লন্ডনে বর্ণিল আয়োজনে চীনা নববর্ষ উদযাপন
ছবি- সংগৃহীত
সেন্ট্রাল লন্ডনে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে চীনা নববর্ষ। এ বছর চীনা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী শুরু হয়েছে ঘোড়ার বছর, যা সৌভাগ্য, সাফল্য ও অগ্রগতির প্রতীক। এই উপলক্ষে ট্রাফালগার স্কয়ার, চায়নাটাউন এবং ওয়েস্ট অ্যান্ডজুড়ে অনুষ্ঠিত হয় জমকালো প্যারেড, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নানাবিধ বিনোদনমূলক আয়োজন।
চীনা নববর্ষ উদযাপনের মূল আকর্ষণ ছিল মহাপ্যারেড, যা সকাল ১০টায় ট্রাফালগার স্কয়ারের পূর্ব প্রান্ত থেকে শুরু হয়। বর্ণিল ড্রাগন ও সিংহ নৃত্যের দল, ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত শিল্পীরা চ্যারিং ক্রস রোড ও চায়নাটাউন অতিক্রম করে শ্যাফটসবেরি অ্যাভিনিউ পর্যন্ত প্যারেড পরিচালনা করেন। রাস্তার দু’পাশে জড়ো হওয়া হাজারো দর্শনার্থী করতালি ও উল্লাসে অংশ নেন এই উৎসবে।
প্যারেড শেষে চায়নাটাউনে অনুষ্ঠিত হয় লায়ন আই-ডটিং অনুষ্ঠান, যা চীনা ঐতিহ্যে সৌভাগ্য ও শান্তির প্রতীক। একইসঙ্গে ট্রাফালগার স্কয়ারে চলে সারাদিনব্যাপী মঞ্চ পরিবেশনা, মার্শাল আর্ট প্রদর্শনী, লোকনৃত্য ও আধুনিক চীনা সংগীতানুষ্ঠান। সন্ধ্যায় আতশবাজির মাধ্যমে উৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটে।

২০২৬ সালকে বলা হচ্ছে আগুন ঘোড়ার বছর, যা শক্তি, সাহস ও সাফল্যের প্রতীক। বিশেষ করে যারা ঘোড়ার বছরে জন্মগ্রহণ করেছেন, তাদের জন্য এটি একটি সৌভাগ্যের বছর বলে বিশ্বাস করা হয়। এই বছরে নতুন সুযোগ, কর্মক্ষেত্রে উন্নতি ও ব্যক্তিগত অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীনা নববর্ষ শুধু চীনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কোরিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনসহ বহু দেশে এই উৎসব ব্যাপকভাবে পালিত হয়। লন্ডনে বসবাসরত বিভিন্ন দেশের মানুষের অংশগ্রহণে এই উৎসব এখন বহুজাতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। প্রতি বছরই এশিয়ার বাইরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় চীনা নববর্ষ উদযাপনের স্বীকৃতি পায় লন্ডন।

উৎসব উপলক্ষে চায়নাটাউনসহ লন্ডনের বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে থাকছে বিশেষ খাবারের আয়োজন। ডাম্পলিং, নুডলস ও মাছের নানা পদ দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে। পাশাপাশি লন্ডন মিউজিয়াম ডকল্যান্ডস ও ওল্ড স্পিটালফিল্ডস মার্কেটে চলছে শিশু ও পরিবারের জন্য নানা কর্মশালা, শিল্পকলা প্রদর্শনী ও ঐতিহ্যবাহী নৃত্য।
লন্ডনে আজকের এই বর্ণিল প্যারেড ও উৎসব আয়োজন প্রমাণ করে, চীনা নববর্ষ এখন কেবল একটি ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি বিশ্বসংস্কৃতির মিলনমেলা। ঘোড়ার বছরের এই আনন্দঘন সূচনা সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি—এমন প্রত্যাশাই করছে লন্ডনবাসী।
এমআরএম