দল ও নিজের অবস্থা যাচ্ছেতাই, তবু চিন্তিত নন মিরাজ
ওয়ানডেতে সময়টা মোটেও ভালো কাটছে না বাংলাদেশ দলের। শেষ ৬ সিরিজের ৪টিতেই হেরেছে টাইগাররা। এর মধ্যে ঠিকমতো ৫০ ওভার খেলতে না পারার পরিসংখ্যানটাও চোখ রাঙাচ্ছে। ফলে আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি অংশ নেওয়া নিয়েও শঙ্কা দেখা যাচ্ছে। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে দল যেমন ভুগছে, তিনি নিজেও ভুগছেন ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই। ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাকি আর এক বছর, অথচ আদৌ মিরাজ সেখানে অধিনায়কত্ব করবেন কিনা তা নিয়েও আছে অনিশ্চয়তা।
আগামীকাল শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। আজ (মঙ্গলবার) সিরিজের প্রথম ম্যাচের আগে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে আসেন টাইগার অধিনায়ক মিরাজ। সেখানে দল ও নিজের সাম্প্রতিক ব্যর্থতা নিয়ে একাধিক প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি।
২০২৪ সালের শেষে ওয়ানডে অধিনায়কত্ব পান মিরাজ। এক বছরের চুক্তিতে তাকে দায়িত্ব দিয়েছিল বিসিবি। এক বছর ইতিমধ্যে পার হওয়ায় নবায়নের কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা প্রশ্নে মিরাজ বলেন, ‘ওটা তো আমার একার ডিসিশন না, ক্রিকেট বোর্ডে যারা আছে তাদের ডিসিশন। আর তারা এখনো ওই ব্যাপারে আমার সাথে কোনো আলোচনা করেননি। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় যেহেতু এই সিরিজটা আমাদের জন্য খুবই ইম্পর্টেন্ট, এই সিরিজটা আর পরের হয়তো আলোচনা করা হবে বা হয়তো তাদের সাথে কথা বলা হবে।’
অধিনায়ক হিসেবে ১৩ ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মিরাজ। এই সময়ে ব্যাট হাতে ফিফটি মাত্র ৩টি, শেষ ১১ ম্যাচে ১টি। অধিনায়ক হওয়ায় একাদশে থাকা নিয়ে সংশয় না থাকলেও নিজের ফর্ম নিয়ে কতটা চিন্তায় আছেন? এমন প্রশ্নে তার উত্তর, ‘আমি চিন্তিত না, চিন্তার কিছু নেই।
লাস্ট যে সিরিজগুলো আমরা খেলেছি ওয়ার্ল্ড কাপের পরে, কয়টা? প্রায় ১৫টা (আসলে ২৩টা) ওডিআই এর মতো খেলেছি হয়তো। অনেক গ্যাপে গ্যাপে খেলেছি। আমার কাছে মনে হয় যে, সবার আশা আমি অনেক ম্যাচ জিতাবো। মানুষের সবার আশা হয়তো পূরণ হচ্ছে না, অ্যাভারেজ হচ্ছে। কিন্তু অবশ্যই চেষ্টা করব, দলের জন্য ম্যাচ জেতাতে।’
অধিনায়ক হিসেবে পারফর্ম না করলে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া কঠিন হয় অনেকের জন্য। মানসিকভাবে তারা ব্যাকফুটে চলে যান। তবে মিরাজ নিজেকে নিয়ে মোটেও চিন্তা করেন না, ‘আমি নিজেকে নিয়ে কখনোই চিন্তা করিনি। আর আমি সবসময় চেষ্টা করি টিমের প্রয়োজনে যতটা ভালো খেলা যায় এবং টিমকে কীভাবে জেতানো যায়। আমার কাছে অবশ্যই ফার্স্ট প্রায়োরিটি দল। দিনশেষে আমার পারফর্মেন্সও খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং আমি চেষ্টা করছি, আমার রোলটা ঠিকঠাক পালন করতে। কারণ ব্যাটিং-বোলিং দুইটাই আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমি যেই পজিশনে ব্যাটিং করি এবং যেই পজিশনে বোলিং করি, তা দলের জন্য অনেক হেল্পফুল। আমি মনে করি ওইখানে আমার পারফর্ম করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর দিন শেষে টিম রেজাল্ট করাটাও খুবই ইম্পর্টেন্ট অধিনায়ক হিসেবে। অবশ্যই আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করব পারফর্ম করতে এবং দলকে একটা ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে।’
এসকেডি/এমএমআর