দল নির্বাচনে ধারাবাহিকতা ও সততা খুব গুরুত্বপূর্ণ
হাবিবুল বাশার সুমন প্রধান নির্বাচক হচ্ছেন, এমন খবর প্রায় মাসখানেক ধরেই শোনা যাচ্ছিল। দিন-তারিখের হিসাব করলে তারও আগে থেকেই ক্রিকেটপাড়ায় জোর গুঞ্জন ছিল। কারণ, বর্তমান প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু মেয়াদ বাড়াতে অনিচ্ছুক ছিলেন। তাই প্রধান নির্বাচকের পদে পরিবর্তন ছিল অনেকটা অবশ্যম্ভাবী। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে উঠে আসছিল হাবিবুল বাশার সুমনের নাম।
এর মধ্যে অনেক সময় পেরিয়েছে। রোজার মাসেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্বাচক পদের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়। শেষ দিনে সেই পদের জন্য আবেদন করেন হাবিবুল বাশার।
শেষ পর্যন্ত সাক্ষাৎকার শেষে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক, সাবেক নির্বাচক ও বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান হাবিবুল বাশারকেই গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর স্থলাভিষিক্ত করে প্রধান নির্বাচক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
প্রধান নির্বাচক হওয়ার আগে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় দলের পারফরম্যান্স, টেকনিক্যাল ও ট্যাকটিক্যাল বিষয় নিয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন হাবিবুল বাশার। দায়িত্ব পাওয়ার পর ২৪ মার্চ সকালে নাস্তার টেবিলে বসেই মুঠোফোনে জাগো নিউজকে একান্ত সাক্ষাৎকার দেন তিনি।
জাগো নিউজ: কখন এবং কীভাবে জানলেন আপনি নতুন প্রধান নির্বাচক হচ্ছেন?
হাবিবুল বাশার: শুরুতে আলোচনা চলছিল, সেটা অনেকেই জানেন। আমাকে আগেই জানানো হয়েছিল। তবে আমি কিছুটা সময় নিয়েছি।
জাগো নিউজ: কেন সময় নিচ্ছিলেন? আপনি তো আগে দীর্ঘদিন নির্বাচক হিসেবে কাজ করেছেন।
হাবিবুল বাশার: আসলে মানসিক প্রস্তুতির বিষয় ছিল। আমি গেম ডেভেলপমেন্টে গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্বে ছিলাম, যেটা আমার খুব পছন্দের কাজ। সেখানে আমার অনেক পরিকল্পনা ছিল। সেই কাজ ছেড়ে আবার নির্বাচক কমিটিতে আসা, এটা ভেবে দেখার প্রয়োজন ছিল।
জাগো নিউজ: তাহলে গেম ডেভেলপমেন্ট ছেড়ে প্রধান নির্বাচক হলেন কেন?
হাবিবুল বাশার: জাতীয় দলের হয়ে কাজ করা সবসময়ই গর্বের। আমি খেলোয়াড় ছিলাম, অধিনায়ক ছিলাম, নির্বাচক হিসেবেও কাজ করেছি। শুধু প্রধান নির্বাচক হওয়াটা বাকি ছিল। যখন সুযোগ এলো, সেটা সানন্দে গ্রহণ করেছি।
জাগো নিউজ: প্রধান নির্বাচক হিসেবে কী নতুন কিছু করতে চান?
হাবিবুল বাশার: রাতারাতি বড় পরিবর্তন আনার চিন্তা নেই। নির্বাচনে ধারাবাহিকতা ও সততা খুব গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচকের সিদ্ধান্ত একজন ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ গড়ে বা নষ্ট করতে পারে। তাই দায়িত্বটা অনেক বড়।
জাগো নিউজ: আর কোন বিষয়ে নজর থাকবে?
হাবিবুল বাশার: এখন আমাদের ‘এ’ দল, একাডেমি, হাই পারফরম্যান্স ইউনিট সবই সক্রিয়। তাই জাতীয় দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের দিকেও নজর থাকবে। মোদ্দা কথা ন্যাশনাল টিমের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করার সুযোগটাও হবে।
জাগো নিউজ: নতুন নির্বাচক কমিটি নিয়ে আপনার মতামত কী?
হাবিবুল বাশার: ঘরোয়া ক্রিকেট সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা খুব জরুরি। শুধু পরিসংখ্যান নয়, মাঠে দেখে বিচার করা গুরুত্বপূর্ণ। আমার সঙ্গে যারা আছেন, তারা সক্রিয় ও অভিজ্ঞ। মাঠে গিয়ে নিয়মিত খেলা দেখলে প্রকৃত সামর্থ্যবান ক্রিকেটার নির্বাচন সম্ভব। পরিসংখ্যানতো আমি যোগাড় করতেই পারি। কিন্তু কোনো একটা ক্রিকেটারের প্রকৃত সামর্থ্য জানতে তার খেলা দেখার বিকল্প কিছুই নেই। আশা করছি ভালো সমন্বয় হবে।
জাগো নিউজ: কবে দায়িত্ব বুঝে নেবেন?
হাবিবুল বাশার: ১ এপ্রিল থেকে আমাদের যাত্রা শুরু।
জাগো নিউজ: তাহলে নিউজিল্যান্ড সিরিজের দলও আপনারাই দেবেন?
হাবিবুল বাশার: হ্যাঁ, আমরাই করব।
জাগো নিউজ: ঘরোয়া ক্রিকেট উন্নয়নে কোনো পরিকল্পনা আছে?
হাবিবুল বাশার: অবশ্যই। আগেও আমরা উইকেটের মান উন্নয়নের পরামর্শ দিয়েছি, যা কার্যকর হয়েছে। ভালো উইকেট পেলে ভালো খেলোয়াড় উঠে আসে। ভবিষ্যতেও এমন পরামর্শ দিতে চাই। সবমিলিয়ে, নির্বাচকরা যেন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জাতীয় দলের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে—সেটাই আমার লক্ষ্য।
এআরবি/আইএন