ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. খেলাধুলা

লাহোরে ৫ ঘণ্টার বৈঠকে বিসিবি-পিসিবির সঙ্গে কী কী আলাপ করেছে আইসিসি!

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৮:৫৫ পিএম, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। রবিবার লাহোরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি), পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর মধ্যে ৫ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর সংশ্লিষ্ট মহলে আশা করা হচ্ছে, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হতে পারে।

তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের ওপর নির্ভর করছে। তিনি পিসিবি চেয়ারম্যান মাহসিন নাকভির সঙ্গে বৈঠক করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনা দেবেন বলে জানা গেছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে, ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে পাকিস্তান সরে আসার সম্ভাবনাই বেশি।

কেন তৈরি হয়েছিল সংকট

বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে আয়োজনের অনুরোধ করেছিল। তবে স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়নে কোনো নির্দিষ্ট হুমকি না পাওয়ায় আইসিসি সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে ভারত ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেয়। পিসিবি ‘ফোর্স মেজর’ ধারা প্রয়োগ করে জানায়, সরকারি নির্দেশনার কারণে তারা ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামতে পারবে না।

লাহোর বৈঠকে কারা ছিলেন

রোববারের বৈঠকে আইসিসির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা। পিসিবির পক্ষে চেয়ারম্যান মাহসিন নাকভি এবং বিসিবির পক্ষে সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল উপস্থিত ছিলেন। এ বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল, অচলাবস্থা দূর করে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আয়োজনের পথ খুঁজে বের করা।

পিসিবির অভিযোগ ও শর্ত

বৈঠকে মাহসিন নাকভি আইসিসির বিরুদ্ধে ‘দ্বৈত নীতি’ অনুসরণের অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগ যথাযথ গুরুত্ব পায়নি এবং দলটিকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া ‘অন্যায়’ ও ‘অবিচার’।

তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করা হলে সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে। পিসিবির পক্ষ থেকে তিনটি দাবি উত্থাপন করা হয়—

১. বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ

২. টুর্নামেন্টে অংশ না নিলেও বাংলাদেশের জন্য পূর্ণ অংশগ্রহণ ফি নিশ্চিত করা

৩. ভবিষ্যতে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের স্বত্ব বাংলাদেশকে দেওয়া

বিসিবির ভূমিকা

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের লাহোর সফরকে বাংলাদেশের প্রতি পাকিস্তানের সংহতির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বৈঠকে অংশ নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার পর বাংলাদেশের অবস্থান ও উদ্বেগ আইসিসির কাছে তুলে ধরেন। এটি একদিকে কূটনৈতিক সমর্থনের ইঙ্গিত, অন্যদিকে সংকট সমাধানে সক্রিয় অংশগ্রহণ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

আইসিসির উদ্বেগ

আইসিসির প্রধান লক্ষ্য ছিল ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি যে কোনোভাবে আয়োজন নিশ্চিত করা। কারণ এই ম্যাচটি শুধু ক্রীড়াজগত নয়, বরং টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক আকর্ষণ। সম্প্রচার আয়ের বড় অংশই এই ম্যাচের ওপর নির্ভর করে।

আইসিসি প্রতিনিধিরা বৈঠকে পিসিবির কাছে ‘ফোর্স মেজর’ ধারা প্রয়োগের যৌক্তিকতা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চান। একই সঙ্গে জানানো হয়, এই ম্যাচ বাতিল হলে তা টুর্নামেন্টের আর্থিক ও ভাবমূর্তির জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।

সামনে কী হতে পারে

বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আলোচনার পরিবেশ ইতিবাচক ছিল এবং সমাধানের সম্ভাবনা জোরালো। ধারণা করা হচ্ছে, পাকিস্তান সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দ্রুতই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

সবকিছু ঠিক থাকলে, ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত- ভারত বনাম পাকিস্তান লড়াই। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন অপেক্ষায় রয়েছেন, রাজনৈতিক জটিলতা কাটিয়ে মাঠে ফিরবে কি না বিশ্ব ক্রিকেটের এই মহারণ।

আইএইচএস/