ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. খেলাধুলা

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার এখন পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর হাতে

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০:০২ পিএম, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ-এ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সোমবার পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যম জিও নিউজকে সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মাহসিন নাকভি আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং আইসিসি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরবেন। ওই বৈঠকের আলোচনার ভিত্তিতেই ভারত ম্যাচ বয়কট বজায় রাখা হবে, নাকি পাকিস্তান দল মাঠে নামবে- সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তান আগেই ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয়। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ দলকে ভারতে পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায় এবং সেই অবস্থানে অনড় থাকায় আইসিসি তাদের টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেয়।

দীর্ঘ বৈঠক, সমাধানের চেষ্টা

রোববার পিসিবি, আইসিসি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর মধ্যে পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পিসিবি চেয়ারম্যান মাহসিন নাকভি, বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম এবং আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা।

সূত্র জানায়, বৈঠকে বাংলাদেশের উত্থাপিত দাবি-দাওয়ার বিষয়ে আইসিসি ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে এবং বিসিবির অভিযোগ ও অসন্তোষ নিরসনে একটি সম্ভাব্য সমাধানসূত্র (ফর্মুলা) প্রস্তুত করা হয়েছে। আলোচনায় আইসিসি ও বিসিবি নিজেদের প্রস্তাব বিনিময় করেছে এবং পুরো আলোচনায় সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছে পিসিবি।

আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সংস্থার সদর দপ্তরে ফিরে গেছেন। অন্যদিকে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম ঢাকায় ফিরে গিয়ে সরকার ও বোর্ডকে বৈঠকের বিষয়ে অবহিত করবেন।

সূত্রগুলো আরও জানায়, প্রস্তাবিত সমাধানসূত্রে দুই পক্ষ একমত হলে আজ বিকেলে আইসিসি ও বিসিবি কর্মকর্তারা আবার যোগাযোগ করবেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ চূড়ান্ত করবেন।

আইসিসি-বিসিবি বিরোধের পটভূমি

বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়, যখন বাংলাদেশ দলের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) নির্দেশনায় আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ঢাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে খেলতে যাবে না- এ দাবি জানিয়ে। বিসিবি তাদের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার জন্য আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করে। তবে আইসিসি সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে।

বাংলাদেশ তাদের অবস্থানে অনড় থাকায় এবং ৭ ফেব্রুয়ারি টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সূচি পরিবর্তন সম্ভব না হওয়ায় আইসিসি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে।

এই সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় পিসিবি এবং বাংলাদেশের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের বড় আর্থিক গুরুত্ব

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও লাভজনক ম্যাচগুলোর একটি। সম্প্রচার, স্পনসরশিপ, বিজ্ঞাপন, টিকিট বিক্রি এবং সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক কার্যক্রম মিলিয়ে একটি টি-টোয়েন্টি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের মোট অর্থনৈতিক মূল্য প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা আনুমানিক ৪৫ হাজার কোটি রুপি।

শিল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ম্যাচ চলাকালে ১০ সেকেন্ডের একটি বিজ্ঞাপনের মূল্য ২৫ লাখ থেকে ৪০ লাখ রুপি পর্যন্ত হয়ে থাকে, যা ভারতের অন্য বড় ম্যাচগুলোর তুলনায়ও অনেক বেশি।

এছাড়া শুধু এই একটি ম্যাচ থেকেই সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩০০ কোটি রুপি পর্যন্ত বিজ্ঞাপন আয়ের আশা করে থাকে।

এমন পরিস্থিতিতে, আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচটি ঘিরে এখন সবার দৃষ্টি পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের দিকে। তার সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে ১৫ ফেব্রুয়ারির বহুল প্রতীক্ষিত ভারত-পাকিস্তান লড়াই মাঠে গড়াবে কি না।

আইএইচএস/