মিশরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নজর কাড়লেন দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী
মুহাম্মদ জায়েদ তরফদার ও সাইয়্যেদ গোলাম মাওলা রেজভী/ছবি-সংগৃহীত
মিশরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন দেশটিতে অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী।
জাতিসংঘ এবং আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী বৈশ্বিক অধিবেশনে বিশ্বের ২৪টি দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মানবাধিকার ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিষয়ে গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তারা।

''Complementarity Between Religions and Human Rights'' শীর্ষক এই আন্তর্জাতিক অধিবেশনটির আয়োজন করে ব্রিটিশ ইউনিভার্সিটি ইন ইজিপ্ট (BUE) এবং আল-আজহার অবজারভেটরি ফর কমবেটিং এক্সট্রিমিজম। এতে সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্ত ছিল জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল এবং ডমিনিকান ইনস্টিটিউট।
গত ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ায়—লিখিত প্রোপোজাল ও একাধিক ধাপে বাছাইয়ের মাধ্যমে—হাজারো আবেদনকারীর মধ্য থেকে মাত্র ৩০ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে চূড়ান্ত ভাবে নির্বাচিত করা হয়, যাদের মধ্যে দুইজন ছিলেন বাংলাদেশি।

আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ জায়েদ তরফদার, তার উপস্থাপনায় দক্ষিণ এশিয়ায় মিশনারি সংঘাতের প্রভাব এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা তুলে ধরেন। তার গবেষণায় আঞ্চলিক বাস্তবতা, সামাজিক প্রভাব এবং মানবাধিকারের আন্তঃসম্পর্ক গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপিত হয়।
অন্যদিকে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইয়্যেদ গোলাম মাওলা রেজভী তার গবেষণায় বাংলাদেশে সংঘটিত মব ভায়োলেন্স এবং ব্যক্তিগত বিশ্বাসের অধিকার (Right to Faith) বিষয়ক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। সামাজিক সহনশীলতা ও আইনের শাসনের আলোকে তার প্রস্তাবনা আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় ধর্ম ও মানবাধিকারের সমন্বয়, পোপ ফ্রান্সিস এবং শাইখুল আজহারের মধ্যকার ঐতিহাসিক শান্তি বার্তার প্রেক্ষাপটে উপস্থাপিত এই দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সময়োপযোগী ও সাহসী গবেষণা প্রশংসা পায় জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের কাছেও।
অধিবেশন শেষে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের কায়রোর ঐতিহাসিক ধর্মীয় ও প্রশাসনিক স্থাপনাসমূহ পরিদর্শনে নেওয়া হয়, যেখানে মিশরের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সহাবস্থান ও ধর্মীয় সহনশীলতার বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়। কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদপত্র।
আয়োজক কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংরক্ষণ, ধর্মীয় সম্প্রীতি জোরদার এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠায় বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান এই দুই বাংলাদেশি প্রতিনিধিকে।
এমআরএম