-৫ সদর আসন থেকে তৃতীয় বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি একটানা ১৬ বছর নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
২০০৭ জরুরি অবস্থায় জারি হলে ২৮ মে তিনি গ্রেফতার হন। কারাগারে তিনি অসুস্থত হয়ে পড়েন। অনেক নির্যাতন ও কষ্টের পর ২০০৮ সালের ২ মার্চ পাঁচ শর্তে একমাসের জন্য প্যারোলে মুক্তি পান এবং চতুর্থ বারের জন্য সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এমএমজেড/জেআইএম