ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ধর্ম

ওয়াহিদুদ্দিন খান (রহ.)

কোরআন নাজিলের মাস রমজান

ইসলাম ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৪:৩১ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

তর্জমা: মওলবি আশরাফ

পবিত্র কোরআনে রোজা রাখার নির্দেশ দিতে গিয়ে বিশেষভাবে কোরআন নাজিল হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বোঝা যায় রোজা ও কোরআনের মধ্যে এক গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, রমজান মাস—যে মাসে কোরআন নাজিল করা হয়েছে মানুষের হেদায়াতের জন্য, পথনির্দেশের সুস্পষ্ট বর্ণনারূপে এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন এতে রোজা রাখে। (সুরা বাকারা: ১৮৫)

কোরআন নাজিল শুরু হয় খ্রিষ্টীয় ৬১০ সালে, যা ছিল চন্দ্রপঞ্জিকা অনুযায়ী রমজান মাস। সেই সময় রাসুল (সা.) হেরা গুহায় অবস্থান করছিলেন, সেখানে প্রথম ওহি নাজিল হয়। এরপর ধীরে ধীরে নানান প্রেক্ষাপটে নাজিল হয়ে ২৩ বছরে কোরআন পূর্ণতা লাভ করে। এর মধ্য রাসুল (সা.) হিজরত করেছিলেন, তাই কিছু সুরা মক্কায় আর কিছু সুরা মদিনায় নাজিল হয়।

মানুষের ওপর আল্লাহর সবচেয়ে বড় অনুগ্রহ হলো কোরআনের মতো একটি হেদায়াতের গ্রন্থ। কারণ এটি মানুষকে সর্বোচ্চ সফলতার পথ দেখায়। এই কোরআন শেখায় কীভাবে মানুষ তার বর্তমান জীবনকে এমনভাবে গড়ে তুলবে যাতে মৃত্যুর পর চিরস্থায়ী জীবনে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে। জান্নাত প্রতিটি মানুষেরই গন্তব্য, আর রোজা সেই গন্তব্যে পৌঁছানোর পথ।

রমজান মাস মূলত এই মহান নেয়ামতের বার্ষিক স্মরণ। কোরআন নাজিলের এই স্মৃতি উৎসবের জাঁকজমকে নয়, বরং তাকওয়া ও শুকরগুজারির পরিবেশে উদযাপিত হয়। এ মাসে রোজা রাখা মানে মনের গভীর থেকে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের স্বীকৃতি দেওয়া। এটি যেন কাজের মাধ্যমে বলা, ‘হে আল্লাহ, আমি (আপনার নির্দেশ) শুনেছি এবং আমি তা মনে-প্রাণে মেনে নিয়েছি।’

এ কারণে রমজান কোরআন বুঝে পড়া ও তিলাওয়াত করার মাস। এ মাসে বিশেষভাবে কোরআন পড়া হয়, রাতে তারাবির মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধার সাথে কোরআন শোনা হয়। উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামতকে যত বেশি সম্ভব স্মরণ করা। কোরআন নাজিলের মাসে কোরআন পড়তে পড়তে মানুষ সেই মুহূর্ত স্মরণ করে যখন আসমান ও জমিনের মধ্যে নুরের সংযোগ স্থাপিত হয়েছিল। তখন তার অন্তর থেকে উচ্চারিত হয়, ‘হে আল্লাহ, আমার অন্তরকেও আপনার আলোয় আলোকিত করে দিন।’

একজন মানুষ যখন কোরআন পাঠ করে, তখন সেখানে সে সেইসব সৌভাগ্যবান ব্যক্তিদের কথা পড়ে যারা যুগে যুগে আল্লাহমুখী জীবন যাপন করেছেন। তখন সে দোয়া করে, ‘হে আল্লাহ, আমাকেও আপনার প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন।’

কোরআনে জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা পড়লে তার হৃদয় থেকে আর্জি ওঠে, ‘হে আল্লাহ, আমাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করুন এবং জান্নাতে প্রবেশ করান।’

এভাবে কোরআন তার জন্য এমন এক জীবন্ত কিতাবে পরিণত হয় যার ভেতরে সে বাস করে, যেখান থেকে সে রুহানি খোরাক পায়, যার নুরের দরিয়ায় ডুব দিয়ে নিজেকে পাক-সাফ করে নেয়।

কোরআন আল্লাহর তরফ থেকে বান্দার কাছে প্রেরিত বিশেষ উপহার, আর রোজা বান্দার পক্ষ থেকে সেই উপহারের প্র্যাকটিক্যাল স্বীকৃতি দান। রোজার মাধ্যমে বান্দা নিজেকে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়ার যোগ্য করে তোলে। সে একটি অসাধারণ খোদায়ি হুকুম পালন করার মাধ্যমে নিজের ওপর আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের অনুভূতিকে জাগ্রত করে। রোজার এই ‘কোর্স’ সমাপ্ত করে সে নিজের ভেতরে এই যোগ্যতা তৈরি করে, যাতে সে দুনিয়ায় কোরআনের দেখানো পথ অনুযায়ী একজন মুত্তাকি বা খোদাভীরু মানুষের মতো জীবন অতিবাহিত করতে পারে

রোজা মানুষের অন্তরে কোমলতা তৈরি করে, তার আমিত্বে ভাঙন ধরায়, তাকে নম্র করে তোলে। এভাবে রোজা মানুষের ভেতরে এমন যোগ্যতা সৃষ্টি করে যার ফলে সে তার সূক্ষ্ম মানবিক ও আধ্যাত্মিক অনুভূতিগুলোকে জাগ্রত করতে পারে। এর ফলে সে সেই সব আধ্যাত্মিক অবস্থা উপলব্ধি করতে সক্ষম হয় যা আল্লাহ তার বান্দাদের কাছে প্রত্যাশা করেন।

রোজার এই কষ্টসাধ্য অভিজ্ঞতা মানুষকে পার্থিব বস্তুবাদী স্তর থেকে ওপরে তুলে আধ্যাত্মিক স্তরের দিকে নিয়ে যায়। রোজা এক ধরনের প্রশিক্ষণ যার মাধ্যমে মানুষ এমন যোগ্যতা অর্জন করে যে সে গভীর আকুলতা নিয়ে আল্লাহর এবাদত করতে পারে। রোজা মানুষকে এমন অবস্থায় নিয়ে যায়, যেখানে আল্লাহর কৃতজ্ঞতায় তার হৃদয় ব্যাকুল হয়ে ওঠে, আর আল্লাহর জবাবদিহিতার ভয়ে তার ভেতরে কম্পন সৃষ্টি হয়।

ওএফএফ

আরও পড়ুন