বাহারি পিঠা-পুলির আয়োজনে মিশিগানে স্বাধীনতা দিবস উৎযাপন
ভাপা, পুলি, চিতই, পাটিসাপটা, চুঙ্গা পিঠা, গোলাপ ফুল পিঠা, লবঙ্গ লতিকা, রসফুল পিঠা, জামদানি পিঠা, হাঁড়ি পিঠা, ঝালপোয়া, ঝুরি পিঠা, ঝিনুক পিঠা, সূর্যমুখী পিঠা, নকশি পিঠা, নারকেল পিঠা, নারকেলের ভাজা পুলি, দুধচিতই আরো কত কী বিচিত্র সব পিঠার নাম! এই পিঠা বাংলাদেশের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বাংলাদেশের যেকোনো উৎসবে আনন্দে মিশে আছে রকমারি পিঠা। পিঠা উৎসবের সঙ্গে মিশে আছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির অনুষঙ্গ। প্রবাসেও বঙ্গ নরনারীরাও এই আয়োজন থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে চান না। গ্রামীণ সমাজ সংস্কৃতির জনপ্রিয় এ লোকখাদ্যের এ স্বাদ পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের বাংলাদেশি বাসিন্দারা।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মচঞ্চল জীবনে ভাটা পড়ে নেই সেই রীতির। প্রবাস জীবনেও বাঙালির সেই সংস্কৃতির ছোঁয়া এনে দিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ২৬ মার্চ (শনিবার) ট্রয় নগরীর বলকান আমেরিকান কমিউনিটি সেন্টারে বসেছিল বাংলাদেশি পিঠার উৎসব। শতাধিক ভিন্ন স্বাদের পিঠার এ উৎসবে জমায়েত হয়েছিল ছেলে-বুড়ো মিলে হাজারের বেশি অতিথি।
সাদা শাড়ি লাল পাড়ে সেজেছিল সব বঙ্গ ললনারা । লাল সবুজ পাঞ্জাবি, জামায় সব কচিকাচারা। এ প্রতিযোগিতা নয় তবে মনের আনন্দে মুখর ছিল পুরো সন্ধ্যা। এ সময় টাটকা চালে তৈরি করা হয় বাহারি পিঠা পুলি। পিঠার সেই মৌ মৌ গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে বলকান সেন্টারের পুরো হলরুম। মোসাম্মাৎ হোসাইন সিমি ও পপি ছিলেন এই আয়োজনের প্রধান উদ্যোক্তা।
সন্ধ্যা ৭টায় হরেক রকমের পিঠা নিয়ে হাজির হন সব পরিবার। ডালায় ডালায় থরে থরে সাজানো হয় সব পিঠা। লাইনে সারিবদ্ধ হয়ে প্লেট উচু করে নিয়েছেন পছন্দের সব পিঠা। পেট পুরে পিঠা খাওয়ার পর শুরু হয় দ্বিতীয় পর্ব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’ দিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরু হয়।
হলভর্তি বাংলাদেশি ছাড়াও অন্য দেশীয় অতিথিরাও দাঁড়িয়ে সম্মান জানান। এরপর শামিম শহীদ নির্মিত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের একটি প্রাণবন্ত সংক্ষিপ্ত ভিডিও পরিবেশন করা হয়। ঢোল, তাল আর বাঁশির সুরে সব কচিকাচারা বাংলাদেশের পতাকা হাতে নিয়ে স্টেজে ওঠে।
এরপর গান পরিবেশন করেন প্রবাসী শিল্পী ফারহানা বিশ্বাস ইলোরা (সবকটা জানালা, চাঁদ হেরিছে, ভুলি কেমনে), রাসেল (মাগো ভাবনা কেন), সামিনা (তোমার খোলা হাওয়া) ডা. নিলুফা আক্তার (নিতু) (একবার যেতে দে না), ড. জাফরী আল ক্বাদরী (হাওয়া মেঘ সরায়ে) এবং নিতু ও জাফরী দম্পতির দ্বৈত পরিবেশনা এখন তো সময় ভালোবাসার। পুথি পাঠে ছিলেন শফিক ইসলাম ও স্বাধীনতা তুমি আবৃত্তি করে শোনান প্রকৌশলী ফেরদৌস গাজী।
বাংলাদেশের সংস্কৃতি, স্বাধীনতার ইতিহাস প্রবাসে বেড়ে উঠা প্রজন্মকে জানাতে এ আয়োজনের গুরুত্ব অনেক বলে জানালেন আগত অতিথিগণ। স্বাধীনতার এ বিশেষ দিনে সব শ্রেণি-পেশার প্রবাসীদের একই ছাদের নিচে হয়ে উৎসবমুখর পরিবেশের এ আয়োজন ছিলো বেশ সফল। নৈশভোজের পর স্বাধীনতার এ পিঠা উৎসবের সমাপণ ঘটে।
বিএ