ভাইরাল তাজু ভাইয়ের নামে অর্ধশত পেজ, কোনটি আসল?
ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রবেশ করলেই হঠাৎ করে সামনে চলে আসে ‘তাজু ভাই ২.০’ নামের কতগুলো পেজ। ক্লিক করে টাইমলাইনে গেলে বোঝা যায়, এটি আসল পেজ নয়। একই নামে কেউ হয়তো তৈরি করেছেন কিছু ভিউয়ের আশায়। এমন অর্ধশতাধিক পেজের সন্ধান পাবেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। বেশিরভাগ পেজে ‘তাজু ভাই ২.০’ পেজ থেকে কনটেন্ট নিয়ে আপলোড করা হয়েছে।
একটু পড়াশোনা জানলেই এসব ভুয়া পেজ চেনা যায় সহজে। কেননা তাজু ভাইয়ের আসল পেজের ফলোয়ার এই মুহূর্তে ১.২ মিলিয়ন। এদিকে ভুয়া পেজগুলোর ফলোয়ার খুব বেশি একটা নয়। শুধু একটি পেজের ফলোয়ার সংখ্যা দেখা যায় ২৩ হাজার। বাকি পেজগুলো একেবারেই নতুন। কোনোটির ফলোয়ার সংখ্যা জিরো। ফলে আসল পেজটি চিনতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
আমরা জানি, সম্প্রতি ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করে ভাইরাল হয়েছেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের উত্তর ঢাকডহর সরকারপাড়া গ্রামের তাইজুল ইসলাম তাজু। গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে জিলাপির ‘সরকারি রেট’ নিয়ে করা একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ব্যাপক পরিচিতি পান তাজু ভাই।

তার সহজ-সরল উপস্থাপনা এবং গ্রামীণ জীবনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার ভঙ্গি দ্রুত মানুষের মন জয় করে নেয়। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি থেকে ভিডিও তৈরি শুরু করেন তাজু ভাই। গত ২৬ মার্চের জিলাপি বিক্রির ভিডিওটিই তাজু ভাইকে ভাইরাল করে দেয়। গত ২৮ মার্চ থেকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
- আরও পড়ুন
কে এই ভাইরাল ‘কবিতাওয়ালা’ আজিবর
৬ হাজারের মতো ফলোয়ার নিয়ে ভিডিও করা তাইজুল ইসলামের এখন ১.২ মিলিয়ন ফলোয়ার। একটি ভিডিওর কারণে রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যান তিনি। এর মাঝে গত ৫ এপ্রিল দুপুরের পর থেকে ফেসবুকে সার্চ করে ‘তাজু ভাই ২.০’ নামের পেজটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ সুযোগে অনেকেই তার নামে পেজ খুলে নেটিজেনদের ধোকা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে পরদিনই পেজটি ফিরে পান তিনি।
গণমাধ্যমসূত্রে জানা যায়, ব্যক্তিজীবনে তাইজুল ইসলাম নাগেশ্বরী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত নারায়ণপুর ইউনিয়নের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। পেশায় একজন রাজমিস্ত্রির সহকারী (হেলপার)। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় কাজের ফাঁকে শখের বশে এমন ভিডিও তৈরি করেন তিনি।

তার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই সমালোচনা করেন। তাকে ‘সাংবাদিক’ বলে অনেকে কটাক্ষ করার চেষ্টাও করেন। যে কারণে তিনি জাগো নিউজকে বলেছিলেন, ‘আমার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবারের দুঃখ-কষ্ট ভুলতেই আমি ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না।’
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আপনারা সাংবাদিকরা নারায়ণপুরে আসেন না, আমাদের এলাকার খবর করেন না। তাই আমি নিজেই ভিডিও করি। আমি বোকাসোকা মানুষ, ভুল হতেই পারে। আমাকে ট্রোল করলেও আমার কষ্ট নেই। আমি শুধু চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক।’
তাইজুল ইসলাম তাজু ভাইরাল হওয়ার পরই ভ্লগার, ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা ছুটে যান তার কাছে। তারা তাকে নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করতে শুরু করেন। সহজ-সরল মানুষটিকে বিভিন্ন ভাবে মোটিভেশন করার চেষ্টা করেন। এখন দেখা যাক, ভাইরাল তাজু ভাই তার স্বকীয়তা বজায় রাখতে পারেন কি না। নাকি অনেকের মতো আবার হারিয়ে যান।
এসইউ