ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. খেলাধুলা

টি-২০ বিশ্বকাপ

সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০:৫১ এএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

গ্রুপ পর্ব শেষ। এবার শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসল লড়াই, সেরা আট দলের লড়াই- সুপার এইট। এই পর্বের প্রথম ম্যাচে আজ (শনিবার) মুখোমুখি হচ্ছে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তান। কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে এই দুই ‘মিডল পাওয়ার’ দল নিজেদের আসল শক্তি প্রমাণের অপেক্ষায়।

গত আড়াই বছরে (অক্টোবর ২০২২ থেকে এপ্রিল ২০২৫) দুই দল সব ফরম্যাট মিলিয়ে মুখোমুখি হয়েছে ৪১ বার। এর মধ্যে ২৪টিই টি-টোয়েন্টি। ২০২১ সালে নিরাপত্তা ইস্যুতে নিউজিল্যান্ডের পাকিস্তান সফর বাতিল করার পর দুই বোর্ড দ্বি-পাক্ষিক সিরিজের সংখ্যা বাড়িয়ে সূচি ভরিয়ে তোলা হয়েছিল।

গ্রুপ পর্বে দুই দলই তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষকে হারালেও শক্তিশালী দলের বিপক্ষে হোঁচট খেয়েছে। নিউজিল্যান্ড দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে, আর পাকিস্তান ভারত ম্যাচে স্পষ্টভাবে চাপে পড়েছিল। ফলে এই ম্যাচ দু’দলের জন্যই নিজেদের শিরোপা-দাবি জোরালো করার বড় সুযোগ।

নিউজিল্যান্ডের বড় চ্যালেঞ্জ ভেন্যু পরিবর্তন। চেন্নাই ও আহমেদাবাদে তারা পেস-স্পিনের ভারসাম্য নিয়ে খেলেছে, যেখানে মিচেল স্যান্টনার ছিলেন একমাত্র নিয়মিত স্পিনার; কিন্তু প্রেমাদাসার ধীরগতির উইকেটে স্পিনারদের ভূমিকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সেই হিসেবে একাদশে ইশ সোধিকে দেখা যেতে পারে।

সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড

ব্যাটিং অর্ডারে খুব বেশি পরিবর্তন আনেনি নিউজিল্যান্ড। ফিন অ্যালেন, টিম সাইফার্ট, রাচিন রবিন্দ্র ও গ্লেন ফিলিপসের সমন্বয়ে ওপরে ভালো আগ্রাসন দেখা গেছে। চার ম্যাচে মাত্র ১৪ উইকেট হারিয়েছে তারা- টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন।

অন্যদিকে পাকিস্তান কলম্বোর কন্ডিশনের সঙ্গে বেশ পরিচিত। তাদের বেশিরভাগ ম্যাচ শ্রীলঙ্কাতেই হয়েছে। অধিনায়ক সালমান আলি আগা ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, সুপার এইটে স্পিন নির্ভর কৌশল আরও জোরদার হবে।

পাকিস্তানের টপ অর্ডারে সাইম আইয়ুব ও সাহিবজাদা ফারহানের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের সম্ভাবনা থাকলেও ধারাবাহিকতা নেই। বাবর আজম এখনো সেরা ছন্দে ফিরতে পারেননি। মিডল অর্ডারে অলরাউন্ডার নির্ভরতা ও অনভিজ্ঞ খাজা নাফের উপস্থিতি দলকে নড়বড়ে করে তুলেছে।

নজরে দুই বোলার

জ্যাকব ডাফি (নিউজিল্যান্ড)

পাকিস্তানের বিপক্ষে তার স্ট্রাইক রেট ১০.৫- অন্তত ১৫ উইকেট নেওয়া বোলারদের মধ্যে সেরা। ৬২ উইকেটের মধ্যে ১৮টিই পাকিস্তানের বিপক্ষে, গড় মাত্র ১২.৭৭। তবে তার অধিকাংশ সাফল্য এসেছে নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে। প্রেমাদাসায় তিনি সেই ছন্দ ধরে রাখতে পারেন কি না, সেটাই দেখার।

আবরার আহমেদ (পাকিস্তান)
ভারতের বিপক্ষে খারাপ দিনের পর নামিবিয়ার ম্যাচে বাদ পড়েছিলেন। তবে ২০২৫ সালে পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন তিনি। গত এশিয়া কাপে স্পিন সহায়ক উইকেটে তার ইকোনমি ছিল ৫.৩৬- টুর্নামেন্টের সেরা। সুপার এইটের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে তার প্রত্যাবর্তন প্রায় নিশ্চিত।

সম্ভাব্য একাদশ

পাকিস্তান: সাহিবজাদা ফারহান, সাইম আইয়ুব, সালমান আলি আগা (অধিনায়ক), বাবর আজম, খাজা নাফে, শাদাব খান, উসমান খান (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ নওয়াজ/ফাহিম আশরাফ, সালমান মির্জা, উসমান তারিক, আবরার আহমেদ।

নিউজিল্যান্ড: টিম সাইফার্ট (উইকেটরক্ষক), ফিন অ্যালেন, রাচিন রবিন্দ্র, গ্লেন ফিলিপস, মার্ক চ্যাপম্যান, ড্যারিল মিচেল, মিচেল স্যান্টনার (অধিনায়ক), জিমি নিশাম, ম্যাট হেনরি, ইশ সোধি, জ্যাকব ডাফি। লকি ফার্গুসনের বিষয়ে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পিচ ও কন্ডিশন

প্রেমাদাসার উইকেট স্পিন সহায়ক এবং সীমানা তুলনামূলক বড়, ফলে রান তোলা কঠিন হতে পারে। যদিও সম্প্রতি জিম্বাবুয়ে এখানে বড় রান করেছে। হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

পরিসংখ্যান

  • এই টুর্নামেন্টে নিউজিল্যান্ডের দলীয় স্ট্রাইক রেট ১৬৫.৯৪- সর্বোচ্চ।
  • পাকিস্তানের স্ট্রাইক রেট ১৩৫.৫৪- সুপার এইটে ওঠা করা দলগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।
  • শেষ ১৬ টি-টোয়েন্টির মধ্যে ১২টিতে নিউজিল্যান্ড জিতেছে, তবে বিশ্বকাপে মুখোমুখি লড়াইয়ে পাকিস্তান এগিয়ে (৭ ম্যাচে ৫ জয়)।

শনিবারের লড়াই তাই শুধু দুই চেনা প্রতিপক্ষের ম্যাচ নয়- বরং প্রমাণের মঞ্চ’কে সত্যিই ‘মিডল পাওয়ার’ থেকে উঠে শিরোপা দাবিদার হতে পারে।

আইএইচএস/