ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. খেলাধুলা

ঘরোয়া ক্রিকেটে বেতন ও ম্যাচ ফি বাড়ালো তামিমের বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ১০:১৪ পিএম, ০৮ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের বেতন ও ম্যাচ ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের বকেয়া থাকা নারী ঘরোয়া ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকও বাড়ানো হয়েছে। বুধবার নতুন বোর্ডের দ্বিতীয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে বিসিবির নতুন সভাপতি তামিম ইকবাল মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

দীর্ঘদিন ধরে চলা অপর্যাপ্ত পারিশ্রমিক কাঠামোর বিষয়টি মাথায় রেখেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তামিম। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের- পুরুষ ও নারী- নিয়ে আরও কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সত্যি বলতে, কিছু সংখ্যা দেখে আমি ব্যক্তিগতভাবে বেশ অবাক হয়েছি।’

তামিম জানান, সংশোধিত কাঠামো জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) আটটি দলকেই অন্তর্ভুক্ত করবে। চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটাররা তিনটি ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য বেতন বৃদ্ধি পাবেন। ক্যাটাগরি ‘এ’ ক্রিকেটাররা আগে মাসে ৩৫ হাজার টাকা পেতেন, এখন পাবেন ৬৫ হাজার টাকা। ক্যাটাগরি ‘বি’ ক্রিকেটারদের বেতন ৩০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। আর ক্যাটাগরি ‘সি’ ক্রিকেটারদের বেতন ২৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪০ হাজার টাকা।

আগের বেতন কাঠামোকে অপর্যাপ্ত বলে উল্লেখ করে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘গত তিন-চার বছরে প্রায় কোনো কিছুই বৃদ্ধি করা হয়নি। আমার কাছে এটা খুবই কম মনে হয়েছে। তারা প্রচুর পরিশ্রম করে, আর তাদের কারণেই আজ আমাদের এই ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেট কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে।’

Tamim

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ম্যাচ ফিও বাড়ানো হয়েছে। আগে প্রতি ম্যাচে ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকা দেওয়া হতো, এখন তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১ লাখ টাকা। নতুন পারিশ্রমিক কাঠামো ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। ফলে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর ক্রিকেটাররা সেই তারিখ থেকে সমন্বয় করে অর্থ পাবেন।

তামিম বলেন, ‘এখন তো এপ্রিল মাস। এ বছরের চার মাস পার হয়ে গেছে, কিন্তু তারা এখনো বেতন পায়নি- সম্ভবত চুক্তি সই না হওয়ার কারণে। তাই যখনই তারা অর্থ পাবে, তখন ১ জানুয়ারি থেকে হিসাব করে দেওয়া হবে।’

নারী ঘরোয়া ক্রিকেটের পারিশ্রমিক বৈষম্য নিয়েও বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তামিম জানান, একসময় নারী ক্রিকেটারদের প্রতি ম্যাচে মাত্র ১ হাজার টাকা দেওয়া হতো, পরে তা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হয়- যা তার মতে গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, ‘আপনাদের কি ধারণা আছে, আমাদের নারী ক্রিকেটাররা ঘরোয়া ক্রিকেটে কত ম্যাচ ফি পান? একসময় সেটা ছিল মাত্র ১ হাজার টাকা। আমার কাছে এটি সম্পূর্ণ অপ্রতুল মনে হয়েছে।’

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, নারী ক্রিকেটাররা টি-টোয়েন্টি ম্যাচে পাবেন ১০ হাজার টাকা, ওয়ানডে ম্যাচে ১৫ হাজার টাকা এবং লাল বলের ম্যাচে ২০ হাজার টাকা। এছাড়া ঘরোয়া চুক্তিভুক্ত নারী ক্রিকেটারদের মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন নারী ক্রিকেটার এই চুক্তির আওতায় আছেন।

তবে জাতীয় দলের চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারদের বেতনের সঙ্গে ব্যবধান বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তামিম। তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের চুক্তিতে সর্বনিম্ন ক্যাটাগরির বেতন ৬০ হাজার টাকা। তাই আমরা চাইলে আরও বাড়াতে পারতাম, কিন্তু সেই ব্যবধানটাও আমাদের বজায় রাখতে হয়েছে।’

এসকেডি/আইএইচএস/