ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. প্রবাস

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে মালয়েশিয়া প্রবাসীদের প্রত্যাশা

আহমাদুল কবির | প্রকাশিত: ১০:১৬ এএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথমবারের মতো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ। মঙ্গলবার সকালে শেষ হয়েছে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা, আর বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত এই নির্বাচন।

রাজনৈতিক পালাবদলের এই মুহূর্তে দেশের অভ্যন্তরের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিরাও তাকিয়ে আছেন নতুন সরকারের দিকে।
বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রায় ১২ লাখ প্রবাসী।

সরকার ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে তিন দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। ভোটের দিন গণপরিবহনে বিধিনিষেধ থাকায় হাজার হাজার মানুষ নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় ফিরছেন। ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মহাসড়কগুলোতে তীব্র যানজটের খবর জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো।

গত আগস্টে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের মাধ্যমে ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। এর পরই অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এই নির্বাচন আয়োজন করা হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কেবল একটি সাধারণ নির্বাচন নয় বরং কর্তৃত্ববাদী শাসন থেকে সুশাসনের পথে উত্তরণের পরীক্ষা।

মোট ১২ কোটি ৭ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় এক-চতুর্থাংশই প্রথমবারের ভোটার। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা তরুণ প্রজন্ম এখন রাজনৈতিক সংস্কার, জবাবদিহিতা ও কর্মসংস্থানের বাস্তব পরিবর্তন চায়।

মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রবাসীরা বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। প্রতি বছর তারা বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করেন। তবে তাদের প্রত্যাশা শুধু অর্থ পাঠানো নয়, রাষ্ট্র যেন তাদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখে।

ই-ভিসা জটিলতা, বিলম্ব ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্য দীর্ঘদিনের সমস্যা। নতুন সরকার যেন দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম ডিজিটাল ও স্বচ্ছ করে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

অনেক শ্রমিক চুক্তি অনুযায়ী বেতন বা সুবিধা পান না। নতুন সরকার যেন মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে শক্তিশালী কূটনৈতিক আলোচনা করে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, কর্মঘণ্টা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

পাসপোর্ট নবায়ন, লিগ্যাল ডকুমেন্টেশন, অভিযোগ নিষ্পত্তি এসব সেবায় দ্রুততা ও জবাবদিহিতা চান প্রবাসীরা। তারা চান দূতাবাসে হয়রানি ও দালাল নির্ভরতা বন্ধ হোক।

বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় আসার পথে অতিরিক্ত ফি আদায়, প্রতারণা ও চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। নতুন সরকার যেন রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়।

প্রবাসীদের দুর্ঘটনা, অসুস্থতা বা মৃত্যুতে দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি সহজ করা। এটিও একটি বড় দাবি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসী ইস্যুতে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে নতুন সরকার অর্থনীতি ও কূটনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলো হতে পারে

ডিজিটাল ও একক জানালা প্রবাসী সেবা চালু করা
দ্বিপাক্ষিক শ্রমচুক্তি হালনাগাদ ও বাস্তবায়নে মনিটরিং সেল গঠন
দূতাবাসে হটলাইন ও অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থার কার্যকর প্রয়োগ
দালালচক্র ও অনিয়মের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি
প্রবাসীদের ভোটাধিকার ও নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি।

এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণে প্রায় ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক অংশ নিচ্ছেন। ৩০০টি সংসদীয় আসনের বিপরীতে প্রায় ২,০০০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একই দিনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার-সংক্রান্ত গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, নতুন সরকারকে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে, যেন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আর ব্যাহত না হয়।

মালয়েশিয়া প্রবাসীদের ভাষ্য, তারা শুধু রেমিট্যান্সযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত থাকতে চান না। বরং রাষ্ট্রের সমান মর্যাদাপূর্ণ নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি চান। তাদের দাবি, নতুন সরকার যেন বাস্তবসম্মত নীতি গ্রহণ করে বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা, ন্যায্য অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত করে।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন তাই শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়—এটি দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রবাসীদের অধিকার রক্ষার নতুন অঙ্গীকারের পরীক্ষা। এখন দেখার পালা, জনগণের রায়ে গঠিত নতুন সরকার কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে।

এমআরএম/এএসএম