ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. খেলাধুলা

বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থতা

ইতালির প্রধান গ্রাভিনার পর পদত্যাগ করলেন বুফনও

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশিত: ০১:৩৯ এএম, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

ইতালির ফুটবলে বড় ধাক্কার পর একযোগে পদত্যাগের হিড়িক- বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে টানা তৃতীয়বার ব্যর্থতার জেরে ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে জাতীয় দলের শীর্ষ কর্মকর্তারা সরে দাঁড়ালেন। এতে দেশটির ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে-অফে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে এবারের আসরেও জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয় ইতালি ফুটবল দল। এর মধ্য দিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হলো চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা- যা ইতালিয়ান ফুটবলের ইতিহাসে এক বড় ধস হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই ব্যর্থতার ঠিক দুদিন পরই পদত্যাগ করেন ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা। ২০১৮ সালে দায়িত্ব নেওয়া গ্রাভিনা আগের দুই বিশ্বকাপ বাছাইয়েও ব্যর্থতার মুখ দেখেছিলেন। ফলে তার ওপর রাজনৈতিক ও ক্রীড়াঙ্গনের চাপ ক্রমেই বাড়ছিল।

গ্রাভিনার পদত্যাগের কিছুক্ষণের মধ্যেই ন্যাশনাল টিম ডেলিগেশন প্রধানের দায়িত্ব ছাড়েন ইতালির কিংবদন্তি গোলরক্ষক, সর্বোচ্চ ১৭৬ ম্যাচ খেলা জিয়ানলুইজি বুফন। ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় বলেন, `আমার পর যারা আসবেন, তাদের যেন নিজের মতো করে দল গঠনের স্বাধীনতা থাকে, সেটাই স্বাভাবিক।‘

বুফনের পদত্যাগের ফলে জাতীয় দলের কোচ জেনারো গাত্তুসোর ভবিষ্যৎও এখন অনিশ্চয়তায়। জানা গেছে, শিগগিরই তাকেও সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

ইতালির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি আগেই ফুটবল প্রশাসনে বড় পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, `ইতালিয়ান ফুটবলে বড় ধরনের সংস্কার দরকার, আর সেটা শুরু হতে হবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে।‘

ইতালির এই ব্যর্থতার ইতিহাস অবশ্য নতুন নয়। ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় দলটি। এরপর ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপেও বাছাইপর্ব পেরোতে পারেনি তারা। সবশেষ নকআউট ম্যাচ খেলেছিল ২০০৬ সালে, যখন ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল ইতালি।

তবে গ্রাভিনার আমলে একমাত্র বড় সাফল্য ছিল ২০২১ সালে ইউরো জয়। তারপরও ধারাবাহিক ব্যর্থতা তার অবস্থান দুর্বল করে দেয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইতালিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য আগামী ২২ জুন নির্বাচন ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন নেতৃত্বের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে জাতীয় দলকে পুনর্গঠন করা এবং দেশের ফুটবল কাঠামোকে নতুনভাবে সাজানো।

এছাড়া ২০৩২ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের দায়িত্বও রয়েছে ইতালির ওপর, যা তারা তুরস্কর সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজন করবে। তবে দেশের স্টেডিয়াম অবকাঠামোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উয়েফা প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার সেফেরিন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, `যদি অবকাঠামো প্রস্তুত না থাকে, তাহলে ইতালিতে টুর্নামেন্ট আয়োজন সম্ভব হবে না।‘

সব মিলিয়ে, ইতালিয়ান ফুটবল এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। নতুন নেতৃত্ব কত দ্রুত দলকে ঘুরে দাঁড় করাতে পারে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

আইএইচএস/ইএ