ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ধর্ম

সুরা ফাতেহার বরকতে রোগ নিরাময়

ইসলাম ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৫:৩৮ পিএম, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কয়েকজন সাহাবি কোনো এক সফরে বের হয়েছিলেন। আরবের এক গোত্রের বসতির পাশ দিয়ে পথ অতিক্রম করার সময় তাদের কাছে মেহমানদারির কথা বললেন। কিন্তু তারা তাদের মেহমানদারি করল না।

তারা সেখানে থাকতেই ঘটনাক্রমে ওই গোত্রের নেতাকে সাপ দংশন করল। তখন গোত্রের মানুষজন এসে বলল, আপনাদের কাছে কি সাপের দংশন নিরাময়ের ওষুধ আছে অথবা আপনাদের মধ্যে ঝাড়ফুঁককারী কেউ আছেন?

সাহাবিরা উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, আছেন। তবে আপনারা যেহেতু আমাদের মেহমানদারি করেননি, তাই আমাদের জন্য কোনো পারিশ্রমিক নির্ধারণ না করলে আমরা ঝাড়ফুঁক করবো না।

তখন ওই গোত্রের লোকেরা ঝাড়ফুঁকের পারিশ্রমিক হিসেবে এক পাল ছাগল দিতে রাজি হলো।

সাহাবায়ে কেরাম ওই গোত্রের নেতার কাছে গেলেন। একজন সাহাবি সুরা ফাতেহা পড়লেন এবং মুখে থুথু জমা করে ওই ব্যক্তির শরীরে ছিটিয়ে দিলেন। আল্লাহর ইচ্ছায় ওই ব্যক্তি রোগমুক্ত হল।

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ওই গোত্রের লোকেরা একপাল ছাগল তাদের দিয়ে দিল।

সাহাবিরা ছাগলের পাল গ্রহণ করলেন। কিন্তু তারা ঠিক করলেন নবীজিকে (সা.) জিজ্ঞাসা না করে ছাগলের মাংস-দুধ খাবেন না বা ছাগলগুলো ভাগ করে নেবেন না। কারণ হতে পারে এভাবে ঝাড়ফুঁক করে পারিশ্রমিক গ্রহণ করাটা ঠিক হয়নি।

মদিনায় পৌঁছে তারা এ বিষয়ে নবীজিকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন। নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পুরো ঘটনা শুনে হেসে ফেললেন এবং বললেন, আপনারা কীভাবে জানলেন, সুরা ফাতেহা পাঠ করলে রোগ সারে? ঠিক আছে, ছাগলগুলো আপনারা ভাগ করে নিন, আমার জন্যও এক ভাগ রাখবেন। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

এই ঘটনা থেকে আমরা যে শিক্ষা পাই

পবিত্র কোরআন আল্লাহ তাআলার মহিমান্বিত কিতাব। এতে বান্দাদের জন্য হালাল-হারাম সম্পর্কে দিক-নির্দেশনা আছে, আল্লাহর তাআলার পবিত্র নামসমূহ, গুণাবলি, সৃষ্টি ও ক্ষমতার বর্ণনা আছে। এর ফজিলত অসংখ্য ও সীমাহীন। কারণ এটি আল্লাহ তাআলার বাণী। আল্লাহর বাণীর চেয়ে উত্তম আর কী হতে পারে? আল্লাহর চেয়ে উত্তম বক্তা আর কে হতে পারে?

আল্লাহ তাআলা তার কিতাবকে অন্তরের রোগসমূহের (সন্দেহ, কুমন্ত্রণা ও বিভ্রান্তি) জন্য শিফা বানিয়েছেন। একইভাবে তিনি এটিকে দেহের রোগসমূহের জন্যও আরোগ্যের মাধ্যম করেছেন। কোরআনের বরকতে বদনজর, হিংসা, জিন ও জাদুর কুপ্রভাব কেটে যায়। এ ছাড়া অন্যান্য সব রকম রোগ থেকেই আল্লাহ তাআলা আরোগ্য দান করতে পারেন তার বাণীর বরকতে।

তবে সাধারণ শারীরিক রোগের ক্ষেত্রে জাগতিক চিকিৎসা গ্রহণ করা ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করাই নবীজির (সা.) শিক্ষা। ওষুধ গ্রহণের পাশাপাশি আল্লাহর তাআলার কালামের ঝাড়ফুঁকও করা যেতে পারে যেন আল্লাহ তাআলা রোগমুক্তি দ্রুততর ও সহজ করেন।

ওএফএফ

আরও পড়ুন