অদম্য টি-টোয়েন্টি কাপের ফাইনাল বয়কট সাংবাদিকদের
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আয়োজনে অদম্য টি-টোয়েন্টি কাপের ফাইনাল বয়কট করেছেন ক্রীড়া সাংবাদিকরা। ম্যাচ শুরু হতেই মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে বের হয়ে আসেন তারা।
ইংরেজি পত্রিকা ডেইলি সানের ফটো সাংবাদিক তানভীন তামিমের একটি ছবিকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীনভাবে ‘ওয়ার্নিং মেইল’ দেয় বিসিবির সিকিউরিটি বিভাগ। এরপর বিসিবিকে ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম দেওয়া হলেও সাড়া মেলেনি। পরে ফাইনাল বয়কট করেন সাংবাদিকরা।
গত ৭ জানুয়ারি বিসিবির তিন পরিচালকের (ফারুক আহমেদ, এম নাজমুল ইসলাম ও খালেদ মাসুদ পাইলট) একটি ছবি প্রকাশ করে ডেইলি সান। ছবিতে দেখা যায়, এম নাজমুল ইসলামের প্রতি আঙুল তাক করেছেন বাকি দুইজন। ছবিটি দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এরপর ফটো সাংবাদিক তামিমকে ওয়ার্নিং দিয়ে মেইল পাঠান বিসিবির সিকিউরিটি বিভাগের প্রধান। সেখানে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিলের হুমকিও দেওয়া হয়।
রোববার বিসিবি পরিচালক ও সহসভাপতি ফারুক আহমেদ সংবাদ মাধ্যমে বলেন, ‘এটা এআই হতে পারে।’ এরপর আজ (সোমবার) তামিমকে নীতি না মেনে সতর্কবার্তা পাঠানোর কারণে দুঃখপ্রকাশ করার জন্য সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেয় সাংবাদিকরা।
পাশাপাশি প্রেসবক্সের ছাদে দাঁড়িয়ে ব্যানারসহ প্রতিবাদ জানায়। তবে বিসিবির কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়ায় না আসায় বিবৃতি দিয়ে সোমবার অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপের ফাইনাল বয়কট করা হয়।
এরপর সাংবাদিকরা এক বিবৃতিতে জানান, ‘এই টুর্নামেন্টের অ্যাক্রিডিটেশন প্রক্রিয়ায় ছবি তোলা নিয়ে কোনো নীতিমালা বা বিধিনিষেধের কথা বিসিবির পক্ষ থেকে কখনও জানানো হয়নি। তার পরও কোনো আপত্তি থাকলে ‘প্রতিবাদপত্র’ দেওয়া যেত। কিন্তু যে ভাষায় ও যে প্রক্রিয়ায় ডেইলি সান-এর ফটোসাংবাদিক তানভীন তামিমকে ‘ওয়ার্নিং’ দেওয়া হয়েছে, তা চরম আপত্তিজনক এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে নিশ্চিতভাবেই আঘাত। ক্রীড়া সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বিসিবির কাছে দাবি করা হয়েছিল, ওই ওয়ার্নিং লেটারের ভাষা ও প্রক্রিয়া নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করতে এবং এজন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। বিসিবির পক্ষ থেকে প্রত্যাশিত সাড়া না পেয়ে ক্রীড়া সাংবাদিকরা এই অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপের ফাইনাল পুরোপুরি বর্জন করছে।’
এসকেডি/এমএমআর