ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. খেলাধুলা

ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে ক্রীড়া কূটনীতি বাড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

ক্রীড়া প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৯:৩৯ পিএম, ১১ এপ্রিল ২০২৬

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন ও যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস একটি প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়। ১৫ ওভারের ম্যাচে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের ৪ উইকেটে হারিয়েছে মার্কিন কূটনীতিকরা। ম্যাচ শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। সেখানে তিনি ক্রীড়া কূটনীতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে ক্রিস্টেনসেন বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের 'ফ্রিডম ২৫০' উদযাপনের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয় এবং বাংলাদেশে প্রথমবার সরাসরি ক্রিকেট ম্যাচ খেলতে পেরে তিনি আনন্দিত।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমরা মাত্রই একটি দারুণ ক্রিকেট ম্যাচ শেষ করলাম। এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আমাদের ‘ফ্রিডম ২৫০’ উদযাপনের অংশ। ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের জন্য এখানে এসে জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলা এবং স্পোর্টস জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের বন্ধুদের সঙ্গে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারা আমাদের জন্য বিশেষ সৌভাগ্যের। সবচেয়ে বড় কথা, প্রথম বৈশাখী ক্রিকেট ম্যাচে আমরা জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেট ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা হয়তো ভাবছেন, যুক্তরাষ্ট্র কেন ক্রিকেট খেলতে এসেছে। আমরা তো মূলত বেসবল আর আমেরিকান ফুটবলের দেশ—সেটাও কিন্তু আসল ফুটবল, পা দিয়ে খেলা নয়। তবে ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস অনেক পুরোনো। আমাদের দেশের প্রথম কূটনীতিক বেনজামিন ফ্র্যাঙ্কলিন আমেরিকান উপনিবেশে ক্রিকেট পরিচয় করিয়ে দেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন বিপ্লবী যুদ্ধের সময় ‘উইকেট’ নামে ক্রিকেটের মতো একটি খেলা খেলেছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট আমাদের ঐতিহ্যেরও একটি অংশ। খেলাধুলা এমন একটি বিষয় যা মানুষকে একত্রিত করে। বাংলাদেশে জনপ্রিয় এই খেলাটির মাধ্যমে আমরা আমাদের বাংলাদেশি বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছি, আনন্দ ভাগাভাগি করছি এবং মানুষে মানুষে যে বন্ধন দুই দেশের সম্পর্ককে শক্তিশালী করে সেটি আরও দৃঢ় করছি।’

এ সময় ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশে নতুন একটি ক্রীড়া উদ্যোগের ঘোষণাও দেন। তিনি বলেন, ‘আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমরা ‘নেক্সট উইকেট’ কর্মসূচির পৃষ্ঠপোষকতা করছি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্পোর্টস ডিপ্লোমেসি প্রোগ্রাম, যা বাংলাদেশে ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হবে। এ বছরের শেষ দিকে ১০ জন বাংলাদেশি ক্রিকেট পেশাজীবী যুক্তরাষ্ট্রে যাবে এবং আগামী বছর আমরা ১০ জন আমেরিকান ক্রিকেট পেশাজীবীকে বাংলাদেশে নিয়ে আসব। এর মাধ্যমে ক্রিকেটের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তাও বাড়বে। আমরা ইতোমধ্যে ভালো ক্রিকেট খেলোয়াড়ও তৈরি করছি এবং আশা করছি আগামী বছর আবার এখানে ফিরে এসে আমাদের চ্যাম্পিয়নশিপ রক্ষা করতে পারব।’

প্রথমবার সরাসরি ক্রিকেট ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতার কথাও জানান তিনি, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং স্পোর্টস জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনকে আবারও ধন্যবাদ জানাই। এটি আমার জীবনের প্রথম সরাসরি ক্রিকেট ম্যাচ ছিল এবং এর চেয়ে ভালো অভিজ্ঞতা আর হতে পারতো না।’

এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশে ক্রীড়া কূটনীতির ধারণা খুব বেশি চর্চিত না হলেও যুক্তরাষ্ট্র এ ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি ‘নেক্সট উইকেট’ কর্মসূচি সেই দিকেই একটি বড় পদক্ষেপ। বাংলাদেশে ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে এটিই আমাদের প্রথম এ ধরনের উদ্যোগ। আমরা আশা করছি এটি সফল হবে এবং ভবিষ্যতে আরও অনেক সুযোগ তৈরি করবে।’

ভবিষ্যতের ক্রীড়া আয়োজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ বছর যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করা হবে এবং ২০২৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রেই অলিম্পিকে আবার ক্রিকেট ফিরছে। তাই দুই দেশের মধ্যে ক্রীড়াকে কেন্দ্র করে সম্পর্ক জোরদারের অনেক সুযোগ রয়েছে।’

এসকেডি/এমএমআর