বিসিবি নির্বাচনে অনিয়ম
আজ এনএসসিতে অভিযোগ দায়ের করতে যাচ্ছেন তামিমরা
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গত নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে শুরু থেকেই নানা বিতর্ক ও প্রশ্ন উঠেছিল। নির্বাচনের আগে থেকেই স্বচ্ছতার অভাব, তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীবের অযাচিত হস্তক্ষেপ এবং বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের পক্ষে সরকারি মহলের একতরফা অবস্থানের অভিযোগ ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বিএনপি-পন্থী প্যানেলটি শুধু নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণেই নয়, বরং কাঠামোগত অনিয়মের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই সোচ্চার ছিল।
কাউন্সিলরশিপ নিয়ে বিতর্ক ও অনিয়ম
অভিযোগ রয়েছে, বিসিবির গঠনতন্ত্র ও এনএসসি’র (জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ) নিয়ম তোয়াক্কা না করে কাউন্সিলরশিপ প্রদানে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। বিশেষ করে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে গঠনতন্ত্র বহির্ভূতভাবে এনএসসি কর্তৃক গঠিত ৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে কাউন্সিলর মনোনীত করার বিষয়টি নির্বাচনকে বড় ধরনের বিতর্কের মুখে ঠেলে দেয়। অভিযোগ উঠেছে, তৎকালীন সরকার আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে বোর্ড প্রধান হিসেবে মনোনীত করার উদ্দেশ্যেই জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করে পছন্দের ব্যক্তিদের কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচন করেছে। এর ফলে তামিম ইকবালের প্যানেলভুক্ত সমর্থকরা কার্যত কাউন্সিলরশিপ থেকে বঞ্চিত হন।
ঢাকার ক্লাব ও পোস্টাল ভোট বিতর্ক
ঢাকার ক্লাবগুলোর ক্ষেত্রেও ব্যাপক অসংগতি দেখা গেছে। শুরুতে দুদকের আপত্তির মুখে ১৪টি ক্লাবের নির্বাচনে অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে তা তুলে নেওয়া হয়। এছাড়া নির্বাচনের দিন সশরীরে উপস্থিত হয়ে ভোট দেওয়া সত্ত্বেও অনেক প্রার্থীর ভোট 'পোস্টাল ভোট' হিসেবে দেখানো হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন বঞ্চিত প্রার্থীরা।
এনএসসিতে লিখিত অভিযোগ ও আইনি লড়াই
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবং বিএনপি সরকার গঠনের পর এখন সেই নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে বঞ্চিত অংশটি। আজ দুপুরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) পৃথক তিনটি ক্যাটাগরি (জেলা-বিভাগ, ঢাকার ক্লাব এবং প্রাক্তন ক্রিকেটার ও বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, তামিম ইকবাল, ফাহিম সিনহা, রফিকুল ইসলাম বাবু, সিরাজুদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর, রেদওয়ান বিন ফুয়াদ এবং সি-ক্যাটাগরি থেকে দেবব্রত পাল এনএসসির নতুন সভাপতি ও বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হকের কাছে আজ (রোববার) এই চিঠি হস্তান্তর করবেন। চিঠিতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গলদ, সাজানো নির্বাচন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে। এই লিখিত অভিযোগের পর বিসিবি'র বর্তমান কমিটির ভবিষ্যৎ এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কোন দিকে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
এআরবি/এমএমআর